ঝিনাইদহে ভুল চিকিৎসায় প্রসূতির মৃত্যু!

আপলোড তারিখঃ 2024-12-01 ইং
ঝিনাইদহে ভুল চিকিৎসায় প্রসূতির মৃত্যু! ছবির ক্যাপশন:

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ডাকবাংলা নার্সিং হোম অ্যান্ড নূর জাহান ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গত শুক্রবার মধ্যরাতে ভুল চিকিৎসায় প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্লিনিক মালিক রোগীর স্বজনদের সঙ্গে মৃত্যুর ঘটনা ধামাকা দিতে ৪ লাখ ২০ হাজার টাকায় রফা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিহত প্রসূতি রোকসানা (২৫) উপজেলার সাধুহাটি ইউনিয়নের সাধুহাটি এলাকার সল্টু মিয়ার মেয়ে।
স্বজনদের অভিযোগ, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে রোকসানাকে সিজারের জন্য ডাকবাংলা নার্সিং হোম অ্যান্ড নূর জাহান ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নেওয়া হয়। ক্লিনিকে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে দ্বিতীয় সন্তানের জন্ম দেন তিনি। অপারেশনের কয়েক ঘণ্টা পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোকসানার অবস্থা ভালো নেই বলে জানান। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নেওয়ার কথা বলেন তারা। কিন্তু ওই হাসপাতালেই রোকসানা মারা যাওয়ার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিজেরাই অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে মৃত রোকসনাকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে পাঠায়।

এ ঘটনা ধামাচাপা দিতে ভুক্তভোগীদের সাথে চার লাখ ২০ হাজার টাকায় মীমাংসা করা হয় । রোকসানার ছোট ভাই শিহাব ও বোন লিমা খাতুন অভিযোগ করে বলেন, ‘আমরা দ্বিতীয় সিজারের জন্য কাজলের ক্লিনিকে গেলে তারা সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেই তাকে ওটিতে (অপারেশন থিয়েটার) নিয়ে যান এবং অপারেশন করেন। অপারেশনের প্রায় ১ ঘণ্টা পর তাকে বেডে নিয়ে আসে। বেডে রাখার পরপর তার খুব খিঁচুনি উঠে এবং শ্বাস কষ্ট শুরু হয়। একপর্যায়ে ক্লিনিকের ডাক্তারকে ডাকলে তিনি একটা ইনজেকশন পুশ করেন। ইনজেকশন পুশ করার পরপরই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে রোকসানা।

রোকসানার স্বামী শিমুল বলেন, আমার স্ত্রীকে তারা হত্যা করেছে। আমার দুই ছেলে। বড় ছেলে ইয়াসিন ইসলাম ইসাত তার বয়স প্রায় আট বছর আর একজনের বয়স দুই দিন। এখন আমি কী করবো। সুতরাং তাদের শাস্তি চাই।
এ বিষয়ে ডাকবাংলা নার্সিং হোম অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সজলের বক্তব্য জানতে তাঁকে একাধিক বার ফোন করেও তাকে পাওয়া যায়নি। চিকিৎসক রাকিবুল হাসান বলেন, একজন রোগী মারা গেছে বলে শুনেছি। কিন্তু এটা পোস্ট অপারেটিভের কোনো ঝামেলায় হয়তো মারা গেছে। অ্যানেস্থেসিয়া কোনো সমস্যা ছিল না।

এ বিষয়ে ডাকবাংলা দোকান মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুর রহমান কামাল বলেন, বিষয়টি সকালে শুনেছি এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও স্থানীয় পুলিশ ক্যাম্পের এসআই ও টু-আইসি বসে চার লাখ ২০ হাজার টাকায় মীমাংসা করেছে। নগদ ৭০ হাজার আর এক মাসের সময় নিয়ে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকার চেক দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে ঝিনাইদহ সদর থানা অফিসার ইনচার্জ(ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, আমরা এখনো কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ বিষয়ে ঝিনাইদহের সিভিল সার্জন ডা. হাদী জিয়া উদ্দিন বলেন, আমি ছুটিতে আছি। রোববার তদন্ত সাপেক্ষ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনা প্রমাণ হলে ওই ক্লিনিক সিলগালা করে দেওয়া হবে।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)