ছবির ক্যাপশন:
সমীকরণ ডেস্ক: আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে, একটি সুশৃঙ্খল নির্বাচনের পরিবেশ তৈরিতে কাজ করছে নির্বাচন কমিশন। এলক্ষে রাজনৈতিক দলের সাথে সংলাপ করছে নির্বাচন আয়োজনকারী সংস্থাটি। নিবন্ধিত ৪০টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ২৩টি দল ইসির সংলাপে অংশ নিয়েছে। বিভিন্ন দলের বিভিন্ন রকম প্রস্তাব থাকলেও সেনা মোতায়েন ও সহায়ক সরকার বা তত্ত্বাবধায়ক সরকারে ঐকমত্য হয়েছে অধিকাংশ দল। সংলাপে অংশ নেয়া দলগুলোর মধ্যে ১৪টি দল সেনা মোতায়েনের পক্ষে মত দিয়েছে এবং ১৭টি দল নির্বাচনের আগে সহায়ক সরকার বা তত্ত্বাবধায়ক গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে। এব্যাপারে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার আমার সংবাদকে বলেন, সুষ্ঠু-নিরপেক্ষ-গ্রহণযোগ্য অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানের স্বার্থে সংলাপে রাজনৈতিক দলসহ অংশীজনের কাছ থেকে সুপারিশের পাশাপাশি সহযোগিতাও চাওয়া হচ্ছে। সবার প্রস্তাব আমরা গ্রহণ করেছি। অধিকাংশ রাজনৈতিক দলের প্রস্তাব একই রকম। সংলাপ শেষ হলে আমরা সরকারের সাথে আলোচনা করব। ইসির সংলাপে সুধীজন, সাংবাদিক নেতা ও রাজনৈতিক দলের অনেকেই আগামী সংসদ নির্বাচনে সেনা সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি জানিয়েছে।
এ ব্যাপারে আপনার ব্যক্তিগত মতামত কিÑ এমন প্রশ্নে মাহবুব তালুকদার বলেন, সংলাপ শেষে সব রাজনৈতিক দল ঐকমত্যে পৌঁছলে আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
সংলাপে অংশ নেয়া দলগুলোর প্রস্তাব
বাংলাদেশ মুসলিম লীগ (বিএমএল): নির্বাচনের ৩০ দিন আগে ও নির্বাচনের পরের ১৫ দিন বিচারিক ক্ষমতাসহ সেনা মোতায়েন করার প্রস্তাব করে বিএমএল। এছাড়া কেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, প্রকাশ্যে ভোট গণনা শেষে প্রত্যেক প্রার্থীর এজেন্টের স্বাক্ষর নিয়ে ফল প্রকাশ করার দাবি জানায় দলটি।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ: নির্বাচনের আগে সেনা মোতায়েনের দাবি জানায় দলটি। এছাড়া সংসদ ভেঙে অর্ন্তবর্তীকালীন নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনি পরিবেশ তৈরি করা ও অনলাইনে মনোনয়ন দাখিলের সুযোগ দেওয়া।
বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট: সেনাবাহিনী মোতায়েনসহ ইসির অধীনে স্বরাষ্ট্র, জনপ্রশাসন ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় রেখে আগামী একাদশ নির্বাচন চায় দলটি।
বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি: নির্বাচনের ৮ দিন আগে সেনা মোতায়েনের প্রস্তাব দিয়েছে কল্যাণ পার্টি। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য ইসির সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটাধিকার প্রয়োগের ব্যবস্থা করা।
ঐক্যবদ্ধ নাগরিক আন্দোলন: সেনা মোতায়েনসহ কালো টাকা, সন্ত্রাস ও ধর্মের অপব্যবহারমুক্ত নির্বাচনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা; মনোনয়নপত্র অনলাইনে জমা দেওয়া।
খেলাফত মজলিস: নিরপেক্ষ অস্থায়ী সরকারের অধীনে নির্বাচন করা; নির্বাচনের আগে সংসদ ভেঙে দেওয়া ও সেনা মোতায়েন; নির্বাচনের সাত দিন আগে থেকে নির্বাচনের ৭২ ঘণ্টা পর পর্যন্ত সেনাবাহিনী মোতায়েন করা; অনলাইনে মনোনয়নের ব্যবস্থা করা; প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন ও প্রবাসীদের ভোটার করা।
বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ): নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার প্রতিষ্ঠা; তফসিল ঘোষণার আগেই সংসদ বিলুপ্ত ও বিচারিক ক্ষমতা দিয়ে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা।
বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন: বিচারিক ক্ষমতাসহ সেনা মোতায়েন; জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন বিলুপ্ত করা; বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত প্রার্থীর নামে গেজেট প্রকাশ না করে পুনরায় নির্বাচনের ব্যবস্থা করা এবং নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে করার প্রস্তাব দেয় দলটি।
বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি: নির্বাচনের তিন মাস আগ থেকে নির্বাচনের পরবর্তী কমপক্ষে এক মাস পর্যন্ত ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দিয়ে সেনাবাহিনী মোতায়েনের ব্যবস্থা করা। তফসিল ঘোষণার আগে সংসদ ভেঙে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধি নিয়ে সর্বদলীয় সরকার গঠন করা।
বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি: ভোটগ্রহণের কমপক্ষে ৮ দিন আগে সেনা মোতায়েন; সহায়ক সরকার; সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য ইসির সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটাধিকার প্রয়োগের ব্যবস্থা করা।
ঐক্যবদ্ধ নাগরিক আন্দোলন: নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনসহ কালো টাকা, সন্ত্রাস ও ধর্মের অপব্যবহারমুক্ত নির্বাচনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা ও মনোনয়নপত্র অনলাইনে জমা দেওয়া।
প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক পার্টি (পিডিপি): সেনাবাহিনীকে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত থেকে সাধারণ ভোটারদের ভোটদানের নিশ্চয়তার বিধান করা; পোলিং ও প্রিজাইডিং অফিসারদের নিরাপত্তা বিধানে সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার দিয়ে কেন্দ্রে অবস্থানের সুযোগ দেওয়া।
জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ: তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহাল, সেনাবাহিনী মোতায়েন করা, নির্বাচনের এক বছর আগে থেকেই রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য অবাধ সভা-সমাবেশ ও রাজনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালনার পরিবেশ তৈরিতে নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগ গ্রহণ করা; অবৈধ ও কালো টাকার মালিকরা নির্বাচনে যেন অংশগ্রহণ করতে না পারে সে ব্যবস্থা করা, প্রবাসীদের ভোটারধিকার নিশ্চিত করা।
জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা): নির্বাচনের ৩০ দিন আগে বিচারিক ক্ষমতাসহ সেনাবাহিনী মোতায়েন করা। নির্বাচনের সময় পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়া, নির্বাচনকালীন প্রধানমন্ত্রীর নির্বাহী ক্ষমতা বাতিল করে তিন মাসের অবকাশকালীন ছুটি দেওয়া, বাংলাদেশের নাগরিক অবসারপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা সাবেক বিচারপতি এবং দেশের বিশিষ্টজনদের সমন্বয়ে সৎ গ্রহণযোগ্য নির্দলীয় ব্যক্তি দ্বারা সরকার গঠন করা।
বাংলাদেশ মুসলিম লীগ: নির্বাচনের তিন মাস আগে সংসদ বিলুপ্ত করে ভোটের এক সপ্তাহ আগে বিচারিক ক্ষমতা দিয়ে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা, নিবন্ধিত প্রতিটি দলের একজন প্রতিনিধি নিয়ে নির্বাচনকালীন সরকারব্যবস্থা প্রবর্তন, কাস্টিং ভোটের পরিমাণ ৫০ শতাংশের কম হলে পুনঃনির্বাচন, ইভিএম ব্যবহার না করা, প্রতিটি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা বসানো, না ভোটের ব্যবস্থা না রাখা, জোটবদ্ধভাবে নির্বাচন করলেও দলের নিজ নিজ প্রতীকে নির্বাচন করা বাধ্যতামূলক করা, দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের নির্বাচনি দায়িত্ব না দেওয়া, রিটার্নিং কর্মকর্তাদের দায়িত্ব জেলা প্রশাসকের পরিবর্তে অতিরিক্ত জেলা জজদের নিয়োগ দেওয়া।
জাকের পার্টি: সেনা মোতায়েনসহ ইভিএম ব্যবহার, ইসির বাজেট বাড়ানোসহ ২৭ দফা প্রস্তাব দিয়েছে জাকের পার্টি।
গত ৩১ জুলাই সুশীলসমাজের প্রতিনিধিদের মাধ্যমে সংলাপ শুরু হয়। ২৪ আগস্ট থেকে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ শুরু হয়। এ পর্যন্ত ২৩টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠক শেষ হয়েছে। আগামী ১৫ অক্টোবর বিএনপি এবং ১৮ অক্টোর ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংলাপে বসবে ইসি। ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অন্যান্য দলের সঙ্গে সংলাপ চালিয়ে যাবে বলেও জানিয়েছে ইসি।
