জীবননগরে মাঠভর্তি বোরো ধান, শ্রমিক সংকটে কৃষকেরা

আপলোড তারিখঃ 2025-04-27 ইং
জীবননগরে মাঠভর্তি বোরো ধান, শ্রমিক সংকটে কৃষকেরা ছবির ক্যাপশন:

এ বছর ধানে তেমন কোনো রোগবালাই হয়নি এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ কম হওয়ায় ফলন অত্যন্ত ভালো হয়েছে। ইতোমধ্যে কৃষকেরা ধান কাটা শুরু করেছেন। এতে চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার প্রান্তিক কৃষকেরা বাম্পার ফলনের আশা করছেন। তবে শ্রমিক সংকটের কারণে ধান কাটা নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তারা।

উপজেলার সীমান্ত, বাঁকা, কেডিকে, হাসাদাহ, রায়পুর, আন্দুলবাড়িয়া, উথলী, মনোহরপুর ইউনিয়ন ও পৌরসভা এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকার বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ ঘুরে দেখা গেছে-সবুজ ধান পেকে সোনালি রঙ ধারণ করেছে। বাতাসে দোল খাচ্ছে সোনালি ধানের শীষ। এ দৃশ্য দেখে কৃষকের মুখে হাসি ফুটে উঠেছে।

আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই শেষ হবে ধান কাটা। এরপর ২-৩ দিন রোদে শুকিয়ে ধানের আঁটি বেঁধে বাড়িতে আনা হবে। ধানের পাশাপাশি এর বিচালি উৎকৃষ্ট মানের গো-খাদ্য হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। প্রতি বিঘা জমি থেকে প্রাপ্ত বিচালির বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৮-১০ হাজার টাকা। তবে, শ্রমিক সংকট চাষীদের দুশ্চিন্তায় ফেলেছে।

সীমান্ত ইউনিয়নের গয়েশপুর গ্রামের ধানচাষি মহর আলী বলেন, আমি এবার ৪ বিঘা জমিতে খাটো বাবু ও মিনিকেট জাতের ধান চাষ করেছি। ধান খুব ভালো হয়েছে। আগামী ২-৩ দিন পর ধান কাটা শুরু করবো। প্রতি বিঘায় ২৫-৩০ মণ করে ধান পাবো বলে আশা করছি। নিজের খোরাকের জন্য কিছু রেখে বাকিটা বিক্রি করবো। বিচালিও গরুর সারা বছরের খোরাক হয়ে যাবে।

মনোহরপুর ইউনিয়নের ধোপাখালী গ্রামের কৃষক আজিবার রহমান বলেন, আমি ২ বিঘা জমিতে রড মিনি জাতের ধান চাষ করেছি। ফলন এবার খুব ভালো হবে বলে আশা করছি। মাঠের ধান দেখে আশাবাদী হলেও কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টির আশঙ্কায় দুশ্চিন্তায় আছি। ধান ঘরে না ওঠা পর্যন্ত স্বস্তি পাচ্ছি না। ধান বিক্রি করে মহাজনের হালখাতা ও বর্গা জমির টাকা শোধ করবো। ধান কাটার জন্য শ্রমিকের সন্ধ্যান করছি, এগ থেকে শ্রমিক খুঁজে না রাখলে পরে ধান টাকার সময়ে বিপাকে পড়তে হবে।

হাসাদাহ ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামের কৃষক রমজান আলী বলেন, ‘ধান চাষ এখন অনেক ব্যয়বহুল। তবে এবার ফলন দেখে মনে হচ্ছে ধান লাগানো, সেচ, সার-কীটনাশক ও শ্রমিক খরচ বাদ দিয়ে লাভ থাকবে। তবে ধান কাটবো, কিন্তু কোনো শ্রমিক পাচ্ছি না। আকাশের যে অবস্থা, কখন যে ঝড়-বৃষ্টি হবে সেটা নিয়ে চিন্তায় আছি। যেদিন শ্রমিক পাবো পরদিনই ধান টাকা শুরু করে দেব।’

জীবননগর উপজেলা কৃষি অফিসার মো. আলমগীর হোসেন বলেন, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৬ হাজার ১৫০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। সেখানে ৬ হাজার ১৬২ হেক্টর জমিতে বোরো ধান রোপণ হয়েছে। এবার প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাব তেমন ছিল না এবং ধানে রোগবালাইও তুলনামূলকভাবে কম ছিল। ঝড় ও শিলাবৃষ্টির পূর্বাভাসের বিষয়টি মাথায় রেখে আমরা কৃষকদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছি। এখন ৮০ শতাংশ ধান পেকে গেলে দ্রুত ধান কেটে ফেলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর জীবননগর উপজেলায় বোরো ধানের অনেক ভালো ফলন হয়েছে।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)