রোজাদারদের কষ্ট চরমে, শ্রমজীবীদের কমেছে আয়

মাঝারি তাপদাহের কবলে চুয়াডাঙ্গা, ৩৯.৮ ডিগ্রির প্রখরতায় বিপর্যস্ত জনজীবন

আপলোড তারিখঃ 2025-03-28 ইং
রোজাদারদের কষ্ট চরমে, শ্রমজীবীদের কমেছে আয় ছবির ক্যাপশন:

চুয়াডাঙ্গা জেলায় রেকর্ড হলো এ মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। গতকাল শুক্রবার বেলা ৩টা এবং সন্ধ্যা ৬টায় চুয়াডাঙ্গা আঞ্চলিক আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার ৩৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করে। আঞ্চলিক আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার বলছে, এ জনপদের ওপর দিয়ে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এতে প্রাণ ও প্রকৃতিতে নেমে এসেছে চরম অস্বস্তি। চুয়াডাঙ্গায় গতকাল সকাল থেকে রোদের তীব্র প্রখরতায় প্রচণ্ড গরম অনুভূত হয়েছে। অসহনীয় তাপপ্রবাহের মধ্যে খুব প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হননি কেউ। যাঁরা বের হয়েছেন, তাঁরা অল্পতেই অতিষ্ঠ হয়ে পড়ছেন। প্রচণ্ড রোদের কারণে জেলা শহরসহ গ্রামাঞ্চলেও গরমের তীব্রতা বাড়ছে। সবচেয়ে বেশি কষ্টে পড়েছেন রোজাদার ও খেটে খাওয়া মানুষেরা।

এদিন, শহরের বিভিন্ন স্থানে বৈদ্যুতিক ডিপ টিউবওয়েলের পানিতে গোসল করছেন অনেকে। কেউ কেউ গরম থেকে মুক্তি পেতে মাথায় পানি ঢালছেন বা ভিজে গামছা ব্যবহার করছেন। অন্যদিকে, চলমান তাপদাহের মধ্যে রোজাদারদের শারীরিক ঝুঁকি বেড়েছে। প্রচণ্ড গরমে পানিশূন্যতা, লবণ-শূন্যতা, মাথা ঘোরা, ক্লান্তি ও হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
চুয়াডাঙ্গার একটি বেসরকারি কলেজের শিক্ষক আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘এখন এমন মনে হচ্ছে যে তাপের সঙ্গে বাতাসে আগুনের হলকা বয়ে যাচ্ছে। তাহলে আর কয়েকদিন গেলে কী অবস্থা হবে। প্রায় ৪০ ডিগ্রি তাপমাত্রা কম নয়। রোজার শেষের এই দু-এক দিন খুব কষ্ট হচ্ছে।’ চুয়াডাঙ্গা শহরের কোর্ট মোড় এলাকার ইজিবাইকচালক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘এমনিতে ছুটির দিন, তার ওপর প্রচণ্ড গরম। রাস্তায় একেবারেই লোকজন নেই। ঈদ হলেও ভাড়া কম।’ আরেক ইজিবাইকচালক রফিক আলী বলেন, ‘সন্ধ্যার পর একটু ভাড়া হচ্ছে। আজ দেখা যাক কী হয়। ঈদ হলেও গরমে দিনে বাজারঘাট ফাঁকা।’ ভ্যানচালক আব্দুল করিম বলেন, ‘বাপু কিচ্ছু করার নেই। রোদ-গরম সহ্য করতি হবি। না হলি খাবো কী। তাও যদি ভাড়া হইত।’ বড় বাজারের ফল ব্যবসায়ী কিরণ হোসেন বলেন, ‘গরম বাতাসে কোথাও স্বস্তি নেই। রাস্তাঘাট উত্তপ্ত হয়ে আছে।’

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. ওয়াহেদ মাহমুদ রবিন বলেন, ‘তীব্র গরমে শরীর থেকে প্রচুর ঘাম বের হয়, এতে লবণ ও পানি দুটোর ঘাটতি দেখা দেয়। রোজাদারদের ক্ষেত্রে এটি আরও বিপজ্জনক হতে পারে। তাই সেহরি ও ইফতারে প্রচুর পানি পান করা জরুরি। পাশাপাশি শরবত, ডাবের পানি ও লবণযুক্ত পানীয় গ্রহণ করলে শরীরের ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় থাকে।’
তিনি আরও বলেন, ‘রোজাদারদের উচিত সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলা, হালকা সুতি কাপড় পরা এবং বেশি ঘামের কারণে শরীরের পানিশূন্যতা যেন না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখা। যাদের উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা কিডনির সমস্যা আছে, তারা অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে রোজা পালন করবেন।’ তিনি পরামর্শ দেন, যদি কোনো রোজাদারের মাথা ঘোরা, দুর্বলতা, অতিরিক্ত ক্লান্তি, বমি বমি ভাব বা প্রস্রাব কমে যাওয়ার মতো সমস্যা হয়, তাহলে দ্রুত বিশ্রাম নেওয়া উচিত। প্রয়োজন হলে ইফতারের আগেই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের পর্যবেক্ষক জামিনুর রহমান বলেন, ‘জেলায় সর্বোচ্চ তামপাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ। বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণও কম, মাত্র ১৮ শতাংশ। তিনি আরও বলেন, শনিবার ও রোববার তাপমাত্রা এমনই থাকতে পারে। এরপর সোমবার থেকে তাপমাত্রা কিছুটা কমার সম্ভাবনা রয়েছে।’

আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ইনচার্জ জামিনুর রহমান জেলার বাসিন্দাদের জন্য পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘দিনের বেলা রোদে না বের হওয়া, ছাতা ব্যবহার করা ও প্রচুর পানি পান করা উচিত। বিশেষ করে রোজাদারদের উচিত ছায়াযুক্ত জায়গায় থাকা এবং প্রয়োজনে শরীর ঠাণ্ডা রাখার ব্যবস্থা করা।’

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)