স্থানীয় নেতা ইকরামুলের বিরুদ্ধে যুবককে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ

আপলোড তারিখঃ 2017-09-24 ইং
স্থানীয় নেতা ইকরামুলের বিরুদ্ধে যুবককে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গা গাড়াবাড়িয়ায় পরকীয়া সম্পর্ক নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে বিবাদমান বিরোধের জের এমএস রানা: চুয়াডাঙ্গা সদরের গাড়াবাড়িয়া গ্রামে পরকীয়া সম্পর্কের বিষয় নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে বিবাদমান বিরোধের জের ধরে গতকাল শনিবার রাতে দেলোয়ার হোসেন নামের এক যুবককে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় নেতা ইকরামুল হক ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে। এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, গাড়াবাড়িয়া মসজিদপাড়ার শান্তি মিয়ার বিবাহিত মেয়ের সাথে পরকীয়া সম্পর্কে ছিল একই এলাকার মৃত রহমত মন্ডলের কলেজপড়–য়া ছেলে দেলোয়ার হোসেনের। সম্পর্কের এক পর্যায়ে কিছুদিন আগে শান্তি মিয়ার মেয়ের সাথে আপত্তিকর অবস্থায় ধরা পড়ে হেনেস্তা হতে হয় দেলোয়ারকে। বিষয়টি শুধু গ্রামের মধ্যেই থাকেনি তা থানা পুলিশ পর্যন্তও যায়। সে সময় উভয়কে থানায় তলব করে আপোষ মিমাংসা করে দেওয়া হয়। এরপর একদিন মসজিদপাড়ার মোড়ে ছেলুনে চুল কাটাতে গিয়ে দেলোয়ারের এক সহপাঠীর সাথে বিষয়টি নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। এ সময় সেখানে দাড়িয়ে থাকা ইকরামুলের সাথেও কথা কাটাকাটিতে জড়িয়ে পড়ে দেলোয়ার। একপর্যায়ে দেলোয়ার গাড়াবাড়িয়ার জিল্লু মেম্বারের ছেলে সোহাগ ও চাচাতো ভাই রকিকে সেখানে ডেকে নিয়ে আসলে উভয়ের মধ্যে মারমূখী উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ইকরামুলকে মারতে বেশ কয়েকবার ছুটে যায় দেলোয়ার ও তার সহযোগিরা। মোড়ে কয়েকশ মানুষ জমায়েত হয়ে গেলে ইকরামুল তার মোটরসাইকেল নিয়ে সেখান থেকে চলে যায়। গতকাল শনিবার সন্ধ্যা রাতে এ ঘটনার জের ধরে ইকরামুলসহ ১৫-২০টি মোটরসাইকেলযোগে ৪০-৪৫ জন লোক দেশীয় অস্ত্র-সস্ত্র নিয়ে মসজিদপাড়া মোড় থেকে দেলোয়ারকে তুলে নিয়ে যায়। রাত গভীর হলেও ছেলের খবর না পাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়ে তার পরিবার। রাত সাড়ে ১০টার দিকে একটি মোবাইল থেকে দেলোয়ার তার পরিবারকে বলে ‘আমাকে আটকে রাখা হয়েছে। মেরে ফেলার হুমকী ধামকী দেওয়া হচ্ছে। পুলিশ না নিয়ে এদের কথা মত আমাকে নিতে এসো; সাথে একটা স্ট্যাম্প নিয়ে এসো।’ এ কথা জানান দেলোয়ারের মা। পরে আর কিছু স্বীকার করতে চাননি দেলোয়ারের মা বা তার পরিবারের কেউ। তবে তারা বার বার একটা কথাই বলে, ‘ইকরা আমাদের ছেলেকে তুলে নিয়ে গেছে। কেনে নিয়ে গেছে; কোথায় নিয়ে গেছে জানিনা’। এ ব্যাপারে ইকরামুল হকের সাথে কথা বলা হলে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করলেও এক পর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে সময়ের সমীকরণ প্রতিবেদকের সাথে খারাপ আচরণ শুরু করেন। তিনি বলেন, ‘আমি তোর কাছে জবাব দেবো না; তুই ভূয়া সাংবাদিক, তুই কী করবি আমার। যার কাছে জবাব দেওয়ার তার কাছে দেবো। আর আমি অন্যয়ের প্রতিবাদ করি; কাউকে ভয় পাইনা। আমি একজন চেয়ারম্যান ক্যান্টিডিয়েট; ২০১১ সালে আমি কত ভোট পেয়েছি তুই জানিস।’ এ ঘটনায় গভীর রাত পর্যন্ত গ্রামবাসীদের খন্ড খন্ড আলোচনা সমালোচনা আর চায়ের কাপে ঝড় তুলতে দেখা গেছে গ্রামবাসীর। তাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় গাড়াবাড়িয়া এলাকায় অনেকটা থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। চুয়াডাঙ্গা সদর থানার এসআই সুমন সরকার বলেন, ‘গাড়াবাড়িয়া গ্রাম থেকে একজনকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এমন খবর পেয়ে ওসি স্যারের নির্দেশে রাতেই আমরা ওই গ্রামে যায়। সেখানে গিয়ে জানতে পারি দেলোয়ার নামের ওই ছেলেটি তার মোবাইল থেকে গ্রামের এক লোকের মোবাইলে জানায় তাকে প¦ার্শবর্তী মোজাম্মেল হকের আমবাগানে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। রকি ও সোহাগকে যদি এখানে আনতে পারে তবে ইকরামুল তাকে ছেড়ে দেবে। এ সংবাদ পেয়ে সঙ্গীয় ফোর্স ও গ্রামবাসীদের সাথে নিয়ে ওই মাঠে যায়। কিন্তু সেখানে তাকে পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে ছেলেটির পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোন অভিযোগ করা হয়নি।’

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)