চুয়াডাঙ্গা ও জীবননগরে আত্মহত্যা করেছেন দুই যুবতী। গতকাল শুক্রবার পৃথক সময়ের তাদের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে সদর উপজেলার বালিয়াকান্দি গ্রামে বিষপান এবং জীবননগরের সুটিয়ায় গলায় ফাঁসের জেরে এ মৃত্যর দুটি ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার পদ্মবিলা ইউনিয়নের বালিয়াকান্দি গ্রামের জিনারুল সরদারের মেয়ে শিলি খাতুন (২১) ও জীবননগর উপজেলার বাঁকা ইউনিয়নের সুটিয়া গ্রামের ইউনুচ আলীর মেয়ে ও চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সাগরিকা খাতুন (২২)।
জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন শিলি খাতুন। গত বুধবার পরিবারের সকলের অজান্তে তিনি বাড়িতে থাকা ঘাস মারা বিষপান করেন। বিষয়টি জানতে পেরে পরিবারের সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। তবে অবস্থা শঙ্কাজনক হওয়ায় চিকিৎসকরা তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। সেখানে কিছুটা সুস্থ হলে তাকে বাড়ি নিয়ে আসা হয়। তবে গতকাল শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে নিজ বাড়িতেই তার মৃত্যু হয়।
এ বিষয়ে সদর থানার এসআই রাকিবুল ইসলাম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তবে লাশের কোনো অভিযোগকারী না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। গতকালই গ্রামের কবরস্থানে তার দাফনকার্য সম্পন্ন হয়।
অন্যদিকে, মা ও নানীর ওপর অভিমান করে নিজ ঘরে গলায় ফাঁস নেন সাগরিকা খাতুন। স্থানীয়রা জানান, কিছুদিন আগে মায়ের সঙ্গে ঝগড়া করে সাগরিকা ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। এরপর তাকে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে সেখানে নানীর সঙ্গে বাগবিতণ্ডা হয়। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার পর মায়ের কাছেও সেই বিষয়টি নিয়ে বকাঝকা শুনতে হয়। এর জেরে সবার অজান্তে নিজ ঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় রশি দিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি। খবর পেয়ে জীবননগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
জীবননগর থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) মামুন বিশ্বাস জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের হয়েছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয়ে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
