ছবির ক্যাপশন:
স্কুলছাত্রকে অপহরণ, মারধর, অশালীন ভিডিও বানিয়ে চাঁদা দাবির অভিযোগে চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি তৌহিদুজ্জামান তৌহিদকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শহরের সিনেমা হলপাড়া থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। চাঁদাবাজির এই ঘটনায় তৌহিদসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ২০-২৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তার তৌহিদুজ্জামান তৌহিদ চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রদলের ৩৭ নম্বর সহসভাপতি ও গুলশানপাড়ার জাফরের ছেলে।
ভুক্তভোগী স্কুলছাত্র আব্দুর রাহিম জোয়াদ্দার (১৬) ভি জে স্কুলের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার পিতা আব্দুর রাজ্জাক জানান, ৩ মে রাতে নাহিদ (১৬) নামে এক কিশোর অসুস্থ বন্ধুকে হাসপাতালে নেওয়ার কথা বলে রাহিমকে বাসা থেকে ডেকে নেয় চাঁদমারী মাঠে। সেখানে ওঁৎ পেতে থাকা তানিম (২৫), তৌহিদ (২৭), সুমন (৩২) ও আরও ২০-২৫ জন মিলে রাহিমের মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে তাকে বেধড়ক মারধর করে।
পরবর্তীতে ভয়-ভীতি দেখিয়ে রাহিমের মোবাইলে একটি আত্মহত্যাকারী মেয়ের ছবি ও কিছু অশালীন কনটেন্ট ঢুকিয়ে দেয় অভিযুক্তরা। এরপর জোর করে তাকে দিয়ে মিথ্যা বক্তব্য বলিয়ে ভিডিও ধারণ করা হয়। ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে রাহিমের কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করা হয়, যার মধ্যে তাৎক্ষণিক ১০ হাজার টাকা আদায় করা হয়। এতেই থেমে থাকেনি দুর্বৃত্তরা। ৭ মে রাত ১০টায় দেশীয় অস্ত্রসহ তারা রাহিমের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। ৮ মে আবারও এসে বড় ছেলে রাব্বির পেটে ছুরি ধরে পরিবারের কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকা আদায় করে এবং জোরপূর্বক ৪ লাখ টাকার একটি চেক ও তিনটি সাদা নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে নেয়। ১৯ মে সোমবার রাত ৮টা ৪৫ মিনিটে একটি মোবাইল নম্বর (০১৭৪২-৮০৭১০৭) থেকে ফোন করে জানানো হয়, ২০ মে বিকেল ৫টার মধ্যে টাকা না দিলে পরিবারের সবাইকে হত্যা করা হবে। বিষয়টি জানার পরপরই ভুক্তভোগী পিতা থানায় অভিযোগ করলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তৌহিদকে গ্রেপ্তার করে।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খালেদুর রহমান জানান, একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অন্যান্য আসামিদের ধরতে অভিযান চলছে। আসামিকে আজ আদালতে প্রেরণ করা হবে এবং তদন্তের স্বার্থে রিমান্ড চাওয়া হবে।
এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাজাহান খান বলেন, ‘বিষয়টি কেন্দ্রকে জানানো হয়েছে। প্রমাণিত হলে তৌহিদুজ্জামানের বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে কঠোর শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলা ছাত্রদল এ ধরণের অপরাধকে কোনোভাবেই সমর্থন করে না।’
