চুয়াডাঙ্গায় মাথাভাঙ্গা ব্রিজের নিচে ভারতীয় ও দেশি কবুতরের বর্ণিল বাজার

পাখিপ্রেমীদের মিলনমেলা, শখের সঙ্গে ব্যবসাও চলে হাটে

চুয়াডাঙ্গায় মাথাভাঙ্গা ব্রিজের নিচে ভারতীয় ও দেশি কবুতরের বর্ণিল বাজার

আপলোড তারিখঃ 2025-05-26 ইং
চুয়াডাঙ্গায় মাথাভাঙ্গা ব্রিজের নিচে ভারতীয় ও দেশি কবুতরের বর্ণিল বাজার ছবির ক্যাপশন:


চুয়াডাঙ্গার বড় বাজার মাথাভাঙ্গা ব্রিজের নিচে ভোরের আলো ফোটার আগেই শুরু হয়ে যায় পাখিপ্রেমীদের আনাগোনা। সপ্তাহের প্রতি শুক্রবার দিনটিতে ব্রিজের নিচে বসে এক ব্যতিক্রমী হাট, নাম ‘পাখির হাট’। সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত চলে পাখি কেনাবেচা। এই হাটে কবুতরই মূল আকর্ষণ। দিন দিন হাটটি স্থানীয়ভাবে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। তবে হাটটি শুধু বাণিজ্য নয়, পাখিপ্রেমীদের মিলনমেলাও বটে। কেউ আসে কিনতে, কেউ বা শুধু দেখে যেতে। কেউ আসেন শখ মেটাতে, আবার কেউ বা ছোট করে শুরু করছেন ব্যবসা। দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠা এই হাটে এক টুকরো ভালোবাসা আর লাভের হিসাব মিলিয়ে এখন ঘুরপাক খায় যেন হাজারো ডানার স্বপ্ন।


জানা গেছে, বড় বাজার ব্রিজের নিচে প্রতি শুক্রবার বসা এই পাখির হাটটি মূলত কবুতর কেনাবেচার জন্য হলেও এখানে মাঝে মাঝে টিয়া কিংবা অন্যান্য দেশি-বিদেশি পাখিও দেখা যায়। ভোর থেকেই দূর-দূরান্ত থেকে ক্রেতা-বিক্রেতারা ভিড় জমান। অনেকেই শখের বশে কবুতর কিনে নিয়ে যান, আবার কেউ কেউ নিয়মিত এই হাটে এসে পছন্দসই প্রজাতির কবুতর খুঁজে বেড়ান। হাটে ভারতীয় জাতের পাশাপাশি দেশি কবুতরও পাওয়া যায়। দামও থাকে ক্রেতার নাগালের মধ্যে। ২০০ টাকা জোড়া থেকে শুরু করে উন্নত জাত হলে ১৫০০ টাকাও হাঁকা হয়। হাটটি মূলত মুখে মুখে প্রচারেই এতদূর এসেছে, কোনো স্থায়ী অবকাঠামো না থাকলেও বিক্রেতা ও ক্রেতাদের মধ্যে এই জায়গাটির প্রতি আলাদা টান রয়েছে। অনেকেই মনে করেন, যদি স্থানটি আরও সুপরিকল্পিতভাবে সাজানো হতো, তবে এটি অঞ্চলের অন্যতম জনপ্রিয় কবুতর বা পাখির হাটে রূপ নিতে পারত।



এই হাটের কবুতর বিক্রেতা সোনা মিয়া জানান, তিনি নিজেই বাড়িতে কবুতর পোষেন। আবার অন্য বিক্রেতার কবুতর পছন্দ হলে তা কিনে রেখে দেন-উপযুক্ত দামে বিক্রির জন্য। তিনি বলেন, ‘ভালো কবুতর চোখে পড়লেই কিনে ফেলি। পরে আবার কেউ চাইলে দিয়ে দেই, কিছু লাভ থাকে। হাটের বাইরেও বিভিন্ন স্থান এবং বাড়ি থেকেও কবুতর বিক্রি হয়। শখরে বসে একসময় কবুতর পোষা শুরু করলেও এখন দেশি বিদেশি কবুতর কেনাবেচায় আমার পেশা হয়ে গেছে।’ 


কথা হয় মেহেরপুরের কবুতর বিক্রেতা লাল মিয়া। তিনি এই হাটে প্রথম এসেছেন। তাঁর বাড়িতে পোষা কবুতরের সংখ্যা চার শতাধিক। তিনি এনেছেন ভারতীয় জাতের কাশুড়ি, কালদম, কামাগার প্রজাতির কবুতর। কাশুড়ির দাম হাঁকছেন প্রতি জোড়া ১৫০০ টাকা, কালদম ও কামাগার ১ হাজার টাকা করে। দেশি কবুতরও এনেছেন, যার দাম মানভেদে জোড়া ২০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত।


সদর উপজেলার হিজলগাড়ি গ্রামের আসলাম হোসেন এসেছিলেন শখের কবুতর কিনতে। একটি নর কবুতর পছন্দ হলেও দাম নিয়ে বনিবনা হয়নি। বিক্রেতা চেয়েছিলেন ৬০০ টাকা, তিনি দাম বলেছেন ৩০০ টাকা। শেষ পর্যন্ত ৩৫০ টাকায় কবুতরটি মিলেছে। আসলাম হোসেন বলেন, ‘জোড়া ছাড়া নর কবুতরটি আমার বেশ ভালো লেগেছে। কিন্তু বিক্রেতা ৬০০ টাকা দাম চেয়েছিলেন, যা অনেক বেশি। হেলাফেলায় হাতছাড়াও করতে চাইনি, বেশ দরদামের পর ৩৫০ টাকায় কিনতে সক্ষম হয়েছি।’



এদিকে, সাপ্তাহিক এই হাটের রক্ষণাবেক্ষণে কাজ করছেন স্থানীয় কিছু কর্মীরা। তাদেরই একজন, শাহারুক ইকবাল জ্যাকি। তিনি বলেন, ‘চুয়াডাঙ্গা কবুতর হাট’ নামে প্রায় দুই বছর আগে এই হাটটির উদ্বোধন করা হয়। এটি ইজারা কিংবা খাজনা আওতার বাইরে পরিচালিত হচ্ছে। প্রতিটি হাটবারে এখানে গড়ে ২০০ থেকে ৩০০ জোড়া কবুতর বিক্রি হয়। এছাড়াও বিভিন্ন বিদেশি জাতের পাখি বিক্রির জন্য নিয়ে আসেন বিক্রেতারা।’


তিনি আরও বলেন, ‘এখানে মুক্ষী, লোটন, বাজী কবুতর, সাদা ঘুঘু, লাভ বার্ড, কোয়েলসহ নানা রঙের এবং প্রজাতির পাখি বিক্রি হয়। এমনকি বিভিন্ন প্রজাতির খরগোশও এখানে বেচাকেনা হয়। দিন দিন হাটের পরিসর ও ক্রেতার সংখ্যা বাড়ছে, আমরা চেষ্টা করছি হাটের পরিবেশ ভালো রাখতে। বিক্রেতাদের থেকে সর্বোচ্চ ১০ টাকা করে নেয়া হয়, হাটের পরিচ্ছন্ন কর্মীদের পারিশ্রমিকে ব্যয়ের জন্য।’

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)