ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গা, আলমডাঙ্গা ও দামুড়হুদায় বাংলা নববর্ষ ১৪৩২ উপলক্ষে তিন দিনব্যাপী বৈশাখী মেলার আয়োজন সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিটি উপজেলায় লোকজ সংস্কৃতি, ঐতিহ্যবাহী খাদ্য ও হস্তশিল্পের প্রদর্শনী, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং স্টল পরিদর্শনের মধ্যদিয়ে প্রাণবন্ত উৎসবের পরিসমাপ্তি ঘটে। জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এ মেলায় ছিল হাজারো মানুষের অংশগ্রহণ।
চুয়াডাঙ্গা:
চুয়াডাঙ্গায় তিন দিনব্যাপী বৈশাখী মেলা ১৪৩২-এর সমাপ্তি অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টায় চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের সামনে মুক্তমঞ্চে এই সমাপনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। জেলা প্রশাসনের আয়োজনে বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে এ লোকজ সাংস্কৃতিক মেলা ও অনুষ্ঠানমালার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থেকে বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আমরা ১৪ তারিখে একটি আনন্দ র্যালির মাধ্যমে এই নববর্ষের যাত্রা শুরু করি। এই তিন দিনব্যাপী মেলা এবং আজকের এই লোকসমাগম দেখে আমি সত্যিই অভিভূত। নিঃসন্দেহে দর্শকরা দারুণভাবে উপভোগ করছেন, আর এ কারণেই এত মানুষের সমাগম ঘটেছে। আমাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী আজ মেলার সফল সমাপ্তি ঘটেছে। আমি সবাইকে ধন্যবাদ জানাই-আপনাদের অক্লান্ত পরিশ্রমের জন্য, এবং এই সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী, শিল্পী ও কলাকুশলীদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানাই। এটি সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও আন্তরিক শ্রমের ফল।

কানায় কানায় পূর্ণ এ মেলায় মানুষ সুস্থ বিনোদন উপভোগ করছে-আমি মনে করি, এটাই আমাদের সার্থকতা। এখানে সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা ছিল। বিশেষ করে যে আনন্দ শোভাযাত্রা আমরা আয়োজিত করেছি, সে সম্পর্কে চুয়াডাঙ্গার মানুষের মুখে শুনেছি-এত বড় ও বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা আগে কখনো হয়নি, বিশেষ করে সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় এমন আয়োজন এর আগে দেখা যায়নি। এবার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিয়েছে, নানা সাজে সজ্জিত হয়ে র্যালিতে অংশগ্রহণ করেছে।’
পরে জেলা প্রশাসক, রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন এবং মেলায় অংশগ্রহণকারী স্টলগুলোর মধ্যে সেরা তিনটি স্টলকে ক্রেস্ট প্রদান করেন। মেলায় বরাদ্দকৃত ৩৫টি স্টলে প্রদর্শিত হয় বাংলার ঐতিহ্যবাহী তৈজসপত্র, কুটিরশিল্প, হস্তশিল্প এবং দেশীয় খাবার। সেরা স্টল নির্বাচিত হয় ‘সুইট ড্রিম কেক’, যার প্রোপ্রাইটর রাবেয়া সুলতানা রিতু।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মিজানুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নয়ন কুমার রাজবংশী, স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক শারমিন আক্তার, সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম আশিস মোমতাজ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার আহ্বায়ক আসলাম হোসেন অর্ক, সরকারি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ড. মুন্সি আবু সাঈফ, জাসাসের সাধারণ সম্পাদক সেলিমুল হাবিবসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

আলমডাঙ্গা:
আলমডাঙ্গায় নববর্ষ উপলক্ষে তিন দিনব্যাপী লোকজ সাংস্কৃতিক মেলার সমাপ্তি হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কবিতা আবৃত্তি, কৌতুক পরিবেশনা এবং পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে। মেলা প্রাঙ্গণে অংশগ্রহণ করে সাজ ঘর, প্রয়োজন ডটকম, এ এফ লেডিস ফ্যাশন, ন্যাশনাল ফুড সার্ভিস, তুষার মুক্ত স্কাউট, ফ্যামিলি মেলা, ড্রিম কেক হাউজ, মাছওয়ালী তালহা, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসসহ প্রায় ২৫টিরও বেশি স্টল। সমাপনী দিনে প্রধান অতিথি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ মেহেদী ইসলাম অংশগ্রহণকারী স্টল এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশগ্রহণকারীদের মাঝে ক্রেস্ট প্রদান করেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম, সাংস্কৃতিক কমিটির আহ্বায়ক জামাল হোসেন, সহকারী অধ্যাপক একেএম ফারুক ও এমদাদ হোসেন। মেলার প্রথম দিন বর্ষবরণ উৎসব শেষে স্টল পরিদর্শন করেন ইউএনও শেখ মেহেদী ইসলাম। আয়োজন ছিল ইলিশ-পান্তা, আলুর চপ, কেক, খুরমা, বাতাসা, নিমকি, দা-বঁটি প্রভৃতি ঐতিহ্যবাহী খাবার ও দ্রব্য। সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশ নেন আশরাফুল হক লুলু, ওস্তাদ রেজাউল করিম, কমলকান্তি চক্রবর্তী, তবিবুর মাস্টার, মোমিন আলি এবং কবিতা আবৃত্তিতে ছিলেন কবি আসিফ জাহান, হামিদুল ইসলাম আজম, গোলাম রহমান, আব্দুল খালেক প্রমুখ। উপস্থাপনায় ছিলেন সহকারী অধ্যাপক ওমর ফারুক।
দামুড়হুদা:
‘এসো হে বৈশাখ, এসো এসো’ এই স্লোগানে দামুড়হুদায় অনুষ্ঠিত হয় তিন দিনব্যাপী বৈশাখী মেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসব। সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয় বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টায় উপজেলা পরিষদের মুক্তমঞ্চে। সমাপনী দিনে সাংস্কৃতিক সংগঠন, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারী সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে ক্রেস্ট ও পুরস্কার প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) তিথি মিত্র। উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে.এইচ. তাসফিকুর রহমান, দামুড়হুদা প্রেসক্লাব সভাপতি শামসুজোহা পলাশ, একাডেমিক মাধ্যমিক স্কুল কর্মকর্তা রাফিজুল ইসলাম, উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা অঞ্জন কুণ্ডু, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা হোসনে জাহান, পাট কর্মকর্তা রিয়াজুল ইসলাম প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সমবায় কর্মকর্তা হারুন অর রশীদ।
