কালবৈশাখীর প্রভাবে চুয়াডাঙ্গায় থেকে থেমে থেমে বৃষ্টি হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বেলা ১১টা ১০ মিনিট থেকে শুরু হওয়া এ বৃষ্টি কখনো হালকা, কখনো মাঝারি ধারা নিয়ে চলে বিকেল পর্যন্ত। দুপুরের পর দমকা হাওয়ার সাথে বৃষ্টির প্রবণতা বাড়ে, যা শহরের জনজীবনে কিছুটা স্বস্তি নিয়ে আসে। এদিন সূর্যের দেখা মেলেনি। টানা ৮ ঘণ্টার মতো চলা এই পরিস্থিতিতে জেলার আবহাওয়া হয়ে ওঠে শীতল ও স্বস্তিদায়ক।
চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গতকাল বেলা ১১টা ১০ মিনিট থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত জেলায় মোট ১৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়া অফিসের জ্যেষ্ঠ পর্যবেক্ষক রকিবুল হাসান জানান, এই বৃষ্টি কালবৈশাখীর স্বাভাবিক প্রভাবের অংশ। তিনি বলেন, ‘আগামীকাল রোববার পর্যন্ত এ ধরনের আবহাওয়া চলবে। কখনো বৃষ্টি হবে, আবার রোদের দেখা মিলবে।’
এর আগে গত ১৪ এপ্রিল চুয়াডাঙ্গায় প্রথম বৃষ্টির দেখা মেলে। সেদিন থেকেই জেলার তাপমাত্রা ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে আসে। গতকালের বৃষ্টিপাত সেই ধারা বজায় রেখেছে এবং প্রচ- গরমের মাঝে খানিকটা আরাম এনে দিয়েছে সাধারণ মানুষের জন্য। তবে কালবৈশাখীর এই বৃষ্টি এবং দমকা হাওয়ার ফলে জেলার কোথাও এখন পর্যন্ত কোনো উল্লেখযোগ্য ক্ষয়-ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে এই বৃষ্টি কৃষকদের জন্য ভোগান্তি বয়ে এনেছে। মাঠের পাঁকা ধান ও ভুট্টা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গার সদাবরী গ্রামের কৃষক সালেকিন মিয়া বলেন, ‘এই বৃষ্টির ফলে মাঠের উঠতি ফসল নষ্ট হচ্ছে। এতে কৃষকরা ক্ষতির মুখে পড়বেন। শীলাবৃষ্টি না হলে এই বৃষ্টির কারণে আম ও লিচুর ফলন ভালো হবে।’ এদিকে আবহাওয়া অফিসের জ্যেষ্ঠ পর্যবেক্ষক রকিবুল হাসান বজ্রপাত ও দমকা হাওয়া চলাকালীন সময় জনগণকে বাড়ির ভেতরে অবস্থান করার পরামর্শ দিয়ে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের অনুরোধ জানিয়েছেন।
