প্রবাসী স্বামীর অনুপস্থিতিতে সন্তান জন্ম গৃহবধূর

পরিচয় অস্বীকার করে ফার্মেসি মালিকের সংবাদ সম্মেলন

আপলোড তারিখঃ 2025-06-02 ইং
প্রবাসী স্বামীর অনুপস্থিতিতে সন্তান জন্ম গৃহবধূর ছবির ক্যাপশন:

আলমডাঙ্গা উপজেলার হারদী গ্রামে প্রবাসে থাকা স্বামীর অনুপস্থিতিতে সন্তান জন্ম দিয়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছেন এক গৃহবধূ। তিনি হারদী বাগানপাড়ার বাসিন্দা শাহ আলমের মেয়ে শাহনাজ খাতুন। জানা গেছে, প্রায় তিন বছর আগে শাহনাজের বিয়ে হয় একই গ্রামের মৃত আইজাল হোসেনের ছেলে প্রবাসী কালু মিয়ার সঙ্গে। বিয়ের কিছুদিন পরই কালু মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান এবং এখনো সেখানেই আছেন। এই দীর্ঘ অনুপস্থিতির মধ্যেই গত বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে শাহনাজ একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন।


সন্তান প্রসবের পর শাহনাজ দাবি করেন, নবজাতকের পিতা আলমডাঙ্গা পশুহাট এলাকার স্বর্ণা মেডিসিন কর্নারের মালিক ও কালিদাসপুর গ্রামের আব্দুল কাদের সবুজ। তার অভিযোগ, ‘কালু বিদেশ যাওয়ার এক বছর পর সবুজের সঙ্গে আমার পরিচয় হয়। ধীরে ধীরে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হয় এবং সে আমাকে বিয়ে করে। আমি গর্ভবতী হওয়ার পরও সবুজ বিষয়টি জানত। কিন্তু এখন সে ফোন ধরছে না, পিতৃত্ব অস্বীকার করছে।’ শাহনাজ আরও বলেন, ‘সবুজ আমাকে তার ওষুধের দোকানে নিয়ে গিয়ে সাদা কাগজে স্বাক্ষর করিয়ে বিয়ে করে। সে জানে এই সন্তানের পিতা সে নিজেই। এখন সে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।’


বর্তমানে হাসপাতালের বিছানায় সন্তানসহ একা দিন কাটাচ্ছেন শাহনাজ। তার পাশে নেই কোনো আত্মীয়-স্বজন। অন্য রোগীদের খাবার ও কাপড় দিয়েই চলছে তাদের দিন। সন্তানসহ বাবার বাড়িতে ফিরলেও এলাকাবাসীর কটূক্তি আর চাপের মুখে পড়েন তিনি। পিতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাকে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করা হয়।


স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শাহনাজ অতীতে দুইবার বিবাহিত ছিলেন এবং আগের পক্ষের একটি ৮ বছর বয়সী কন্যাসন্তান রয়েছে। সে সন্তানসহ প্রবাসী কালুর সঙ্গে তার বিয়ে হয়। কালুরও আগের পক্ষের একটি ছেলে রয়েছে।


এদিকে অভিযুক্ত আব্দুল কাদের সবুজ গত শনিবার সন্ধ্যায় আলমডাঙ্গা উপজেলা প্রেসক্লাবের অস্থায়ী কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে বলেন, ‘আমি একজন পল্লী চিকিৎসক। ৭ বছর ধরে ব্যবসা করছি সুনামের সঙ্গে। শাহনাজ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমাকে ফাঁসাতে চাইছে। আমি তাকে চিনি না, কোনো বিয়ের প্রমাণ নেই। তার সব অভিযোগ ভিত্তিহীন ও আমার সামাজিক অবস্থান ক্ষতিগ্রস্ত করার ষড়যন্ত্র।’


এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাসুদুর রহমান বলেন, ‘একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তের স্বার্থে সবুজকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে।’ এ ঘটনার পর হারদীসহ পুরো আলমডাঙ্গা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)