কালীগঞ্জে রাইস ব্র্যান অয়েল কারখানার বর্জ্যে আক্রান্ত ২ বিঘা ধানখেত

আপলোড তারিখঃ 2025-02-21 ইং
কালীগঞ্জে রাইস ব্র্যান অয়েল কারখানার বর্জ্যে আক্রান্ত ২ বিঘা ধানখেত ছবির ক্যাপশন:

অনুমোদনহীন মজুমদার এগ্রোটেক ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড নামে একটি রাইস ব্র্যান অয়েল কারখানার ক্ষতিকারক বর্জ্য ও ময়লা আবর্জনায় তিন গ্রামের শত শত কৃষকের কপালে চিন্তার ভাজ পড়েছে। কারখানার কালো ধোঁয়া ও ছাই উড়ে শুধু জমির ফসলই ক্ষতি করছে না, আশপাশের বাড়িঘরে মানুষের বসবাস চরম ঝুঁকিপূর্ণ ও অস্বাস্থ্যকর হয়ে উঠেছে। শিশু ও বৃদ্ধরা নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। ঘরের জামা-কাপড় এমনকি খাবার খেতেও পারছে না কারখানা এলাকার মানুষ। এই মজুমদার এগ্রোটেক ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড রাইস ব্র্যান অয়েল কারখানাটি অবস্থিত ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার পিরোজপুর গ্রামে।

তথ্য নিয়ে জানা গেছে, ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে সুদীপ্ত মজুমদার নামে এক ব্যক্তি অত্যন্ত গোপনে কারখানাটি চালু করেন। চালুর আগে ও পরে তিনি পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সরকারের কোনো সংস্থার কাছ থেকেই অনুমোদন গ্রহণ করেননি। কারখানা এলাকা পরিদর্শন করে দেখা যায়, সেখানে রাইস ব্র্যান অয়েল উৎপাদন প্রক্রিয়ায় উচ্চ তাপমাত্রায় চালের কুঁড়া প্রক্রিয়াজাত করা হয়। ফলে কারখানা থেকে তেজস্ক্রিয় ক্ষতিকর গ্যাস নির্গত হচ্ছে। পরিবেশ ছাড়পত্র ছাড়াই কৃষকের ফসলি জমি ও গ্রামের পাশে কারখানাটি চালু হওয়ায় আশপাশের আবাদি জমি মারাত্মকভাবে দূষণের শিকার হচ্ছে।

স্থানীয় কৃষক সুবল রায় অভিযোগ করে বলেন, কারখানার বয়লার থেকে নির্গত ছাই ও রাসায়নিক মিশ্রিত বর্জ্য পানি আশপাশের খালে গিয়ে জমা হচ্ছে। এতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে তা উপচে ধানসহ অন্যান্য খেতের ফসল নষ্ট করছে। কৃষক শরিফুল ইসলাম বলেন, আমি প্রায় পাঁচ বিঘা জমিতে ধান লাগিয়েছিলাম। এখন সব নষ্ট হয়ে গেছে। কারখানার কালো পানির গন্ধ এতটাই তীব্র যে, জমির আশপাশে দাঁড়ানো যায় না।

কালীগঞ্জ উপজেলার বারোবাজার ইউনিয়নের পিরোজপুর, বাদেডিহী ও বাদুরগাছা গ্রামের বেশির ভাগ জানিয়েছেন, কারখানার ক্ষতিকারক বর্জ্য ও ময়লা আবর্জনায় তাদের প্রায় ২০০ বিঘা জমির ধান নষ্ট হয়ে গেছে। পিরোজপুর গ্রামের কৃষক রজব আলী ও আমির হোসেন জানান, কারখানার বর্জ্য ঢুকে তাদের শুধু ধান খেতই নয়, তিল ও ঝালের আবাদও নষ্ট হয়েছে। স্থানীয় ইউপি মেম্বার কলিম উদ্দীন জানান, ক্ষতিকারক বর্জ্য ও ময়লা আবর্জনার বিষয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে একাধিকবার লিখিতভাবে জানালেও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি।

কারখানার উত্তরে ৫০-৬০টি পরিবার বসবাস করেন। এই পরিবারের সদস্য মানিক কুমার, রঞ্জন কুমার ও জালাল হোসেন অভিযোগ করেন, মিলের ধোঁয়া ও ছাই ঘরে ঢুকে তাদের খাবার নষ্ট হচ্ছে। সাহারুন নেছা নামে এক মহিলা জানান, কালো ছাইয়ের কারণে পরনের কাপড় ও ঘরের বিছানাপত্র ঘর ঘন পরিষ্কার করতে হচ্ছে। এদিকে মিলটি দেড় বছরের বেশি সময় ধরে রাইস ব্র্যান অয়েল উৎপাদন করলেও ঝিনাইদহ পরিবেশ অধিদপ্তর মাত্র দুই মাস আগে তথ্য পেয়েছে। দপ্তরটি দুই দফা কারখানা পরিদর্শন করেও কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি।

স্থানীয় চাষি সবুর মালিতার ভাষ্যমতে কারখানা মালিক নিয়মিত মাসোহারা দিয়ে রাজনৈতিক নেতা ও প্রশাসনকে ম্যানেজ করে নির্বিঘ্নে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। আগে আওয়ামী লীগের স্থানীয় চেয়ারম্যান আবুল কালাম টাকা নিতো, এখন বর্তমান নেতারা নিচ্ছেন। অভিযোগ উঠেছে রাজনৈতিক চাঁদার পাশাপাশি ঝিনাইদহ পরিবেশ অধিদপ্তরকে মাসে ৭০ হাজার টাকা ঘুষ প্রদান করা হয়। সে কারণে পরিবেশ অধিদপ্তর এখনো কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। অবশেষে এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে কারখানাটি বন্ধ করে দিয়েছেন।

এ বিষয়ে কারখানাটির দায়িত্বে থাকা শংকর ও নন্দ কুমারের বক্তব্য জানতে চাইলে তারা বলেন, এখনো পর্যন্ত তাদের কোনো সরকারি অনুমোদন নেই। তবে তারা চেষ্টা করছেন পরিবেশ ছাড়পত্র নিয়ে আধুনিক আবাসন ব্যবস্থা তৈরি করে কারখানাটি আবার চালু করতে। ঝিনাইদহ পরিবেশ অধিদপ্তরের সিনিয়র কেমিস্ট মুনতাছির রহমান বলেন, গত দুই মাস আগে তথ্য পেয়েছি এবং সরজমিনে পরিদর্শন করে নোটিশ পাঠিয়ে কোনো সন্তোষজনক জবাব পায়নি। তিনি বলেন, কারখানা মালিককে পুনরায় নোটিশ করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অবৈধ মজুমদার এগ্রোটেক ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড কারখানার বিষয়ে জানতে চাইলে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) দেদারুল ইসলাম জানান, কারখানার কারণে এলাকার কৃষকের ক্ষতি হচ্ছে এমন কোনো তথ্য তার কাছে নেই। কেউ তাকে জানায়ও নি। তবে তিনি খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)