আলমডাঙ্গার রুইতনপুর ও জীবননগরের কয়া গ্রামে
নিজস্ব প্রতিবেদক: চুয়াডাঙ্গা আলমডাঙ্গার রুইতনপুর ও জীবননগরের কয়া গ্রামে বিদ্যুতায়িত দুজনের মৃত্যু হয়েছে। আলমডাঙ্গার রুইতনপুর গ্রামের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও যুবলীগ নেতা আবু জাকারিয়া পলাশ বিদ্যুতস্পৃষ্ট হয়ে হাসপাতালে নেয়ার পথে নিহত হয়েছেন। হাসপাতালে পৌছানোর অনেক আগেই তিনি মারা গেছেন বলে জানিয়েছেন সদর হাপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক। হাস্যোজ্জল যুবলীগ নেতা নিহত হওয়ায় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ রুইতনপুর বাজার কমিটি শোক প্রকাশ করেছেন। জানা গেছে, আলমডাঙ্গার রুইতনপুর পশ্চিমপাড়ার হাজী সিরাজ মিয়ার ছেলে আবু জাকারিয়া পলাশ সকাল সাড়ে ৮টার দিকে রুইতনপুর বাজার থেকে কেনা মাছের পানি বদলানোর জন্য বাড়ির টিউবওয়েলের কাছে যান। এ সময় টিউবওয়েলের সাথে থাকা মটরের বৈদ্যতিক তার ছেড়া থাকায় বৃষ্টির পানিতে টিউবয়েলে বিদ্যুতস্পৃষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলে আছড়ে পড়েন তিনি। পরিবারের লোকজন টের পেয়ে বাইরে এসে দেখে তিনি বিদ্যুতায়িত হয়েছেন। দ্রুত বৈদ্যুতিক মেইন স্যুইচ বন্ধ করে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় ডাক্তারের কাছে নিয়ে যায়। জাকারিয়া পলাশের অবস্থার অবনতি দেখে স্থানীয় ডাক্তার তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। তৎক্ষানিক তাকে সদর হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা.সনিয়া আহম্মেদ জাকারিয়া পলাশকে মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে, জাকারিয়া পলাশের মুত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে পরিবার ও শুভাকাঙ্খীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। দুপুরে নিহতের মরদেহ নিজ বাসভবনে নিয়ে আসা হলে পরিবার ও নিকটআত্মীয়ের আহাজারিতে ভারি হয়ে ওঠে গ্রামের বাতাস। গতকাল বাদ আসর রুইতনপুর কবরস্থানের জানাজা শেষে দাফন করা হয়। মৃত্যুকালে তিনি ৮ বছরের ছেলে ও ৬ বছরের মেয়েসহ অসংখ্য গুনাগ্রাহী রেখে গেছেন।
জীবননগর অফিস জানিয়েছে, জীবননগরের কয়া গ্রামে বাঁশ কাটতে গিয়ে বিদ্যুতায়িত হয়ে কৃষককের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে সীমান্ত ইউনিয়নের কয়া গ্রামের স্কুলপাড়ার রহিম হোসেনের ছেলে কৃষক মনিরুল ইসলাম (৪০) নিজের বাড়িতে বাঁশঝাড় থেকে বাঁশ কাটতে গিয়ে বিদ্যুতায়িত হয়ে আহত অবস্থায় পানিতে পড়ে যান। এ সময় স্থানীয় এলাকাবাসী ও তার পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে নারায়পুর মসজিদর কাছে পৌছালে হাসপাতালে তিনি মারা যান। স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার আব্দুল মোমিন বিদ্যুৎস্পৃষ্টে নিহত হওয়া মিনারুল ইসলামের মৃত্যুর সংবাদ নিশ্চিত করে বলেন, নিহত মিনরুল মাঠ থেকে বাড়ি ফিরে ঘর মেরামত করার জন্য নিজের বাঁশ ঝাড় থেকে বাঁশ কাটছিল। এ সময় বাঁশ ঝাড়ের মাঝে বিদ্যুতের লাইন থাকায় কাটা বাঁশ বিদ্যুৎ লাইনের মেইন তারের উপরে পড়ে এ সময় বাঁশ টানতে যেয়ে এ বিপত্তি হয়। তার পরিবারের লোকজন চিৎকার করলে পাশের দোকানে বসা স্থানীয় লোকজন ছুটে আসে এবং তাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়। গতকাল কয়া গ্রামের ঈদগা মাঠে বিকাল ৫টায় জানাযা শেষে কবরস্থানে দাফন করা হয়।
