ছবির ক্যাপশন:
জীবননগর উপজেলার বেনীপুর বাজারে মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আলফাজ উদ্দিন (২৫) নামের এক যুবককে নির্মম নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি মাদক ব্যবসায়ীদের ফেনসিডিলের একটি চালান ধরিয়ে দেওয়ার সন্দেহে তাকে নির্যাতনের অভিযোগ করা হচ্ছে। গত শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত তাকে নির্যাতন করা হয়। এ ঘটনায় জীবননগর থানায় ওই যুবক একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
জীবননগর উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নের মেদিনীপুর মাঝপাড়ার কৃষক আবুছার আলী বিশ্বাসের ছেলে আলফাজ উদ্দিন বলেন, ‘আজ থেকে ৯-১০ মাস আগে নাকি বেনীপুর গ্রামের আজিজুল হকের ছেলে রাজু ও মৃত জয়নাল আবেদীনের ছেলে ইকতাদের ফেনসিডিলের একটি চালানসহ তাদের একজনকে আন্দুলবাড়ীয়া এলাকায় জীবননগর থানা-পুলিশ আটক করে। সেই ঘটনা আমার জানা না থাকলেও রাজু ও ইকতাসহ তাদের সহযোগীরা আমাকে শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বেনীপুর বাজারে আটকিয়ে বেধড়ক মারপিট করেন। তারা আমার মোবাইল ফোনটিও কেড়ে নেওয়ার কারণে আমি কারো সাথে যোগাযোগ করতে পারিনি। রাজু ও ইকতা আমাকে মারধর করে আর বলে তুই পুলিশের সোর্স। তুই আমাদের মাল (ফেনসিডিল) ও আমাদের লোককে পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে দিয়েছিস। তাতে আমাদের ৩ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে। ওই টাকা তোকে দিতে হবে। পরে তারা রাত সাড়ে ৮টার দিকে আমাকে বেনীপুর বাজারে হাফিজুল মুহুরির ঘরে নিয়ে যায় এবং সেখানে ফাঁকা স্টাম্পে আমার সাক্ষর নিয়ে বলে টাকা দিতে না পারলে তোর বাড়ি থেকে গরু-ছাগল যা আছে সব ধরে আনা হবে এবং স্ট্যাম্প দিয়ে মামলায় ঝুলানো হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি আতঙ্কের মধ্যে আছি। আমি ঘটনার কিছু জানি না, অথচ তারা আমাকে সন্দেহ করে অত্যাচার-নির্যাতন করছে। এ ঘটনায় আমি জীবননগর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।’
প্রত্যাক্ষদর্শীরা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আলফাজকে বিকেলে আটকানোর পর রাতে ছেড়ে দেয়। শোনা গেছে, মাদকের চালান ধরিয়ে দেওয়ার অপরাধে আলফাজ উদ্দিনকে বেনীপুরের রাজু ও ইকতাসহ তাদের লোকজন মারপিট করেন।
সীমান্ত ইউনিয়ন পরিষদের ওই ওয়ার্ডের মেম্বার আরিফুল ইসলাম আরিফ বলেন, ‘ঘটনাটি আমি শুনেছি। কিন্তু ঘটনাটি মাদক সংক্রান্ত হওয়ায় আমরা কিছু বলতে চাইনি।’ জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস এম জাবীদ হাসান বলেন, ঘটনার ব্যাপারে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। মাদক ব্যবসায়ীরা কোনোভাবেই ছাড় পাবে না।
