ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বলেছেন, ‘বিগত কয়েক বছর ধরে দেশে কোরবানির পশুর চামড়ার মূল্য একেবারেই কমে গেছে। মূল্য না থাকায় অনেকেই ব্যবসায়ীদের অনুরোধ করেন চামড়া নিয়ে যাওয়ার জন্য। অথচ বাজারমূল্য অনুযায়ী এসব চামড়ার দাম অনেক বেশি হওয়ার কথা। আজ থেকে ৭-৮ বছর আগেও গরুর চামড়া প্রকারভেদে ১২০০ থেকে প্রায় ২০০০ টাকা দরে বিক্রি হতো। কোরবানির সময় একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ চামড়া আসায় দাম কিছুটা কমে যায়, আবার সঠিকভাবে সংরক্ষণের অভাবে অনেকেই বাধ্য হয়ে কম দামে বিক্রি করেন।’
গতকাল রোববার বেলা তিনটায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা-২০২৫ উপলক্ষে কোরবানিকৃত পশুর চামড়া লবণ দিয়ে সংরক্ষণ ও লবণ সরবরাহ নিশ্চিতকরণ সংক্রান্ত এক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন জেলা প্রশাসক। তিনি আরও বলেন, ‘একসময় ব্যবসায়ীরা কোনো গ্রামে গেলে অন্যরা ইঙ্গিত দিয়ে বলতেন, উনি চামড়া নেবেন, অন্য কাউকে দেবেন না। এখন সেই পরিস্থিতি নেই। এখন যে কেউ চামড়া সংরক্ষণ করতে পারে। যদি কেউ কাউকে বাধা দেয় বা ইশারার মাধ্যমে চামড়া সংগ্রহে বাধা দেয়, তাহলে আমাদের জানালে আমরা ব্যবস্থা নেব।’
জেলা প্রশাসক বলেন, ‘চামড়া সংরক্ষণের মূল উপাদান হলো লবণ। বর্তমান সরকার বিনামূল্যে লবণ সরবরাহের উদ্যোগ নিয়েছে। বিশেষ করে মাদরাসা, লিল্লাহ বোর্ডিং ও এতিমখানাগুলো যেহেতু অধিকাংশ চামড়া সংগ্রহ করে, তাদের সংরক্ষণের সুবিধার্থে গরুর চামড়ার জন্য ৮ কেজি এবং ছাগলের চামড়ার জন্য ৫ কেজি হারে লবণ বিনামূল্যে দেওয়া হবে। সংরক্ষণে আগ্রহী প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি আমাদের জানালে সেই অনুযায়ী লবণের বরাদ্দ দেওয়া হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘অনেকে আশঙ্কা করেন চামড়া সংরক্ষণ করেও যদি দাম না পান, তবে লোকসান হবে। কিন্তু সংরক্ষণ না করলে তো বাজারই তৈরি হবে না। বাজার তৈরির জন্য সংরক্ষণ জরুরি। সংরক্ষণ ছাড়া চামড়ার দর কষাকষির সুযোগও থাকে না।’
সভায় সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মিজানুর রহমান। এসময় উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার আশফাকুর রহমান, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সাহাবুদ্দীন, জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের কৃত্রিম প্রজনন কর্মকর্তা ডা. আ. হ. ম. শামিমুজ্জামান, ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসান, সাংবাদিক মানিক আকবর, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক আসলাম হোসেনসহ জেলার বিভিন্ন মাদরাসা, লিল্লাহ বোর্ডিং, এতিমখানার পরিচালকবৃন্দ এবং চামড়া ব্যবসায়ীরা। সভায় বক্তারা চামড়ার ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে আগাম প্রস্তুতি গ্রহণ এবং সরকারের গৃহীত উদ্যোগ বাস্তবায়নে সক্রিয় সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
