ছবির ক্যাপশন:
‘আমি দুধ দিয়ে গোসল করার পর থেকে অনেকে নানা কথা বলছে। বন্ধুরা মজা করে বলছে তুই কি ভাইরাল হওয়ার জন্য দুধ দিয়ে গোসল করেছিস?’ দর্শনার রুদ্রনগরের সবুজ মিয়া আক্ষেপ করে বলেন, ঢাকা থেকে এক ভাবি বলল, সবুজ তো এখন ফেরেশতা হয়ে গেলি! এমন নানা ধরনের মন্তব্য শুনতে হচ্ছে তাকে। তবে সবুজের জন্য এই কাজটি ছিল ব্যক্তিগত, একটি আত্মশুদ্ধির প্রতীক, যা তিনি তার স্ত্রীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের পর করেছেন।
২০১৮ সালে ৮ বছরের প্রেমের পর সবুজ মিয়া বিয়ে করেন। ২০২২ সালে তাদের ঘরে আসে একটি ফুটফুটে কন্যাসন্তান। শুরুতে সবকিছু ভালোই চলছিল। কিন্তু বিয়ের দেড় বছরের মাথায় সবুজের স্ত্রী আলাদা থাকার দাবি জানায়। চলতি বছরের গত ২৯ সেপ্টেম্বর সবুজের হাতে আসে স্ত্রীর পাঠানো তালাকনামা, যা ছয় বছরের সংসার জীবনের সমাপ্তি ঘটায়। সবুজ বলেন, ‘আমি সত্যিই আমার স্ত্রীকে ভালোবাসতাম। কখনও ভাবিনি যে সে এভাবে আমার সঙ্গে এমন আচরণ করবে।’ অতীতের ভুল থেকে নিজেকে শুদ্ধ করার জন্যই তিনি দেড় মণ দুধ দিয়ে গোসল করার সিদ্ধান্ত নেন। যা এখন রুদ্রনগরের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘বিয়ে করে প্রথমে ঢাকায় গিয়ে আমরা সাড়ে চার বছর ভালোভাবেই সংসার করেছি। কিন্তু গ্রামে ফিরে আসার পর শুরু হয় অশান্তি। আমার স্ত্রী আমাকে মানসিকভাবে কষ্ট দিত। আমি সবসময় তার চাহিদা পূরণের চেষ্টা করেছি, কিন্তু সে আমাকে মানসিক অশান্তিতে রাখতো।’
সবুজ জানান, গত ২৯ সেপ্টেম্বর তালাকের নোটিশ পাওয়ার পর তিনি ভেঙে পড়েন। তখন দুধ দিয়ে গোসল করে নিজেকে শুদ্ধ করে তোলার অনুভূতি মনে আসে। তিনি বলেন, ‘আমি খুব খুশি, মনে হলো পাপ মুক্ত হলাম। কারণ দেড় বছর ধরে আমার নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাকে ও আমার পরিবারকে অনেক ভোগান্তি সহ্য করতে হয়েছে।’
এদিকে, দুধ দিয়ে গোসল করার খবর ছড়িয়ে পড়তেই শত শত মানুষ ভিড় জমায় রুদ্রনগরের সবুজ মিয়ার বাড়িতে। স্থানীয়রা জানায়, বিয়ের পর থেকেই সবুজের স্ত্রী তার শ্বশুর-শাশুড়ীর সঙ্গে একসাথে থাকতে রাজি ছিল না। দীর্ঘদিনের অশান্তির পর মামলা এবং বিচ্ছেদের মাধ্যমে সবুজ মুক্তি পান। এখন সবুজ তার বাবা-মা ও বোনের সঙ্গে বসবাস করছেন।
