ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার গড়াইটুপি ইউনিয়নের বিত্তিরদাড়ি গ্রামে (বিএডিসি) সেচ প্রকল্পের কাজ নিয়ে দুই পক্ষের মুখোমুখি অবস্থায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। যেকোনো সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিত্তিরদাড়ি গ্রামের আব্দুস সাত্তার ও আব্দুল কাদের মিয়া গ্রুপের মধ্যে এ অবস্থা বিরাজ করছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গড়াইটুপি ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বিত্তিরদাড়ি গ্রামের নাজিমুদ্দিনের ছেলে আব্দুস সাত্তার হোসেন ও একই গ্রামের মৃত মোক্তার হোসেনের ছেলে আব্দুল কাদেরের লোকজন মুখোমুখি অবস্থায় রয়েছে। গড়াইটুপি গ্রামের মৃত খলিলুর রহমানের ছেলে মোমিন ইসলাম বিএডিসির অগভীর নলকূপ স্থাপনের লাইসেন্স করেন। ওই লাইসেন্সটি মালিকানা স্ট্যাম্পে হস্তান্তর করেন আব্দুল কাদের মিয়ার নামে। কিন্তু তিনি ওই প্রকল্পের কাজ করতে গিয়ে বাঁধার সম্মুখীন হন। বিষয়টি সমাধান নিয়ে দর্শনা থানায় দুপক্ষের লোকজন উপস্থিত হলেও কোনো সমাধান হয়নি। চলছে দুপক্ষের মধ্যে বাগবিতন্ডাসহ হুমকি-ধমকি।
একই গ্রামের আব্দুস সাত্তার হোসেন তাদের কাজে বাঁধা প্রদান ও পল্লী বিদ্যুৎ কর্মকর্তাকে রামদা হাতে ধাওয়া দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু অভিযোগ অস্বীকার করে আব্দুস সাত্তার হোসেন বলেন, লাইসেন্সের বিধিমালা অনুযায়ী নলকূপের স্থান বা মালিকানা পরিবর্তন বা হস্তান্তর করা সম্পূর্ণ আইন পরিপন্থি। এছাড়াও এক বছরের বেশি সময় অতিক্রম করায় লাইসেন্সটি বাতিল বলে গণ্য হবে বলে বিধিমালায় উল্লেখ রয়েছে। তারা বিধিমালা অমান্য করে কাজ করছে। আর আমার জমির ওপর দিয়ে বৈদ্যুতিক লাইন টানতে দেব না। এতে আমার ক্ষতি হবে। এ জন্যই আমি বাঁধা দিয়েছি।
অপর দিকে আব্দুল কাদের বলেন, ‘লাইসেন্সটি গড়াইটুপির মোমিনুল ইসলাম নামের একজনের কাছ থেকে মালিকানা হস্তান্তর লিখিত স্ট্যাম্প করে নিয়েছি। আমি তার জমির ওপর দিয়ে বৈদ্যুতিক লাইন নেব না বলে বৈদ্যুতিক খাম্বা কিনে অন্য পাশ দিয়ে ঘুরিয়ে আমার জমি দিয়ে নিয়ে যাবো। তাতেও বাঁধা দিচ্ছে সাত্তার। আমার সব কাগজপত্র সঠিক থাকার পরেও পল্লী বিদ্যুতের লোকজন আসলে সাত্তার জোরপূর্বক বাঁধা প্রদানসহ ক্ষমতা দেখিয়ে হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। আমার অনেক টাকা-পয়সা খরচ হয়েছে। আমি তার সুষ্ঠু বিচার চাই।’
এদিকে, এই ঘটনায় গ্রামের দুপক্ষের লোকজনের মধ্যে টান টান উত্তেজনা বিরাজ করছে। তারা মুখোমুখি অবস্থায় রয়েছে। তাই বিষয়টি প্রতি প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন গ্রামের সাধারণ মানুষ। সেচ প্রকল্পটি স্থাপন হলে চাষাবাদে অনেক সুযোগ-সুবিধা পাবেন বলে জানান তারা।
