ছবির ক্যাপশন:
আলমডাঙ্গার খুদিয়াখালি গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধে সংঘর্ষ ও মামলার জের
ঘটনাস্থল থেকে ফিরে নিজস্ব প্রতিবেদক: চুয়াডাঙ্গা আলমডাঙ্গা উপজেলার জেহালা ইউনিয়নের খুদিয়াখালী গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জেরে একই পরিবারের নারী ও শিশুসহ ৫ সদস্যকে পিটিয়ে গুরুতর জখম করেছে প্রতিপক্ষ। গতকাল সোমবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেছে। আহতরা হলেন, চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার জেহালা ইউনিয়নের খুদিয়াখালী গ্রামের মসজিদপাড়ার ময়নালের দু’ছেলে আলামিন (৩০), ইয়ামিন (১৫), মেয়ে সোনালী খাতুন (১৬), স্ত্রী আকলিমা খাতুন (৩৬) ও আলামিনের স্ত্রী ইরানী খাতুন (২৫)।
এলাকাবাসী ও আহতদের পারিবারিক সুত্রে জানা গেছে, আলমডাঙ্গার মুন্সিগঞ্জের খুদিয়াখালী গ্রামের মৃত রমজান কাজীর ছেলে ময়নাল সম্প্রতি তার বোন-জামাই চুয়াডাঙ্গা নুরনগর কলোনীর খোকনের কাছে ৫টি কাঠাঁলগাছ বিক্রি করে। গত ১৩ সেপ্টেম্বর খোকন ৫টি গাছের বদলে ৮টি গাছ কাটতে গেলে ময়নালের সেজ ভাইয়ের ছেলে কলম বাঁধা দিতে গেলে খোকনের স্ত্রী জাহানারা ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে কলমকে জখম করে। এ ঘটনায় কয়েজনের বিরুদ্ধে বাড়ি-ঘর ভাংচুর লুটপাটসহ মহিলাদের শ্লীলতাহানীর অভিযোগে মামলা দায়ের করে। দু’পক্ষই থানা ও আদালতে মামলা দায়ের করে। ওই মামলায় দু’পক্ষ পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়ে জেল খেটে জামিনেও মুক্ত হয়। গতকাল খুদিয়াখালী গ্রামের ফজলুর ছেলে তোহিদুল জামিনে মুক্ত হয়ে বাড়ি ফেরে। বাড়ি ফিরে লাঠি হাতে তার পিতা, ভাই ও চাচাতো ভাইদের নিয়ে প্রতিপক্ষকে খুজতে থাকে। সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টার দিকে ময়নালের ছেলে ইয়ামিন (১৫) চুয়াডাঙ্গা থেকে ফুটবল খেলা দেখে বাড়ি ফিরলে তাকে বেদম মারধর করে। এ সময় ময়নালের স্ত্রী আকলিমা, ছেলে আলামিন, মেয়ে সোনালীসহ আলামিনের স্ত্রী ইরানী খাতুন মারপিটে বাঁধা দিলে তাদেরকেও বেদম মারধর করে। গ্রামবাসী তাদের মারাত্মক অবস্থায় উদ্বার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। ইয়ামিন এবং আলামিন ও তার স্ত্রী ইরানীর অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।
আহত আলামিন অভিযোগ করে বলেন, ছোট ভাইকে মারতে দেখে আমরা এগিয়ে গেলে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে মৃত রমজান কাজীর ছেলে ফজলু ও আইজাল, আইজালের ছেলে আব্দুল, ফজলুর স্ত্রী আমিরন, ছেলে তোহিদুল, ফরজ, মেয়ে আইসা, আসানুর ও জামাই সানোয়ার তাদের ধারালো দা, সাবল, লোহার রড, বাটাম দিয়ে পিটিয়ে মারাত্মক আহত করে। আলামিন আরো বলেন, চুয়াডাঙ্গা নুরনগর কলোনীর খোকনের স্ত্রী জাহানারাকে প্রধান আসামী করে মামলা করা হলেও মুন্সিগঞ্জ ফাড়ি পুলিশের ইনচার্জ এসআই মহাসিন টাকার বিনিময়ে জাহানারাকে আটক করে ছেড়ে দেয়। প্রধান আসামী জাহানারার নির্দেশেই এই ঘটনাটি ঘটিয়েছে। পুলিশ যদি সেদিন জাহানারাকে ছেড়ে না দিত, তাহলে এমন ঘটনা ঘটতো না। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, কিছুদিন ধরে গ্রামের ৪ ভাই ও তার ছেলেদের মধ্যে হামলা ও মামলার ঘটনা ঘটে চলেছে। গ্রামের প্রতিটি পরিবারের সাথে রয়েছে তাদের বিরোধ। ফজলু, আইজাল ও ময়নাল বিনা কারণে গ্রামের লোকজনদের গালাগালি করে। প্রতিবাদ করলে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করে। এ কারণে ওদের কোন ঘটনাতে কেউ এগিয়ে আসেনা। তবে আলামিন ও তার পরিবারের লোকজনকে যেভাবে মারধর করা হয়েছে, সেটা কোন সুস্থ মানুষের কাজ না বলে গ্রামবাসী মন্তব্য করেছে। এছাড়া ফজলুর লাঠির আঘাতে তার স্ত্রী আমিরন আহত হয় বলেও গ্রামসুত্রে জানাযায়। এদিকে, সংবাদ পেয়ে আলমডাঙ্গা থানা ও মুন্সিগঞ্জ ফাড়ি পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
