অভিযোগ দিয়ে মারধরের শিকার যাত্রী

আপলোড তারিখঃ 2025-04-04 ইং
অভিযোগ দিয়ে মারধরের শিকার যাত্রী ছবির ক্যাপশন:

ঝিনাইদহের পরিবহন কাউন্টারগুলোতে ঈদ যাত্রায় ফিরতি টিকিটের দাম অতিরিক্ত নেওয়া হচ্ছে বলে যাত্রীরা অভিযোগ করেছেন। এ নিয়ে মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দিলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। পরিবহন মালিকরা ফ্যাসিস্ট আমলের মতো যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে। গতকাল শুক্রবার বিকালে ঝিনাইদহ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, গোল্ডেন লাইন, পূবার্শা, চুয়াডাঙ্গা ডিলাক্স, গ্রিন এক্সপ্রেস, সুমন ডিলাক্স, জননী পরিবহন, রয়েল এক্সপ্রেস, দর্শনা ডিলাক্স ও এসবি ডিলাক্সসহ ঢাকায় চলাচলরত সব পরিবহনেই অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। কাউন্টার মাস্টাররা জানান, ঢাকা থেকে ভাড়া বৃদ্ধি করে তাদের আদায় করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং তারা মালিকদের নির্দেশ পালন করছেন মাত্র।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কাউন্টার মাস্টার জানান, ঢাকা বাস মালিক সমিতির নির্দেশ অনুযায়ী অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করতে গিয়ে তারা বিব্রত হয়ে পড়েছেন এবং এমনকি মারামারির মতো ঘটনাও ঘটছে। সাব্বির আহম্মেদ নামের এক যাত্রী জানান, তিনি ঝিনাইদহ থেকে সায়েদাবাদ টিকেট কেটেছেন ১২০০ টাকায়, অথচ এই ভাড়া ছিল ৬৫০ টাকা। তার কাছ থেকে ডাবল ভাড়া আদায় করা হয়েছে। অপর এক যাত্রী জুলহক জানান, তিনি শৈলকুপা-কদমতলী গুলশান রুটে গোল্ডেন লাইনে ৮০০ টাকায় টিকিট কাটলেও তার কাছ থেকে ১৫০ টাকা বেশি নেয়া হয়েছে।
তালহা জুবায়ের নামে এক যাত্রী বলেন, বেশি ভাড়া নেয়ার প্রতিবাদে গত বৃহস্পতিবার বিকালে পূর্বাশা পরিবহনের ঝিনাইদহ কাউন্টার কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন এক যাত্রী। অভিযোগ পাওয়ার পর প্রশাসন ভ্রাম্যমাণ আদালত বসালে পরিবহন শ্রমিকরা অভিযোগকারী যাত্রীকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে লাঞ্ছিত করেন। এসময় ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক সহকারী কমিশনার (ভূমি) সজল কুমার দাসও উপস্থিত ছিলেন। তবে যাত্রীকে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় পুলিশ বা ভ্রাম্যমাণ আদালত কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।
এ বিষয়ে ঝিনাইদহ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘অভিযোগকারী যাত্রীকে লাঞ্ছিত করার সময় মাত্র দুইজন পুলিশ কনস্টেবল উপস্থিত ছিলেন, এ কারণে পুলিশ কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারেনি।’ তিনি আরও বলেন, ‘লাঞ্ছিত যাত্রী থানায় কোনো অভিযোগ করেনি।’
ঝিনাইদহ বাস মালিক সমিতির পরিচালনা পরিষদের প্রধান রোকনুজ্জামান রানু বলেন, ‘কাউন্টার শ্রমিকরা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে না। ঢাকা পরিবহন মালিক সমিতি ভাড়ার নতুন রেট নির্ধারণ করে তা আদায় করতে বলেছে। ঢাকার রুটে চলাচলকারী গাড়ির মালিকরা অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের সঙ্গে জড়িত। ঝিনাইদহের কোনো বাস মালিক বা কাউন্টার মাস্টার এর সঙ্গে জড়িত নয়। শ্রমিকরা কাউন্টার চালায়, তাই তারা মালিকদের নির্দেশ মানতে বাধ্য হচ্ছে।’
ঝিনাইদহ সহকারী কমিশনার (ভূমি) সজল কুমার দাস বলেন, ‘বেশি ভাড়া আদায় যাতে না হয়, সে জন্য নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে। তবে ভাড়া বৃদ্ধির শাস্তি খুবই দুর্বল, যার কারণে মালিকরা বেপরোয়া হয়ে উঠছে। তবে প্রশাসন সজাগ রয়েছে।’

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)