ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শিমুল কুমার বিশ্বাস বলেছেন, ‘আদালতে বাদীর আসা-যাওয়ার ভোগান্তি কমিয়ে আনতে আদালতে আসা-যাওয়ার পথে এবং আদালত চত্বরে সাক্ষীদের নিরাপত্তা, ইনকোয়ারি বা ইনভেস্টিগেশনের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণ, সময়মতো মেডিকেল সার্টিফিকেট/ময়না তদন্ত প্রতিবেদন, ফরেনসিক, ভিসেরা রিপোর্ট প্রাপ্তিসহ যেকোনো ঘটনার রিপোর্ট দ্রæততম সময়ের মধ্যে দেওয়া উচিত। এসব রিপোর্ট যত দ্রæততম সময়ের মধ্যে পাওয়া যাবে, বিচার কার্য পরিচালনা করে রায় দেয়া তত দ্রæত সম্ভব হবে আদালতের।’
গতকাল শনিবার সকাল ১০টায় চুয়াডাঙ্গা জেলা জজ আদালত ভবনের সম্মেলন কক্ষে পুলিশ ম্যাজিস্ট্রেসি সভায় এসব কথা বলেন তিনি। সভাপতির বক্তব্যে চুয়াডাঙ্গা জেলার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শিমুল কুমার বিশ্বাস আরও বলেন, ‘আমাদের প্রধানত উদ্দেশ্য হলো আইনের বিভিন্ন ধারার এবং সেটা যথাযথ প্রয়োগের বিষয়ে আলোচনা করা। আমরা যদি সকলে আইন বিষয়ে ভালোভাবে জানতে পারি তাহলে মামলার কাজ এগিয়ে নেওয়া সহজ হবে।’
তিনি বলেন, ‘অনেক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও প্রতিমাসে যদি সম্ভব না হয়, তবুও দুই মাস পর পর নিয়মিত সভা করা হবে। আজকের মতো অংশগ্রহণের মাধ্যমে ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থার সব সমস্যা থেকে উত্তরণ সুন্দরভাবে করতে হবে।’
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার খন্দকার গোলাম মাওলা বলেন, ‘আজকের আলোচনায় খুব বেশি কঠিন বিষয় উঠে আসেনি। এখানকার নির্দেশনা সুন্দরভাবে পালন করতে হবে।’ তিনি পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘সব সময় সতর্ক থাকবেন। যেটা বুঝবেন না, সেটা বুঝে নিতে সমস্যা অনুভব করবেন না। নির্ভুলভাবে কাজ সম্পাদন করতে হবে। নিরাপত্তার ক্ষেত্রে আমি আদালতে আমার জনবল বৃদ্ধি করেছি। যে জনবল আছে তারা সতর্ক থাকবে। কেউ যদি অবহেলা করে, তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে। আদালতে যারা বিচরণ করবে, তারা যেন নিরাপদের সাথে বিচরণ করে। চুয়াডাঙ্গা জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক রাখার জন্য আমার সর্বোচ্চ প্রয়াস থাকবে। সকলের আন্তরিক সহযোগিতাও আমি পাই।’
সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিপন হোসেনের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কনক কুমার দাস, ৫৮ বিজিবির উপঅধিনায়ক ওবায়েদুর রহমান, ৬ বিজিবির সহকারী পরিচালক মো. হায়দার আলী, সিভিল সার্জনের প্রতিনিধি ডা. মো. আওলিযার রহমান, সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইয়াসমিন নাহার, সিনিয়র সহকারী জজ দেলোয়ার হোসেন, সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল ইসলাম, সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট লাভলী নাজনীন, জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মোস্তফা কামাল, জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর মো. মারুফ সারোয়ার বাবু, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর এস, এম, শাহজাহান মুকুল, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাঈদ মাহমুদ শামীম রেজা ডালিম, সাধারণ সম্পাদক মো. আহসান আলী, জেল সুপার দেওয়ান মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম, সিআইডি, চুয়াডাঙ্গার পুলিশ পরিদর্শক মীর মো. মনিরুল ইসলাম, ডিবির পুলিশ পরিদর্শক মো. মশিয়ার রহমান, প্রবেশন অফিসার মো. ছানোয়ার হোসেন, কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক মো. নাসির উদ্দিন, ট্র্যাফিক পুলিশ পরিদর্শক মো. আমিরুল ইসলাম, দর্শনা থানার ওসি মো. শহীদ তিতুমীর, দামুড়হুদা থানার ওসি মো. হুমায়ুন কবির, জীবননগর থানার পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) মো. আতিয়ার রহমান, আলমডাঙ্গা থানার ওসি মাসুদুর রহমান, ঝিনাইদহ পিবিআই পুলিশ পরিদর্শক মো. রোকনুজ্জামান প্রমুখ।
সভায় সমন জারি/ গ্রেপ্তারি/হুলিয়া ও ক্রোকি পরোয়ানা (পিএন্ডএ) তামিল/ দ্রæত প্রতিবেদন দাখিল, পুলিশ কর্তৃক মামলার সাক্ষী উপস্থিতকরণ, আদালতে আসা-যাওয়ার পথে এবং আদালত চত্বরে সাক্ষীদের নিরাপত্তা, ইনকোয়ারি বা ইনভেস্টিগেশন এর ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণ, সময়মত মেডিকেল সার্টিফিকেট/ময়না তদন্ত প্রতিবেদন/ফরেনসিক/ভিসেরা রিপোর্ট প্রাপ্তি, হুলিয়া জারি এবং সম্পত্তি জব্দ করার বিষয়ে দ্রæত প্রতিবেদন প্রাপ্তি, বিচারক ও ম্যাজিস্ট্রেটগণের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং আদালত চত্বরের নিরাপত্তা বিধান, সময়মতো মালখানা হতে আদালতে আলামত উপস্থাপন, বিচারাধীন আসামিদের জেলহাজত হতে আদালতে সময়মত উপস্থিতকরণ, পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেসির মধ্যে সমন্বয় ও সহযোগিতা, মামলা দ্রæত নিষ্পত্তির জন্য গ্রহণীয় পদক্ষেপ সমূহ, মামলায় জব্দকৃত আলামতের নিষ্পত্তি/ধবংসের ব্যবস্থাকরণ/নিলাম বিক্রয়ের বিষয়, পুলিশ রিমান্ড ও ফৌজদারী কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগের নির্দেশনা প্রতিপালন হচ্ছে কি না তা তদারকি, পারিবারিক মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিল, অপরাধী সংশোধন ও পুনর্বাসন সংক্রান্ত প্রবেশন বিষয়ে গ্রহণীয় পদক্ষেপ সমূহ বিষয়ে আলোচনা হয়।
