ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গা গোপিনাথপুরে রাতের আধাঁরে স্কুল ছাত্রীর বাল্য বিয়ের আয়োজন
নিজস্ব প্রতিবেদক: চুয়াডাঙ্গা সদরের গোপিনাথপুরে রাতের আধাঁরে এক স্কুল ছাত্রীর বাল্য বিয়েতে বাঁধ সাধলো প্রশাসন। জেলা প্রশাসকের পাওয়া গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মৃণাল কান্তি দে’র হস্তক্ষেপে নবম শ্রেণীর এক ছাত্রী বাল্য বিবাহের অভিশাপ থেকে মুক্তি পেয়েছে। ত্রিশোর্ধ এক বিলেতগামী পাত্র পেয়ে লোভে পড়ে পিতা নিজ কন্যাকে বিয়ে দেয়ার আয়োজন করলে মাত্র এক ঘন্টা পূর্বে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ গিয়ে হাজির হয় কনের বাড়িতে। মেয়েকে অপ্রাপ্ত বয়স্ক অবস্থায় বিয়ে দিবেন না এমন মুচলেকা দিয়ে আত্মীয়-স্বজনরা রক্ষা পেলেও ছাড় দেওয়া হয়নি বর-বরের দুলাভাই এমনকি কনের পিতাকেও।
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার গোপিনাথপুর গ্রামের বরকত আলীর ছেলে আব্দুল আজিম তার স্কুল পড়–য়া মেয়েকে আলমডাঙ্গা উপজেলার খাদিমপুর ইউনিয়নের মোল্লাপাড়ার মৃত রহিম মোল্লার ৩২ বছর বয়সী ছেলে রাঙার সাথে বিয়ে দেয়ার আয়োজন করে। লোকজন যেন না জানতে পারে এ কারণে রাতে বিয়ের আয়োজন করে। বিষয়টি ওই মেয়ের বান্ধবীরা জেলা প্রশাসককে জানায়। ১৮ বছর বয়স না হওয়ায় আর স্কুল জীবন শেষ না করার আগেই বিয়ে না দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে মেয়ের পরিবারকে সতর্ক করলে অজ্ঞাত একজন জেলা প্রশাসককে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলে, ‘বিয়ে আমরা দেবই; কেউ ঠেকাতে পারবে না, সে যেই হোক’। যেমন কথা তেমন কাজ- রাতেই সদর থানার এসআই সানজিত আহমেদ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে বর রাঙা, বরের দুলা ভাই ইব্রাহিমপুরের লিচু (৪৫) ও মেয়ের পিতা আব্দুল আজিমকে আটক করে। এ সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে দন্ডবিধি, ১৮৬০ এর ১৮৮ ধারায় সরকারী কর্মচারী কর্তৃক যথাযথরূপে জারীকৃত আদেশ অমাণ্যকরায় তাদের ৩ জনকে ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করা হয়।
