ছবির ক্যাপশন:
রাস্তা মাত্র সাড়ে ৬ কিলোমিটার, অথচ এই অল্প দূরত্বের সড়কে ২২টি বৈদ্যুতিক খুটি রেখেই রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান খুটি অপসারণের জন্য পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে টাকাও জমা দিয়েছেন। কিন্তু এখনো খুটিগুলো রাস্তার ওপর থেকে সরানো হয়নি। এদিকে বৈদ্যুতিক খুটি রেখে প্রশস্ত রাস্তা নির্মাণ করায় ওই সড়কে চলাচলকৃত যানবাহন ও পথচারীদের মৃত্যু ঝুঁকি বৃদ্ধি পেয়েছে। ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার পায়রাডাঙ্গা-সিংগা-পারফলসি সড়কের ওপর এই ২২টি বৈদ্যুতিক খুটির সন্ধান মিলেছে।
গতকাল বুধবার সরজমিনে দেখা গেছে, ৮৭ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্যাকেজের আওতায় সড়কটি নির্মাণ করা হয়। নির্মিত মোট ২৯ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে হরিণাকুণ্ডুর কাপাশহাটিয়া ইউনিয়নের পায়রাডাঙ্গা-সিংগা-পারফলসি সড়কটি ৬ দশমিক ৪৭ কিলোমিটার দীর্ঘ। গ্রামের মধ্যদিয়ে আঁকা-বাঁকা সড়কটি মিশেছে হরিণাকুণ্ডু শহরে। রাস্তার দুই-তিন ফুট মধ্যেই বৈদ্যুতিক খুটি রেখে পিচের রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। এ নিয়ে গ্রামবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
পায়রাডাঙ্গা গ্রামের প্রভাষক ওলিয়ার রহমান মন্ডল জানান, সড়কটি তৈরি করায় মানুষের কষ্ট লাঘব হলেও রাস্তার ওপর বৈদ্যুতিক খুটি থাকায় মৃত্যু ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। খুটিগুলো দ্রুত অপসারণ জরুরি হয়ে পড়েছে। পার্শ্ববর্তী সিংগা গ্রামের আনিসুর রহমান বলেন, রাস্তার ওপর খুটি রেখে পিচ করার সময় গ্রামবাসী আপত্তি জানিয়েছিল। কিন্তু তারা কথা শোনেনি।
ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মঈনুদ্দীন বাশির প্রজেক্ট ম্যানেজার ইয়াদ আলী জানান, কোম্পানি ঝিনাইদহ পল্লী বিদ্যুতে টাকা জমা দিয়েছে। খুব দ্রুত সড়কের ওপর থেকে খুঁটি সরানো হবে। হরিণাকুণ্ডু উপজেলা প্রকৌশলী মো. রাকিব হাসান বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গত ১৮ মার্চ ঝিনাইদহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিকে টাকা পরিশোধ করেছে। ঈদের আগেই বৈদ্যুতিক খুটি সরানোর কাজ শুরু করবে বলে প্রতিষ্ঠানটি তাকে জানিয়েছে।
বিষয়টি জানতে হরিণাকুণ্ডু পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম প্রকৌশলী বালী আবুল কালামের বক্তব্য জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান থেকে টাকা জমা দিয়ে বৈদ্যুতিক পোল সরানোর আবেদন করেছে বলে তিনি শুনেছেন। এ জন্য ওই এলাকার কারেন্ট লাইন শাটডাউন করার জন্য তার কাছে বলা হয়েছে। আজকালের মধ্যে রাস্তার ওপর থেকে খুঁটি সরানোর কাজ শুরু হবে বলে তিনি জানান।
