ছবির ক্যাপশন:
ঈদের নতুন পোশাক কেনার আনন্দ বদলে গেল শোকে। চুয়াডাঙ্গা শহরে ঈদের বাজার করতে এসে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন বিপুল হোসেন (১৮) নামের এক স্কুলছাত্র। গতকাল বুধবার রাত পৌনে ৮টার দিকে শহরের মুন্না মোড়ে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। মোটরসাইকেল ও ইজিবাকের মুখোমুখি সংঘর্ষের এ ঘটনায় নিহত বিপুলের বড় ভাই বিপ্লব হোসেন (২০), বন্ধু ওয়াশিমসহ (২১) গুরুতর জখম হয়েছেন ইজিবাইক চালক ওহিমদ্দি বিশ্বাস (৪৫), দুই যাত্রী সিহাব (১৯) ও রাবেয়া খাতুন (৪৮)। আহতদের মধ্যে অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় গতকাল রাত সাড়ে নয়টার দিকে বিপ্লব হোসেন ও ওয়াশিমকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়েছে পরিবারের সদস্যরা। এদিকে, ছেলের মৃত্যুর খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন মা তছলিমা বেগম। বারবার ছোট ছেলে, ছোট ছেলে বলে বুকফাঁটা কান্নায় মুর্ছা যাচ্ছিলেন তিনি।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ‘ইজিবাইকটি যাত্রী নিয়ে জাফরপুর অভিমুখে যাচ্ছিলো। মুন্না মোড় ও ঝিনাইদহ বাস টর্মিনালের মাঝামাঝি পৌঁছালে চুয়াডাঙ্গামুখী একটি দ্রুতগামী মোটরসাইকেলের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ইজিবাইকের চালক ও যাত্রীসহ তিনজন গুরুতর জখম হন। সংঘর্ষের সময় মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে চালকসহ তিনজন গুরুতর জখম হন। এসময় স্থানীয় লোকজন আহত ছয়জনকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। এসময় জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বিপুল নামের এক যুবককে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত বিপুলের চাচাতো ভাই শাকিল বলেন, ‘ঈদের নতুন পোশাক কেনার জন্য তারা তিনজন মোটরসাইকেলে চুয়াডাঙ্গা শহরে আসছিল। পথের মধ্যে মুন্না মোড়ে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ইজিবাইকের সঙ্গে তাদের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মোটরসাইকেলের তিন আরোহীই ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। একই সঙ্গে ইজিবাইকের চালক ও যাত্রীরাও মারাত্মকভাবে জখম হন।’
বিপুলের মামাতো ভাই জাণ্টু বলেন, ‘ইফতারের পর নামাজ শেষ করে বিপুল, বিপ্লব ও ওয়াশিম মোটরসাইকেলে নিয়ে চুয়াডাঙ্গার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়। বিকেল থেকেই তারা বলছিল ইফতারের পর ঈদের পোশাক কিনতে চুয়াডাঙ্গায় যাবে। কিন্তু তার আর নতুন পোশাক কেনা হলো না। বিপুল সরোজগঞ্জ মাধ্যমকি বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র ছিল। বাড়ির সব থেকে আদরেরও ছিল সে। তার এভাবে মৃত্যু পরিবারের কেউ মেনে নিতে পারছে না।’
অন্যদিকে আহত রাবেয়া খাতুনের পরিবারের সদস্যরা জানান, রাবেয়া চুয়াডাঙ্গা শহরের বড় বাজারের কাজ শেষ করে ইজিবাইকযোগে বাড়ি ফিরছিলেন। মুন্না মোড়ে পৌঁছালে দ্রুতগতির মোটরসাইকেল এসে ইজিবাইকের সামনে ধাক্কা দেয়, ফলে রাবেয়া গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাকে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে ভর্তি রাখেন।’
সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. সোহরাব হোসেন বলেন, ‘রাত ৮টার দিকে ছয়জনকে হাসপাতালে আনা হয়। তাদের মধ্যে একজনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। আহতদের মধ্যে অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য চারজনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এবং এক নারীকে ভর্তি রাখা হয়েছে।’
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, ‘দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। নিহতের মরদেহ সদর হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে এবং দুর্ঘটনায় জড়িত ইজিবাইক ও মোটরসাইকেল থানায় আনা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে জানা গেছে দুই ভাই ও এক বন্ধুসহ তিনজন মোটরসাইকেলযোগে চুয়াডাঙ্গায় শহরে আসার পথে মুন্না মোড় সংলগ্নে একটি ইজিবাইকের সঙ্গে মুখোমুখি সংগর্ষ হয়। এতে মোটরসাইকেলে থাকা অপর দুই আরোহীসহ ইজিবাইক চালক ও দুই যাত্রী জখম হন।’
এদিকে, নিহত বিপুলের পরিবারে এখন ঈদের আনন্দের বদলে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। তার গ্রামজুড়ে বইছে শোকের বাতাস। নিহত বিপুল ও তার ভাই আহত বিপ্লব সদর উপজেলার ছয়মাইল বাড়ুইপাড়ার আইতাল আলীর ছেলে। আহতদের মধ্যে ওয়াশিম একই এলাকার বোরহান উদ্দীনের ছেলে, ইজিবাইক চালক ওহিমদ্দি বিশ্বাস আলমডাঙ্গার বলেশ্বরপুর গ্রামের কাউসার আলীর ছেলে। ইজিবাকের আহত যাত্রী দুজন হলেন- চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার ভালাইপুর গ্রামের সুজনের ছেলে সিহাব ও গাড়াবাড়িয়া গ্রামের নজরুলের স্ত্রী রাবেয়া খাতুন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত আহত বিপ্লব ও ওয়াশিমকে নিয়ে গতকাল রাতেই দুটি অ্যাম্বুলেন্স রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পৌঁছায়। এছাড়া নিহদের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় ও লিখিত আবেদনের প্রেক্ষিতে গতকাল রাত ১১টার দিকে নিহত বিপুলের লাশ দাফনের অনুমতি দিয়ে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে সদর থানা পুলিশ।
