ছবির ক্যাপশন:
বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বিচারপতি এ কে এম আব্দুল হাকিম বলেছেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ সবার উপরে। মুক্তিযোদ্ধারা দেশ স্বাধীন করে একটি ভূখণ্ড দিয়েছেন জাতিকে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নামে দেশকে বিভাজনের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল।’ তিনি বলেন, ‘দেশ থাকলে চেতনা। দেশ না থাকলে আমি আপনি চেতনা দিয়ে কী করব? সাংবাদিকদের উচিত তাদের অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হওয়া। আইন কখনোই সেই ব্যক্তিদের সহায়তা করে না যারা নিজেদের অধিকার সম্পর্কে অজ্ঞ।’ বিচারপতি হাকিম আরও বলেন, ‘প্রেস কাউন্সিল মর্যাদাশীল ব্যক্তিদের বিচার করে, শাস্তি দিতে পারে না; কেবল ভৎসর্না করতে পারে।’ গতকাল শনিবার সকালে ঝিনাইদহ সার্কিট হাউজে আয়োজিত ‘গণমাধ্যমে অপসাংবাদিকতা ও ইহার প্রতিরোধ এবং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন’ বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল আউয়ালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের সচিব মো. আব্দুস সবুর, পুলিশ সুপার মনজুর মোরশেদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম, জেলা তথ্য অফিসার আব্দুর রউফ, প্রেসক্লাব সভাপতি আসিফ কাজল (দৈনিক ইনকিলাব), সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম লিটন (দৈনিক মানবজমিন), বিমল কুমার সাহা (দৈনিক ইত্তেফাক), নিজাম জোয়ারদার বাবলু (এটিএন বাংলা), মিজানুর রহমান (দৈনিক যুগান্তর) এবং রিপোর্টার ইউনিটের সভাপতি এম এ কবির।
বিচারপতি হাকিম আরোও বলেন, ‘পেশাজীবীদের কোনো দলীয় বিভেদ থাকা উচিত নয়। সাংবাদিকদের বিভক্তি জাতিকে বিভ্রান্ত করছে। তাই ঐক্যবদ্ধ হওয়া প্রয়োজন। রাজনীতি অবশ্যই ভালো জিনিস, তবে সাংবাদিকতা ও রাজনীতিকে এক করে ফেলা ঠিক হয়নি।’ তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে ১ হাজার ৬০০-এর বেশি আইন রয়েছে, তারপরও আমরা নতুন আইন তৈরি করছি। কিন্তু আমরা নিজেই আইন মানি না। এখানে আইনের কোনো দোষ নেই।’
সচিব আব্দুস সবুর বলেন, ‘দেশের সাংবাদিকরা একতাবদ্ধ নন। দলাদলি ও রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। ব্যক্তি স্বার্থ বড় হয়ে উঠেছে, ফলে তারা এক ছাতার নিচে আসতে পারছেন না।’
