ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গায় এবারের ঈদুল আজহার কোরবানি সম্পন্ন হয়েছে সুস্থ, সুন্দর ও নির্ঝঞ্ঝাটভাবে। পর্যাপ্ত পশু মজুদ থাকায় কোথাও কোনো ঘাটতির চিত্র দেখা যায়নি। জেলাজুড়ে ৮৪ হাজারের বেশি পশু কোরবানি হয়েছে, যা ঈদের পশু সরবরাহ ব্যবস্থাকে অনেকটাই সাফল্যের দিকে এগিয়ে নিয়েছে। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সরকারি লবণ বিতরণের ফলে চামড়া সংরক্ষণেও ছিল বিশেষ নজর। ঈদের পরে পশুর চামড়া সংরক্ষণে জেলার বিভিন্ন মাদরাসা ও এতিমখানায় বিনামূল্যে ৩৬.৩ মে.টন লবণ সরবরাহ করা হয়েছে। গতকাল রোববার সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ জেলায় গরু উৎপাদন বেশি হয়। এখানে খামারিরা এবং ব্যক্তিগত উদ্যোগে যারা পশু পালন করেন, তারা অত্যন্ত যত্নের সাথে কাজটি করেন। তাই পশুর কোনো ঘাটতি হয়নি এবং খুব সুন্দরভাবে কোরবানি সম্পন্ন হয়েছে। সফল ঈদ কোরবানির জন্য আমি জেলাবাসীকে ধন্যবাদ জানাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘চামড়া সংরক্ষণে সরকার চুয়াডাঙ্গায় বিনামূল্যে ৮০ মেট্রিক টন লবণ বরাদ্দ দেয়। প্রথমে জেলার শতাধিক মাদরাসা ও এতিমখানার সাথে যোগাযোগ করে চামড়া সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয়া হয়। শেষপর্যন্ত ১৯টি প্রতিষ্ঠান রাজি হয় এবং তাদের চাহিদা অনুযায়ী গরুপ্রতি ৮ কেজি ও ছাগলপ্রতি ৪ কেজি করে লবণ সরবরাহ করা হয়।’
জেলা প্রশাসক জানান, ওই ১৯টি প্রতিষ্ঠান ৯১৪টি গরু ও ৫৭০টি ছাগলের চামড়া সংগ্রহ করেছে। ফলে কিছু লবণ অব্যবহৃত রয়েছে, যেটি প্রয়োজনে পুনরায় ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। চামড়ার মূল্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এবার আশানুরূপ দাম পাওয়া যাবে বলে আমরা প্রত্যাশা করছি।’
সভায় জানানো হয়, জেলায় মোট ১ লাখ ২৪ হাজার পশুর মজুদ ছিল। ঈদে কোরবানি হয়েছে ৮৪ হাজার গরু-ছাগল। বড় খামারিদের অনেক গরু ঢাকা থেকে ফেরত আসায় কিছু গরুতে ক্ষুরা রোগ দেখা দিয়েছে। দীর্ঘ যাত্রার কারণে এসব সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে বলেও জানানো হয়। খামারিদের মোবাইল ফোনে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মিজানুর রহমানের সঞ্চানায় অনুষ্ঠিত সভায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সাংবাদিক নেতারা অংশ নেন।
চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন ডা. হাদী জিয়া উদ্দিন আহমেদ সভায় জানান, ‘করোনায় আক্রান্ত রোগী না থাকায় ল্যাব বন্ধ রয়েছে এবং কিটের মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে।’ তিনি ডেঙ্গু ও করোনার বিষয়ে সতর্ক করে বলেন, ‘সকলকে জনসমাগম এড়িয়ে চলতে হবে। বিশেষ করে যাদের ঠাণ্ডাজনিত সমস্যা রয়েছে তাদের মাস্ক ব্যবহার জরুরি। দিনে ঘুমানোর সময়ও মশারি ব্যবহারে গুরুত্ব দিতে হবে।’
সভায় পৌর এলাকার ড্রেন পরিষ্কার ও মশা নিয়ন্ত্রণে কার্যক্রম নিয়েও আলোচনা হয়। পৌর প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (স্থানীয় সরকার) শারমিন আক্তার জানান, ‘রোববার থেকে পৌর এলাকায় ড্রেন পরিষ্কার শুরু হয়েছে। ১৫ দিনের এ কর্মসূচিকে আরও দীর্ঘায়িত করে মশার স্প্রে ছিটানোর কাজ করা হবে।’ তিনি পৌরবাসীকে ড্রেনে প্লাস্টিক, পলিথিন, ডাবের খোসা ইত্যাদি না ফেলতে অনুরোধ জানান। মাছের আড়তসহ কিছু ড্রেনে ময়লা ফেলার প্রবণতা বন্ধে নেট ব্যবহার করার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এম. সাইফুল্লাহ, আলমডাঙ্গা ইউএনও শেখ মেহেদী ইসলাম, দামুড়হুদা ইউএনও তিথি মিত্র, জীবননগর ইউএনও আল-আমীন, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাব সভাপতি রাজীব হাসান কচি, সেক্রেটারি বিপুল আশরাফসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।
