ছবির ক্যাপশন:
স্ত্রী-সন্তানসহ ভরত থেকে দেশে ফিরেই দর্শনা ইমিগ্রেশনে আটক হয়েছেন ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ও সাবেক জিপি অ্যাড. বিকাশ কুমার ঘোষ। গতকাল শনিবার বিকেল পাঁচটার দিকে ভারত থেকে দেশে ফেরার সময় ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে আটক করে। পরে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে দর্শনা থানায় হস্তান্তর করা হয়। দর্শনা ইমিগ্রেশন পুলিশের এসআই রমজান আলী বলেন, ১৩ মে বিকাশ কুমার ঘোষ স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে ভারত যান। ১৭ দিন অবস্থান শেষে দেশে ফেরার সময় শনিবার ইমিগ্রেশনে কালো তালিকাভুক্ত থাকায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
জানা গেছে, বিকাশ কুমার ঘোষের বিরুদ্ধে ঝিনাইদহ থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। তিনি জামিনে থাকলেও ইমিগ্রেশনের কালো তালিকায় নাম থাকায় তাকে আটকে পড়তে হয়। মেয়ে অহনার (১৩) চিকিৎসার জন্য স্ত্রীসহ দর্শন ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে গত ১৩ মে ভারতে যান বিকাশ। চিকিৎসা কার্যক্রম শেষ করে গতকাল বিকেল সাড়ে চারটার তিকে দর্শনা ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে হয়ে দেশে প্রবেশের সময় তিনি আটক হন। পরবর্তীতে তাকে দর্শনা থানায় হস্তান্তর করে ইমিগ্রেশন পুলিশ।
সূত্র জানায়, বিকাশ কুমার ঘোষ ছিলেন ঝিনাইদহ-২ আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় এমপি ও সাধারণ সম্পাদক আনার উদ্দিনের অপহরণ মামলার অন্যতম আসামি সাইদুল করিম মিন্টুর ঘনিষ্ঠ। সেই সুবাদে অল্প বয়সেই তিনি ঝিনাইদহ জেলা জজ আদালতের জিপি পদে নিয়োগ পান। তাকে ঘিরে নানা অভিযোগও রয়েছে। ঝিনাইদহ সদর থানার এফআইআর নং-৩৩, তারিখ-২৮/০৮/২০২৪; জি আর নং-৪০৯, তারিখ- ২৮/০৮/ ২০২৪; ধারা- ৩/৬ ঞযব ঊীঢ়ষড়ংরাব ঝঁনংঃধহপবং অপঃ, ১৯০৮; তৎসহ ১৪৩/৪৪৮/৩২৩/৪২৭/৩৮০/৫০৬/১১৪/৩৪ ঞযব চবহধষ ঈড়ফব, ১৮৬০। ফলে তার পাসপোর্ট বাংলাদেশ পুলিশ স্পেশাল ব্রাঞ্চ রাজারবাগ ঢাকা, ইমিগ্রেশন প্রশাসন শাখা’র স্মারকে নাম্বার ৪৪.০১.০০০০.০৮৬.৩১.০০৮.২৫/সাঃ-১৯৮/৩৫৮৬(৮) বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়।
এদিকে, বিগত স্বেরাচার সরকারের সময়ে একজন আইন কর্মকর্তা হয়েও আদালতে প্রভাব খাটিয়ে তিনি বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। ঝিনাইদহ সদর উপজেলার মধুহাটী ইউনিয়নের মহামায়া গ্রামে হিন্দু সম্প্রদায়ের শতাধিক বিঘা অর্পিত সম্পত্তি নিয়ে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে উচ্চ আদালত থেকে মামলাগুলো নিম্ন আদালতে নামিয়ে এনে সরকারের বিপক্ষে রায় আদায় করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
