ছবির ক্যাপশন:
ফুটবল জ্বরে কাপছে গোটা চুয়াডাঙ্গা : অপেক্ষা সেই মাহেন্দ্রক্ষণের
এসএম শাফায়েত: প্রস্তুত চুয়াডাঙ্গা জাফরপুরস্থ জেলা স্টেডিয়াম মাঠ। প্রস্তুত উদ্বোধনী ম্যাচের জন্য দুই দলও। এখন অপেক্ষা জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের পর্দা উঠার। অনেকটাই উৎসবের আমেজ গোটা জেলা জুড়ে। ফুটবল উন্মাদনায় কয়েকটি দিন কাটাতে ব্যস্ত সমর্থক-ভক্তরা। আজ চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর জেলা একাদশের মধ্যকার ম্যাচ দিয়ে মাঠে গড়াবে বহুল প্রতীক্ষিত জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০১৭।
দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় পর এমন একটি টুর্নামেন্ট জেলাবাসীর আনন্দ উৎসবের বাড়তি আমেজ সৃষ্টি করেছে। নক আউট ভিত্তিক খেলা হওয়ায় প্রথম ম্যাচেই জয়ের জন্য পাখির চোখ করে আছে স্বাগতিক চুয়াডাঙ্গা জেলা একাদশ। ইতিমধ্যে কয়েক দফা যাচাই বাছাই আর অনুশীলনের মাধ্যমে নিজেদেরকে ঝালিয়ে নিয়েছেন তারা। দলের এক্সট্রা প্রেসার হিসেবে যুক্ত করা হচ্ছে বিদেশী খেলোয়াড়দের। তবে ছাড় দিতে নারাজ মেহেরপুর শিবির। শুরুর ম্যাচেই নিশ্চিত জয়ের প্রত্যাশা তাদেরও। বিকাল পৌনে তিনটায় উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হবে চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর শক্তিশালী এ দু’টি দল।
স্টেডিয়ামের ভেতরে গোল করে তৈরি করা হয়েছে নিরাপত্তা বেষ্টনি। পৌর সভার পক্ষ থেকে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে লাগানো হয়েছে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা। উদ্বোধনীর দিন থেকে শেষদিন পর্যন্ত খেলাচলাকালীন সময়ে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে অস্থায়ী পুলিশ বক্স স্থাপন করা হয়েছে। গ্যালারি জুড়ে করা হয়েছে নানা রঙ। সবমিলিয়ে টুর্নামেন্ট উপলক্ষে সংস্কার কাজ শেষ করে এখন মোহনীয় সাজে সজ্জিত চুয়াডাঙ্গা জেলা স্টেডিয়ামও প্রস্তুত ম্যাচ আয়োজনের জন্য। চারপাশে ব্যানার-ফেস্টুন দিয়ে সাজানো হয়েছে। শহরের সড়কগুলোতে রঙ বেরঙের বিল বোর্ড, গেট/তোরণ তৈরি করা হয়েছে। সেজন্য ফুটবল জ্বরে রীতিমতো কাঁপতে থাকা চুয়াডাঙ্গা শহরটাকে একটু যেন অচেনাই লাগছে। এবার অপেক্ষা সেই মাহেন্দ্রক্ষণের।
এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় নিজ সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিং এ জেলা প্রশাসক ও টুর্নামেন্ট আহ্বায়ক জিয়াউদ্দীন আহমেদ জানান, অনুষ্ঠিতব্য জেলা ভিত্তিক এ টুর্নামেন্টের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। খেলার জন্য প্রস্তুত চুয়াডাঙ্গা জেলা স্টেডিয়াম। খুব অল্প সময়ের মধ্যে হলেও জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের সব আয়োজন সম্পন্ন করা হয়েছে। তিনি বলেন, টিকিটের দাম ধরা হয়েছে মাত্র ১০ টাকা এবং বাইসাইকেল ৫টাকা ও মোটরসাইকেল ১০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। স্টেডিয়ামে একসাথে খেলা দেখতে পারবে ১০ হাজার দর্শক।
শুভ উদ্বোধন কর্মসূচী অনুযায়ী; এ টুর্নামেন্টের শোভা বাড়াতে প্রতি দর্শকের হাতে জাতীয় পতাকা ও বেলুন প্রদান করা হবে। দুপুর আড়াইটায় প্রধান অতিথির আগমণ ও আসন গ্রহণ। পরে টুর্নামেন্টের অন্যতম আকর্ষণ ফুটবল মানবখ্যাত মাসুদ রানা মাঠ জুড়ে ফুটবল নিয়ে কারিশমা/কসরত দেখাবেন। টুর্নামেন্ট থিম সং’র সাথে ডিসপ্লে প্রদর্শন করবে সরকারি শিশু পরিবারের সদস্যরা। এরপর খেলোয়াড়দের মাঠে প্রবেশের মধ্যে দিয়ে জাতীয় সংগীতের সাথে সাথে শুভ উদ্বোধন করা হবে। খেলা শেষে একজনকে ম্যান অব দ্যা ম্যাচ প্রদান করা হবে।
চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল মোমেন সময়ের সমীকরণকে বলেন, ‘টুর্নামেন্ট উপলক্ষে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। উদ্বোধনের দিন থেকে শেষদিন পর্যন্ত প্রতিদিনই পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা বাহীনির সদস্যরা স্টেডিয়ামে দায়িত্ব পালন করবে। কোন প্রকার অপ্রিতিকর ঘটনা এড়াতে প্রবেশমুখে দর্শকদের দেহ তল্লাশী করা হবে।’
জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক নঈম হাসান জোয়াদ্দার বলেন, ‘মাঠটি মূলত ক্রিকেটের জন্য। ক্রিকেটের পিচ তুলে এটি এখন ফুটবলের উপযোগী করা হয়েছে। নতুন ঘাস ওঠার ব্যবস্থাও করেছি আমরা। সাত দিন আগেও যে মাঠটি ফুটবলের জন্য একেবারই অপ্রস্তুত ছিল, এখন সেটি মানসম্মত ম্যাচের জন্য তৈরি। তাই ভালো ফুটবল খেলার আশা করছেন সবাই।’
