ছবির ক্যাপশন:
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার কাশিপুর বেদেপল্লীতে নিহত তালাব হোসেনের স্ত্রী ও সন্তান নিয়ে কটূক্তি করে বিপাকে পড়েছেন কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শহিদুল ইসলাম হাওলাদার। তালাব হত্যার সঙ্গে জড়িত আসামিদের বাদ দেওয়ায় নিহতের স্ত্রী জামেদা বেগম কালীগঞ্জ থানায় গেলে ওসি তার সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন এবং তার সন্তানদের পিতৃ পরিচয় নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে থানা থেকে বের করে দেন। এ ঘটনা জানিজানি হলে ক্ষুব্ধ হয়ে কাশিপুর বেদে পল্লির কয়েকশ নারী-পুরুষ ওসির অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করেন।
সড়ক অবরোধের ফলে উভয় পাশে যাত্রীবাহী বাস, ট্রাকের লম্বা লাইন পড়ে যায়। প্রচণ্ড গরমে যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়ে। তবে অবরোধের সময় কালীগঞ্জ থানা পুলিশ বা প্রশাসনের কোনো সদস্যকে ঘটনাস্থলে দেখা যায়নি। এর আগে গত বৃহস্পতিবার ভোরে তালাব হোসেন হত্যার শিকার হন। তার পেটে লোহার রড ঢুকিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় মোহাম্মদ আলী বাদী হয়ে একমাত্র রুবেল হোসেনের নামে মামলা করেন। মামলার আগেই গ্রামবাসী খুনিকে আটক করে পুলিশে দেন।
গ্রামবাসী ফিরোজ হোসেন ও সাইদুর রহমান জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে নিহতের স্ত্রী জামেদা বেগম ছয় বছরের সন্তান রুমানা, চার বছরের সোহানা ও দুই বছরের রেহানাকে নিয়ে থানায় যান। এসময় তাদের সাথে বেদে পল্লির আরও অর্ধশতাধিক সদস্য ছিল। থানায় গিয়ে তারা হত্যার সাথে আরো অনেকে জড়িত আছে এবং তাদের নাম এজাহারে আসেনি বলে ওসিকে জানান। এসময় কালীগঞ্জ থানার ওসি শহিদুল ইসলাম নিহতের তিন সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তি করেন। সরকারি চেয়ারে বসে ওসির এমন আচরণ ও বাকি আসামিদের এজাহারে অর্ন্তভুক্ত করার দাবিতে তারা সড়ক অবরোধ করেন বলে জানান।
কালীগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) মোফাজ্জেল হক বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে, আসামিও গ্রেপ্তার হয়েছে। এখন তারা মামলায় নতুন করে আরও আসামি করার দাবি নিয়ে থানায় এসে বিশৃঙ্খলা করে। ঘটনার দিন তাদের থানা চত্বরে বিশৃঙ্খলা না করার জন্য বললে উত্তেজিত তারা বেরিয়ে যান এবং মহাসড়ক অবরোধ করেন।
তবে নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, তালাব হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী সেলিমকে বাদ দিয়ে মাত্র একজনকে আসামি করে পুলিশ মামলা নিয়েছে। বক্তব্য জানতে কালীগঞ্জ থানার ওসি শহিদুল ইসলাম হাওলাদারকে একাধিকবার ফোন করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
