ছবির ক্যাপশন:
আলমডাঙ্গা পৌরসভার সাবেক মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর মহিউদ্দিন আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। গত শুক্রবার দিবাগত রাত ২টার দিকে চিকিৎসাধীনাবস্থায় কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে মরহুমের বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর।
গতকাল শনিবার যোহরের নামাজের পর আলমডাঙ্গা দারুস সালাম ঈদগা ময়দানে তাকে গার্ড অব অনার প্রদান অনুষ্ঠানে সালাম গ্রহণ করেন আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেখ মেহেদী ইসলাম। তার সাথে উপস্থিত ছিলেন আলমডাঙ্গা থানার ওসি (অপারেশন) আসগর আলী। এসময় জাতীয় পতাকা দিয়ে আচ্ছাদিত মরহুমের মরদেহে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়। চুয়াডাঙ্গা পুলিশের একটি চৌকস দল তাকে গার্ড অব অনার দেয়। এসময় বিউগলে করুণ সুর বাজানো হয়। এক মিনিট নীরবতা পালন শেষে একই স্থানে পৌরসভার পক্ষ থেকে মরহুমের মরদেহে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।
মীর মহিউদ্দিনের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু, সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ প্রমুখ।
গার্ড অব অনার শেষে মরহুমের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ, আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেখ মেহেদী ইসলাম, ওসি (অপারেশন) আসগর আলী, জেলা বিএনপির সিনিয়র সদস্য অ্যাড. ওয়াহিদুজ্জামান বুলা, খন্দকার আব্দুর জব্বার সোনা, জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির রুহুল আমিন, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মীর্জা ফরিদুল ইসলাম শিপলু, সফিকুল ইসলাম পিটু, খালিদ মাহমুদ মিল্টন, আলমডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আখতার হোসেন জোয়ার্দার, সাধারণ সম্পাদক আমিনুল হক রোকন, আলমডাঙ্গা পৌর বিএনপির সভাপতি মো. আজিজুর রহমান পিন্টু, সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান ওল্টু, জেলা যুবদলের সভাপতি শরীফুজ্জামান সিজার, সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রশীদ ঝন্টু, জেলা কৃষকদলের সদস্যসচিব ও বাড়াদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তোবারক হোসেন, জেলা জাসাসের সাধারণ সম্পাদক সেলিমুল হাবিব সেলিম, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক এম.এ. তালহা, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহজাহান খান, সাধারণ সম্পাদক মোমিনুর রহমান মোমিন।
চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ বলেন, ‘আজ আমরা এখানে একত্রিত হয়েছি যার জানাজায় অংশ নিতে মীর মহিউদ্দিন, যিনি শুধু একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বই ছিলেন না, ছিলেন আমাদের প্রিয় মানুষ। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের হয়ে, আলমডাঙ্গা উপজেলাসহ চুয়াডাঙ্গা জেলার রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। দীর্ঘদিন আলমডাঙ্গা পৌরসভার মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। পাশাপাশি সবসময় যুক্ত থেকেছেন বিভিন্ন সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে। তিনি সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন। তার উদ্যোগ ও নেতৃত্বে আলমডাঙ্গা পৌরসভা, উপজেলা এবং চুয়াডাঙ্গা জেলার অনেক উন্নয়নমূলক স্থাপনা গড়ে উঠেছে। তিনি একজন প্রকৃত জনপ্রতিনিধি ছিলেন, জনমানুষের ভালোবাসা অর্জন করেছিলেন।
শরীফুজ্জামান আরও বলেন, ‘মানুষ মাত্রই ভুল করে, তিনিও জীবনে কোনো ভুল করে থাকলে আমরা আজকে, তার বিদায়ের এই ক্ষণে, মহানুভবতার সঙ্গে তাকে ক্ষমা করে দিই। এবং সবাই তাঁর জন্য দোয়া করি-আল্লাহ যেন তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন। আমিন।’
