চুয়াডাঙ্গায় তাপমাত্রার পারদ প্রতিদিনই নিচের দিকে নামছে। গতকাল শনিবার সকাল ছয়টা ও নয়টায় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা এ মৌসুমে গতকাল শনিবার পর্যন্ত রেকর্ড হওয়া সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। এর আগে গত শুক্রবার রেকর্ড হয় ১৩ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সীমান্তবর্তী এই জেলার মানুষ এখন অনুভব করছে শীতের প্রকোপ। আগামী দিনগুলোতে তাপমাত্রা আরও কমার পূর্বাভাস দিচ্ছে আবহাওয়া অফিস। এদিকে, ক্রমশ নিচে নামতে থাকা এই তাপমাত্রা স্থানীয় বাসিন্দাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় প্রভাব ফেলছে। বাড়ছে শ্রমজীবী মানুষের ভোগান্তি।
অন্যদিকে, শীতের এই পর্যায়ে খেজুরের রস সংগ্রহ এবং গুড় তৈরিতে ব্যস্ততাও বেড়েছে গাছিদের। সকাল-সন্ধ্যায় তারা গাছ থেকে খেজুরের রস সংগ্রহে ছুটছেন। স্থানীয়দের মতে, এই সময়টায় গুড় তৈরির কাজ তাদের বাড়তি আয় এনে দিলেও ঠান্ডায় কাজ করতে গিয়ে শারীরিক কষ্ট বাড়ছে।
চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক দিনে এ জেলার তাপমাত্রা ১৩ থেকে ১৭ ডিগ্রির মধ্যে ওঠানামা করছে। তবে এবার তা আরও কমে যাচ্ছে। বাতাসের আর্দ্রতাও কিছুটা বেশি থাকায় ঠান্ডার অনুভূতিও প্রবল হচ্ছে। শীত আরও তীব্র হলে চুয়াডাঙ্গায় শৈত্যপ্রবাহের সম্ভাবনাও রয়েছে। এর আগে গত বুধবার (৪ ডিসেম্বর) চুয়াডাঙ্গায় মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১৩ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। পরদিন বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) তাপমাত্রা ১৪ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ওঠে। তবে গত শুক্রবার তাপমাত্রা কমে দাঁড়ায় ১৩ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। যা ছিল শুক্রবার পর্যন্ত মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা।
চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী হাসিবুর রহমান বলেন, ‘নভেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকে চুয়াডাঙ্গায় শীত পড়তে শুরু করলেও পহেলা ডিসেম্বর পর্যন্ত ডিনের বেলায় শীত অনুভূত না হলেও সকাল ও বিকেলের পর থেকে ঠান্ডা লাগতে শুরু করে। মানুষ মধ্যে নভেম্বরে আগে থেকেই প্রয়োজনীয় শীতবস্ত্রের ব্যবহার শুরু করেন। তবে গত কয়েকদিন ধরে তাপমাত্রা ক্রমশ নিচে নেমে যাচ্ছে। এই তাপমাত্রা যত কমবে আমাদের ভোগান্তি ততই বাড়বে।’
পৌর এলাকার বুজরুক গড়গড়ি এলাকার একজন গাছি সাহিন। তিনি বলেন, ‘আমরা মধ্য নভেম্বরের আগে থেকেই খেজুর থেকে রস সংগ্রহ শুরু করেছি। নভেম্বরের শুরুতেই গাছ প্রস্তুতসহ রস সংগ্রহ ও গুড় তৈরির যাবতীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়।’ তিনি বলেন, ‘এখন শীত যত বাড়বে, রস তত মিষ্টি হবে এবং এর পরিমাণও বাড়বে। একইসঙ্গে অধিক পরিমাণ গুড় তৈরি করাও সম্ভব ববে।’
শীতের এই কাজ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘২০ বছরের বেশী সময় ধরে রস সংগ্রহ করে গুড় তৈরি করছি। নিজের বাগান না থাকায় চুক্তিকে মালিকের থেকে খেজুর গাছ পরিচর্যা ও গুড় তৈরি শুরু করেছেন তিনি।
এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ জামিনুর রহমান বলেন, ‘কয়েকদিন ধরেই জেলার তাপমাত্রা দ্রুত কমছে। আগামী ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নেমে যেতে পারে। এবং এরপর তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’ জামিনুর রহমান বলেন, ‘এ জেলার ওপর দিয়ে প্রতি বছরই শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যায়। তাপমাত্রা কমে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্তও নেমে যাওয়ার রেকর্ড রয়েছে। তাই শীত মোকাবেলায় সকলকে পূর্ব থেকে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।’
