চুয়াডাঙ্গার গড়াইটুপিতে এবারও হচ্ছে না ঐতিহ্যবাহী অমরাবতী মেলা

৯ বছরে ১০ কোটি টাকার রাজস্ব হারালো সরকার

আপলোড তারিখঃ 2025-06-21 ইং
চুয়াডাঙ্গার গড়াইটুপিতে এবারও হচ্ছে না ঐতিহ্যবাহী অমরাবতী মেলা ছবির ক্যাপশন:

একটা সময় ছিল-আষাঢ় মাসের ৭ তারিখ মানেই চুয়াডাঙ্গা ও আশপাশের জেলাগুলোর মানুষের মনে বাঁশির সুর, টুংটাং আনন্দ আর উৎসবের আমেজ। রাস্তায় রাস্তায় মাইকিং, বাতাসে মিষ্টির ঘ্রাণ, বাড়িতে বাড়িতে আত্মীয়-স্বজনদের ভিড়-সব মিলিয়ে মাসব্যাপী এক মহোৎসবের রূপ নিতো চুয়াডাঙ্গার গড়াইটুপি অমরাবতী বা মেটেরি মেলা। কিন্তু বিষয়টি এখন শুধুই প্রবীণদের স্মৃতির গল্প। টানা ৯ বছর ধরে বন্ধ হয়ে আছে শতবর্ষের এই মেলার সব আয়োজন।


আজ ৭ আষাঢ়, যেদিনটিতে প্রতিবছর মেলার সূচনা হতো, কিন্তু এবছরও কোনো আনুষ্ঠানিকতা নেই। সবশেষ ২০১৫ সালে পূর্ণাঙ্গভাবে মেলাটি আয়োজন করা হয়েছিল। তথ্য অনুসারে, ২০১৫ সালে সরকার মেলার জমি ইজারা দিয়ে প্রায় ৫০ লাখ টাকা রাজস্ব পায়। পরবর্তীতে বিচারপতির স্বাক্ষর জাল, অশ্লীল নৃত্য ও জুয়া আসরের অভিযোগে প্রশাসন মেলা বন্ধ রাখে। এরপর আসে করোনা মহামারি। একে একে কেটে গেছে ৯টি বছর। অনুমান করা হচ্ছে, এই সময়ের মধ্যে সরকার প্রায় ১০ কোটি টাকার রাজস্ব হারিয়েছে।


মেলার সঙ্গে জড়িয়ে আছে জেলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। একসময় দেশের অন্তত ৫৫টি জেলা থেকে হাজারো মানুষ মিলিত হতো গড়াইটুপির বটবৃক্ষতলায়, অমরাবতী ময়দানে। এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ীরাও মেলার আয়োজনে প্রত্যক্ষভাবে লাভবান হতো। খেজুরতলা গ্রামের বাসিন্দা রাসেল মিয়া বলেন, ‘জন্মের পর থেকেই ৭ আষাঢ় মেটেরি মেলা দেখে এসেছি। এখন আর সেই দিন নেই।’ চা-দোকানি শরীফ বলেন, ‘মেলার সময় খাড়াগোদা বাজার ছিল জমজমাট। এখন আষাঢ় এলে আর কোনো আমেজ নেই।’


মাজারের খাদেম মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘প্রায় ৩০ বছর ধরে মাজার দেখছি। আগে মিষ্টির দোকানগুলোতে মৌমাছির ভনভন শব্দ ছিল। এখন মেলা বন্ধ, মৌমাছিরাও চলে গেছে।’ তিতুদহ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আকতার হোসেন বলেন, ‘সরকার যদি আবার ইজারা দেয়, তবে আয়োজন সম্ভব। কিন্তু এখন পর্যন্ত কেউ কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না।’


গড়াইটুপি অমরাবতী মেলার পেছনে রয়েছে এক ঐতিহাসিক কাহিনী। কথিত আছে, হজরত মালিক উল গাউস (র.) নামের এক সাধক বাংলা সনের ৭ আষাঢ় গড়াইটুপির নির্জন মাঠে ইন্তেকাল করেন। তিনি ইসলাম প্রচার করতেন এবং অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন। লোককথা অনুসারে, রাজা গৌরগোবিন্দ তাঁর জনপ্রিয়তায় ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁকে বিতাড়িত করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু দরবেশের অলৌকিক ক্ষমতায় সে প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। রাজার কন্যা অমরাবতী ইসলাম গ্রহণ করেন। রাজার প্রাসাদ মাটির নিচে বিলীন হয়ে যায়, যার ধ্বংসাবশেষ এখনও কালুপোল গ্রামে রয়েছে। এই ঘটনার স্মৃতিতে হজরত মালিক উল গাউসের মাজারকে কেন্দ্র করে শত বছরের বেশি সময় ধরে মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছিল। যদিও কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারে না মেলার সূচনা কত বছর আগে।


২০১৬ সালে একবার মেলাটি আংশিকভাবে বসেছিল, তবে আনুষ্ঠানিক কোনো আয়োজন হয়নি। পরবর্তীতে প্রশাসনের অভিযানে মেলাটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘এবছরও সরকারিভাবে মেলা আয়োজনের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।’ অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী এই মেলা আবার কখন ফিরবে, সে প্রশ্ন আজ গড়াইটুপি তথা গোটা চুয়াডাঙ্গার মানুষের মুখে মুখে। এলাকাবাসীর একটাই দাবি-অশ্লীলতা ও অনিয়ম বন্ধ করে, মেলাটিকে যেনো পূর্বের ঐতিহ্য ও রূপে ফিরিয়ে আনা হয়।


সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)