ছবির ক্যাপশন:
ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্ত থেকে বিভিন্ন সময় উদ্ধারকৃত ১১৯ কোটি ৬৪ লাখ টাকার ভারতীয় মাদকদ্রব্য ধ্বংস করেছে বিজিবি। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে মহেশপুর-৫৮ বিজিবির সদর দপ্তরে এই মাদকদ্রব্য ধ্বংস করা হয়। এ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বিজিবির রিজিওনাল কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হুমায়ন কবীর ও বিশেষ অতিথি হিসেবে কুষ্টিয়া বিজিবির সেক্টর কমান্ডার আহসান হাবিব উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের স্বাগত বক্তব্য দেন মহেশপুর-৫৮ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রফিকুল আলম। মাদকদ্রব্য ধ্বংস অনুষ্ঠানে ঝিনাইদহ চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়ার সরকারি কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসনের নেতৃবৃন্দ, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ইলেকট্রনিক্স ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এদিন ১১৯ কোটি ৬৪ লাখ টাকা মূল্যের ১২ ধরনের ভারতীয় মাদকদ্রব্য ধ্বংস করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে ২৫ হাজার ৮১৩ বোতল ভারতীয় ফেনসিডিল, ৩৮ হাজার ৯৮০ বোতল মদ, ১৩০ কেজি গাঁজা, ৬৫ হাজার ১৭৪ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ৩৭ কেজি হেরোইন, ৭৯ কেজি কোকেন, ক্রিস্টাল ম্যাথ আইস ৭ কেজি, এলএলডি ২৯ বোতল, ২১ হাজার ৩১৬ পিস ভায়াগ্রা ট্যাবলেট, ট্যাপেন্টাল ট্যাবলেট ৩০ হাজার ৭০ পিস, ভারতীয় ওষুধ ৯ হাজার ৮৪৫ পিস এবং বাংলাদেশি ওষুধ ৯ হাজার ৯৬০ পিস।
মাদকদ্রব্য ধ্বংস অনুষ্ঠানে বিজিবি মহেশপুর-৫৮ বিজিবি অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রফিকুল আলম জানান, উদ্ধারকৃত মাদক দ্রব্যের আনুমানিক মূল্য ১১৯ কোটি ৬৪ লাখ ৮৩ ২০২ টাকা। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে চলতি বছরের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত এই ১৫ মাসে মহেশপুর ও জীবননগর সীমান্ত থেকে এই বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করে বিজিবি।
সীমান্ত এলাকার মানুষ অভিযোগ করেন, ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্ত এখন মাদক ও মানব পাচারের জন্য একটি ‘নিরাপদ রুটে’ পরিণত হয়েছে। প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা অসংখ্য মানুষ এই সীমান্ত দিয়ে পাচার হয়ে যাচ্ছে ভারতে। একইসঙ্গে ভারত থেকে শতশত মানুষ অবৈধভাবে প্রবেশ করছে বাংলাদেশে। যা প্রতিদিন বিজিবির হাতে ধরাও পড়ছে। পাশাপাশি সীমান্ত পেরিয়ে আসছে কোটি কোটি টাকার মাদকদ্রব্য, যা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। মহেশপুর সীমান্ত দিয়ে সক্রিয় একাধিক পাচারকারী চক্র দীর্ঘদিন ধরে নির্বিঘ্নে মাদক ও মানব পাচারের কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। এসব কর্মকাণ্ডে সীমান্ত এলাকার সাধারণ মানুষ চরমভাবে উদ্বিগ্ন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সীমান্তে মাঝে মধ্যেই মাদকসহ কিছু পাচারকারী ধরা পড়লেও, বড় ধরনের চক্রগুলো থেকে যাচ্ছে ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। সম্প্রতি মাসগুলোতে কয়েক হাজার মানুষকে এই সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে পারাপারের অভিযোগ উঠেছে। সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফে গুলিতে নিহত হয়েছেন দুই বাংলাদেশি নাগরিক, যা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।
মহেশপুর সীমান্ত এলাকায় বিজিবির পক্ষ থেকে নিয়মিত টহল ও অভিযান চালানো হলেও, পাচার থেমে নেই। আবার মাদকের গডফাদাররাও থাকছে অধরা। স্থানীয়দের দাবি, যদি সীমান্তে কঠোর নিরাপত্তা ও নজরদারি থাকেই, তবে প্রতিদিন কীভাবে মাদক প্রবেশ করে? সীমান্তে বিজিবির কড়া নজরদারি রয়েছে। এতো কড়াকড়ির মাঝেও মাদক ও মানুষ পাচার হয় কীভাবে? এমন হাজারো প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে সীমান্ত এলাকার মানুষের মাঝে।
