ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সদের অবহেলায় ঢাকা ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন অব চুয়াডাঙ্গার (ডুসাক) সভাপতি মোস্তফা ইকবাল হৃদয়ের পিতার মৃত্যুর অভিযোগে তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ ১১টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় চুয়াডাঙ্গা জেলা সংগঠন। গতকাল বুধবার পৃথকভাবে তারা এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দেয়।
বিবৃতি তারা বলেন, চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সদের অবহেলায় ডুসাকের সভাপতি মোস্তফা ইকবাল হৃদয়ের পিতার মৃত্যুর ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ জানায়। এ ঘটনায় জড়িত ডা. মোর্শেদ, সিনিয়র স্টাফ নার্স রোমানা পারভীন, নাজমুন নাহার, ওয়ার্ডবয় শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করে অতিদ্রুত শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানায়। তারা চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসককে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানায়। কোনো ধরনের গাফিলতির অপচেষ্টা করা হলে তীব্র আন্দোলন ঘোষণার হুঁশিয়ারি দেন।
বিবৃতি দেওয়া পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১টি গঠন হলো- ঢাকা ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন অব চুয়াডাঙ্গা, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতি, সাত কলেজ চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রকল্যাণ পরিষদ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্র কল্যাণ পরিষদ, পাবলিক ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন অব চুয়াডাঙ্গা, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতি, ইসলামী ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন অব চুয়াডাঙ্গা, চুয়াডাঙ্গা অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়েট, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতি, এছাড়া রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের চুয়াডাঙ্গা জেলা সংগঠন।
মোস্তফা ইকবাল হৃদয় অভিযোগ করে বলেন, ‘গত শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় আমার বাবাকে জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। বাবার অবস্থা গুরুতর হওয়া সত্ত্বেও ডা. মোর্শেদ আলম চিকিৎসা দিতে দেড়ি করেন। বাবাকে অক্সিজেন দেয়ার জন্য অবজারভেশনে নেওয়া হলেও সেখানে কেউ ছিলেন না। ডাকাডাকির পর একজন ইন্টার্ন চিকিৎসক আসেন, কিন্তু তিনি সঠিকভাবে অক্সিজেন লাগাতে ব্যর্থ হন এবং বাবাকে ওয়ার্ডে নিতে বলেন। এসময় বাবার অবস্থায় আরোও জটিল হয়।’
হৃদয় আরও অভিযোগ করেন, ‘৬তলায় পুরুষ মেডিসিন ওয়ার্ডে নেওয়ার সময় লিফ্টের সামনে বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়। এমনকি জরুরি লিফ্টটিও বন্ধ ছিল। ওয়ার্ডে নেয়ার পর দায়িত্বপ্রাপ্ত দুজন নার্স অক্সিজেন দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেন, এটি তাদের কাজ নয়, ওয়ার্ডবয়কে খুঁজে এনে অক্সিজেন দিতে হবে। তারা অক্সিজেনসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিতে দেরি করেন। এবং তাদের চিকিৎসা শুরু করার মধ্যেই আমার বাবার মৃত্যু হয়।’
