দামুড়হুদা উপজেলায় সম্প্রতি বেড়েছে ধানচাষ ও উৎপাদন

আপলোড তারিখঃ 2024-12-23 ইং
দামুড়হুদা উপজেলায় সম্প্রতি বেড়েছে ধানচাষ ও উৎপাদন ছবির ক্যাপশন:

দামুড়হুদায় সম্প্রতি ধানের চাষ ও উৎপাদন বেড়েছে। তাই উৎপাদিত ধান এখন উপজেলার মানুষের খাদ্য চাহিদা পূরণ করে বাইরের জেলাগুলোতে রপ্তানি হচ্ছে। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, দামুড়হুদায় গত বোরো মৌসুমে ৯ হাজার ৫০ হেক্টর জমি থেকে ৬০ হাজার ৬৭ মেট্রিক টন ধান উৎপাদন হয়েছিল। আউশ মৌসুমে ১১ হাজার ৫২০ হেক্টর জমি থেকে ৫৮ হাজার ৮২৫ মেট্রিক টন ধান উৎপাদন হয়েছিল। এবং আমন মৌসুমে ৭ হাজার ৪৫০ হেক্টর জমি থেকে ৩৫ হাজার ৮০৮ টন ধান উৎপাদন হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শারমিন আক্তার বলেন, বছরে প্রায় ২ লাখ ১২ হাজার ৭ শ মেট্রিক টন ধান উৎপাদন হয় এ উপজেলায়। এর মধ্যে ১ লাখ ৪৭ হাজার মেট্রিক টন ধান থেকে ৯২ হাজার ৮২০ মেট্রিক টন চাল উৎপাদন হয়। এই উপজেলায় ২ লাখ ৮৯ হাজার ৫৭৭ জন মানুষ বসবাস করে। তাদের প্রতিদিন খাবার লাগে ৪৪২ গ্রাম করে। ৪৪২ গ্রাম খাবারের মধ্যে গম ও অন্যান্য ২০% লাগে প্রতিজন মানুষের জন্য। সেই হিসেবে প্রতিদিন দামুড়হুদা উপজেলার মানুষের জন্য প্রতিদিন ১ হাজার ২৮৭ মেট্রিক টন খাবার প্রয়োজন। ফলে এ উপজেলায় মাসে মোট জনসংখ্যার জন্য খাবার লাগে ৩৮ হাজার ৬১০ মেট্রিক টন। এর মধ্যে বছরে ২০০ মেট্রিক টন গম উৎপাদন হয়। এটি ২০% হার ধরে মোট ৪৪২ গ্রাম খাবার প্রতিজন মানুষের জন্য।

``

তিনি আরও বলেন, তবে প্রতিবছর এ উপজেলায় ২২০ মেট্রিক টন উৎপাদিত গমের ২০ মেট্রিক টন গম বাইরের জেলায় চলে যায়। ফলে বছরের ৪৬ হাজার ৭৭ দশমিক ৪৯ মেট্রিক টন চাল ও ২০০ মেট্রিক টন গম দিয়ে এ উপজেলার মানুষের খাদ্য চাহিদা মিটিয়ে বাইরের জেলা-উপজেলাগুলোতে ৪৬ হাজার ৭৪৩ মেট্রিক টন চাল ও ২০ মেট্রিক টন গম চলে যায়।

খাদ্য পরিদর্শক ইব্রাহিম খলিল্লাহ জানান, সরকারিভাবে এ বছর ৩৩ টাকা দর ধরে ৫০২ মেট্রিক ধান এবং ৪৭ টাকা দর ধরে ২২৫ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত বছর ৪৫ টাকা দরে চাল ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪১৪ মেট্রিক টন। সেখানে শেষ পর্যন্ত ৩৯৬ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহ সরকারি দর্শনা গোডাউন কর্তৃপক্ষ। এছাড়া ৩২ টাকা দরে ধান ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১১ শত ১ মেট্রিক টন। সেখানে ৮০৫ মেট্রিক টন ধান ক্রয় করা হয়।
এছাড়া দামুড়হুদা উপজেলায় ৫৮ জন আড়তদার রয়েছে। দর্শনা বাসস্ট্যান্ড মোড়ের আড়তদার আমিনুল ইসলামের নিকট কী পরিমাণ ধান ক্রয় করেন, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি দীর্ঘ ৩৮ বছর ধরে আড়তদারী করি। এখন সারা বছর ধান উৎপাদন হচ্ছে। আমি প্রতিবছর ১৫-১৬ মেট্রিক টন ধান করে থাকি এবং বিভিন্ন চাল মিলে বিক্রি করে থাকি। এসব এলাকা হলো কুষ্টিয়া খাজানগর, ঝিনাইদহ জেলার ডাকবাংলো, চুয়াডাঙ্গা জেলার সরোজগঞ্জ ও জীবননগর মিল মালিকদের নিকট ধান ক্রয় করে নিয়ে যায়।’ ধান্যঘরা গ্রামের আড়তদার জামাত আলী বলেন, ‘আমি প্রতিবছর ১৭-১৮ টন ধান ক্রয় করে থাকি।’

চলতি মৌসুমে বিঘা প্রতি কী পরিমাণ ধান উৎপাদন হয়, বেশ কিছু কৃষকের নিকট জানতে চাইলে উপজেলার পারকৃষ্ণপুর-মদনা ইউনিয়নের পারকৃষ্ণপুর গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক বলেন, চলতি বছর আমি ১৪ কাঠা জমি থেকে সাড়ে ১৪ মণ ধান পেয়েছি।’ একই গ্রামের মুক্তার আলীর ছেলে আবু বক্কর বলেন, ‘আমি ৫ বিঘা খাটোবাবু ও লাল স্বর্ণ ধান চাষ করেছিলাম। বিঘা প্রতি ২০-২১ মণ হারে উৎপাদন হয়েছে।’

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)