ছবির ক্যাপশন:
‘শিশু থেকে প্রবীণ, পুষ্টিকর খাবার সর্বজনীন’-এ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে গত ২৮ মে চুয়াডাঙ্গায় শুরু হওয়া জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ-২০২৫ এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টায় জেলা সিভিল সার্জনের সম্মেলনকক্ষে এ সমপনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। জেলা সিভিল সার্জন ডা. হাদী জিয়া উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে এই সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে অতিথি থেকে বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মিজানুর রহমান, সবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর সিদ্দিকুর রহমান, জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক দীপক কুমার শাহা ও সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. বিদ্যুৎ কুমার বিশ্বাস।
সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সমাজ উন্নয়ন একে অপরের পরিপূরক। শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্বাস্থ্যসচেতনতা গড়ে তোলার জন্য এমন আয়োজন অত্যন্ত প্রশংসনীয়। আমি দীর্ঘদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে থেকে দেখেছি, একটি সুস্থ দেহ ও মন ছাড়া প্রকৃত শিক্ষা অর্জন সম্ভব নয়। স্বাস্থ্যখাতের সঙ্গে শিক্ষা খাতের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে, আর এই সম্পর্ককে শক্তিশালী করতে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে অনুকরণীয়। তরুণদের মধ্যে নেতৃত্বের গুণাবলী বিকাশে এমন অনুষ্ঠান ভূমিকা রাখে।’ বক্তব্যে তিনি জাঙ্কফুড পরিহার করে সকলকে স্বাস্থ্যসম্মত খাবার গ্রহণে বাচ্চাদের উৎসাহী করতে অভিভাবকদের প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।’
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মিজানুর রহমান বলেন, ‘পুষ্টি সপ্তাহের এই সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান আমাদের স্বাস্থ্য খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। জেলার স্বাস্থ্য বিভাগ নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছে, তা আজকের এই আয়োজনেই প্রতিফলিত হয়েছে। আমাদের তরুণ প্রজন্মকে স্বাস্থ্য সচেতন ও সেবামুখী করে গড়ে তুলতে এমন আয়োজন অত্যন্ত কার্যকর। সরকার স্বাস্থ্যখাতে যেসব যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে, তা বাস্তবায়নে মাঠ পর্যায়ের সকলের অংশগ্রহণ জরুরি। আমি বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাই সিভিল সার্জন দপ্তরকে-তাদের উদ্যোগ, কর্মদক্ষতা ও নেতৃত্বে এই সাফল্য সম্ভব হয়েছে। আমাদের অঙ্গীকার হোক, সকলে মিলে আমরা একটি সুস্থ, সচেতন এবং স্বাস্থ্যবান জাতি যেন গড়ে তুলতে পারি।’
সভাপতির বক্তব্য সিভিল সার্জন ডা. হাদী জিয়া উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আজকের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হচ্ছে। আমাদের উদ্দেশ্য ছিল একটি সচেতন, স্বাস্থ্যবান ও সক্রিয় সমাজ গড়ে তোলা। আজকের অনুষ্ঠান সেই প্রচেষ্টারই একটি মাইলফলক। আমি অত্যন্ত গর্বিত যে আমাদের স্বাস্থ্য বিভাগের সদস্যরা, শিক্ষার্থীরা এবং সংশ্লিষ্ট সকলে মিলিতভাবে এই উদ্যোগ সফল করে তুলেছেন। স্বাস্থ্যসেবা শুধু চিকিৎসা নয়, এটি একটি সচেতনতা, একটি জীবনধারা। এই উপলব্ধি ছড়িয়ে দিতে আমাদের প্রতিটি উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ। যারা পুরস্কার পেয়েছেন তারা যেমন অনুপ্রাণিত হবেন, তেমনি যারা অংশগ্রহণ করেছেন তারাও আগামীতে আরও ভালো কিছু করার প্রত্যয়ে এগিয়ে যাবেন।’
এর আগে অতিথিরা তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনুষ্ঠিত চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, ষষ্ঠ থেকে আষ্টম শ্রেণি চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত কুইজ প্রতিযোগিতা, নবম থেকে দশম শ্রেণি কুইজ প্রতিযোগিতা, আষ্টম থেকে দশম (বালক) চুয়াডাঙ্গা কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজ কুইজ প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। অনুষ্ঠানে বিজয়ী শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
