ছবির ক্যাপশন:
ঈদুল আজহার ছুটিতে চুয়াডাঙ্গা ও ঝিনাইদহে একের পর এক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৭ জন। আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক। ঈদের আগের দিন শুক্রবার থেকে ঈদের তৃতীয় দিন সোমবার পর্যন্ত দুই জেলার বিভিন্ন সড়কে এসব দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন- মাদরাসা ছাত্র, কলেজ শিক্ষার্থী, শিশু ও যুবক। গুরুতর আহত বেশ কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জেলা হাসপাতাল থেকে মেডিকেল কলেজ হাপসাতালে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া কাটা-ছেঁড়া ও হালকা জখম নিয়ে অনেকেই চিকিৎসা নিয়েছেন চুয়াডাঙ্গা ও ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং স্থানীয় বেসরকারি ক্লিনিকগুলোতে।
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার গহেরপুর-সড়াবাড়িয়া সড়কে গত সোমবার (ঈদের তৃতীয় দিন) বিকেল পাঁচটার দিকে ইটভাটার সামনে ট্রাক্টরের ধাক্কায় নিহত হন আবু হুজাইফা শুভ (২৩)। তিনি যশোর মনিরামপুরের মাসনা মাদরাসার সরেবিকা শ্রেণির ছাত্র এবং দামুড়হুদা উপজেলার কুড়ুলগাছি ইউনিয়নের পশ্চিমপাড়া গ্রামের আরিফুজ্জামানের ছেলে। ওইদিন বিকেলে মামাতো ভাই ও বন্ধু মোহাম্মদ সামীর সঙ্গে সরোজগঞ্জ আক্কাস লেকভিউ পার্কে ঘুরতে যাওয়ার পথে মোটরসাইকেলে দুর্ঘটনার শিকার হন হুজাইফা। ট্রাক্টরের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনি রাস্তায় ছিটকে পড়েন এবং ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হন। গুরুতর আহত অবস্থায় ফুফাতো ভাই ও মোটরসাইকেল চালক সোলায়মানকে (২০) চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে হুজাইফাকে হাসপাতালে নেয়া মাত্রই চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে, ঈদের তৃতীয় দিন সোমবার বেলা দুইটার দিকে চুয়াডাঙ্গার ফার্স্ট ক্যাপিটাল ইউনিভার্সিটি সংলগ্ন পাঁচ ফোকট নামক স্থানে চলন্ত ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে গুরুতর জখম হন মোহাম্মদ হুসাইন (২২)। তিনি দামুড়হুদা উপজেলার কাদিপুর গ্রামের মকবুল হোসেনের ছেলে। বগুড়া থেকে আসা এক কিশোর যাত্রী তৌসিফ হাসান জানান, হুসাইন ট্রেনের ছাদে দাঁড়িয়ে ধূমপান করছিলেন। এসময় একটি তার সামনে চলে আসলে মাথা নিচু করতে না পারায় সেটিতে আঘাত পেয়ে তিনি ট্রেনের ছাদে আছড়ে পড়ে, পরে নিচে ছিটকে যান।
চুয়াডাঙ্গা ফায়ার সার্ভিস ও রেলওয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। গুরুতর অবস্থায় চিকিৎসাধীন হুসাইনকে রাজশাহী মেডিকেলে পাঠানো হলে সন্ধ্যা সাতটার দিকে পথেই তার মৃত্যু হয়। চুয়াডাঙ্গা রেলওয়ে ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই জগদীশ চন্দ্র বসু এবং সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. ইসরাত জেরিন জেসি চুয়াডাঙ্গায় দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের বিষয়ে আলাদাভাবে তথ্য নিশ্চিত করেন।
অন্যদিকে, ঝিনাইদহে ঈদের আগের দিন শুক্রবার সকালে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান তিনজন। শহরের পাগলা কানাই এলাকার আদনান (১০) জাম খেতে গিয়ে পবহাটি কলাহাট এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় একটি মাটিবাহী লাটাহাম্বার গাড়ির ধাক্কায় গুরুতর আহত হন। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর তার মৃত্যু হয়। একইদিন সকালে কোটচাঁদপুর উপজেলার মুরুটিয়া গ্রাম থেকে মোটরসাইকেলে শহরে যাচ্ছিলেন কলেজছাত্র কাজল (১৮)। বহরমপুর গ্রামের মাঠ এলাকায় মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে গাছের সঙ্গে ধাক্কা খেলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। চাচাতো ভাই অভি আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অন্যদিকে, হরিণাকুণ্ডু উপজেলার হিজলী গ্রামে ওষুধ কিনতে গিয়ে ট্রাকচাপায় নিহত হন জিসান।
ঈদের দিন শনিবার রাত সাড়ে দশটার দিকে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার যাদবপুর গ্রামে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারায় দুই কিশোর-সাগর (১৫) ও তামিম (১৬)। উভয়েই হরিণাকুণ্ডু উপজেলার পোড়াহাটি গ্রামের বাসিন্দা। দ্রুতগতির দুটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই সাগরের মৃত্যু হয় এবং হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যায় তামিম। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন সিয়াম, রাজিব, আকাশ, মারুফ ও রিঙ্কু।
ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইমরান জাকারিয়া বলেন, ‘দুর্ঘটনাগুলো খুবই মর্মান্তিক। সংশ্লিষ্ট থানাগুলো দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়েছে। নিহতদের পরিবারকে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।’ সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত অন্তত ১০ জনকে রাজশাহী, খুলনা ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া অন্তত ৩০-৩৫ জন হালকা জখম, হাত-পা কাটা বা মাথায় ব্যথা নিয়ে ভর্তি হয়েছেন চুয়াডাঙ্গা ও ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল, কোটচাঁদপুর, হরিণাকুণ্ডু, শৈলকুপা এবং দামুড়হুদার বিভিন্ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বেসরকারি ক্লিনিকে। অনেকেই প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।
