ছবির ক্যাপশন:
জীবননগরের বাঁকা ইউনিয়ন পরিষদের জৈব সার নিয়ে বিএনপির নামে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জীবননগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন খান খোকন ও সাধারণ সম্পাদক মো. শাহাজান আলী। গতকাল বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তারা এই কথা জানান।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘আপনারা নিশ্চয় অবগত আছেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি দেশ ও গণমানুষের জন্য রাজনীতি করে। বিএনপি দীর্ঘ ১৭ বছর ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের দমন-পীড়ন ও হামলা-মামলার শিকার হয়। অবশেষে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে সেই দানবী সরকার পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। বিএনপি একমাত্র আওয়ামী লীগ ও তার দোসর রাজনৈতিক দল ব্যতীত দেশের সকল রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে রাজনীতি করতে চায়। কিন্তু অতি সম্প্রতি সারাদেশের মতো চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায়ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ একটি দল বিএনপি বিরোধী রাজনীতি শুরু করেছেন। তারা বিএনপির বিরুদ্ধে মিথ্যা বানোয়াট মনগড়া কাহিনি সৃষ্টি করে অত্যন্ত কৌশলে সুযোগ নিচ্ছে এবং বিএনপি ও তার অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে রাজনৈতিক হীনস্বার্থ চরিতার্থ করিতেছে। তাদের এই হীন রাজনীতি দিন দিন এলাকার শান্ত রাজনীতির পরিবেশ অশান্ত করে তুলছে।’
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, আমরা অতিসম্প্রতি লক্ষ্য করছি, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিভিন্ন স্থানে সামাজিক ও রাজনৈতিক ছোটখাটো ঘটনাকে পুঁজি করে ঘটনার সাথে অতিরঞ্জিত ঘটনা যোগ করে রাজনৈতিক হীনস্বার্থ চরিতার্থ করতে বিএনপির বিরুদ্ধে অপপ্রচারে লিপ্ত হয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সম্প্রতি বাঁকা ইউনিয়ন পরিষদে কৃষকদের জন্যে ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে জৈব সার দেওয়ার জন্য একটি প্রকল্প তৈরি করা হয়। যা কোনো রাসায়নিক কিংবা সরকারি বরাদ্দকৃত সার না। আব্দুল কাদের প্রধান বাঁকা ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বে থাকাকালীন পিআইসির মাধ্যমে এগ্রোডায়মন্ড কোম্পানির কাছ থেকে ৬১২ বস্তা জৈব সার ক্রয় করে। পরবর্তীতে এগ্রোডায়মন্ড কোম্পানি ক্রয়কৃত সার ইউনিয়ন পরিষদের সেডে রেখে আসে। এই সার নিম্নমানের হওয়ায় কোম্পানিকে ফেরত নেওয়ার জন্য বলা হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত মঙ্গলবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে এগ্রোডায়মন্ড কোম্পানি ১২২ বস্তা সার পাওয়ারটিলারে করে ফেরত নিয়ে যাচ্ছিলো। এসময় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও স্থানীয় কয়েকজন সারের গাড়ি আটকিয়ে বিশৃঙ্খলা পরিবেশ তৈরি করে। এ ঘটনায় বিএনপিকে জড়িয়ে নানা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, প্রকৃত পক্ষে বিএনপির সাথে এ কোনো সম্পৃক্ততা নাই।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাঁকা ইউনিয়ন বিএনপির দুটি গ্রুপিং এর মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে দুই গ্রুপ থেকে ৪ জনকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
