ছবির ক্যাপশন:
দামুড়হুদা উপজেলায় এক সময় বন—বাদাড়ে পাখির কলরবে গ্রাম বাংলার মানুষের ভোর বেলায় ঘুম ভাঙতো। কালের আবর্তে হারিয়ে যাচ্ছে বন—জঙ্গল ও পাখিরা। সেই সাথে হারিয়ে গেছে নানা রং ও বর্ণের পাখির ডাক ও সুমধুর গান। মাঠে মাঠে ছিল বাবলা গাছ, ঘন বাঁশের ঝাড়, এবং রাস্তার পাশে ও মোড়ে মোড়ে বড় বড় বটবৃক্ষ। সেখানে পাখিরা নিরাপদে বাসা বেঁধে বসবাস করতো। বর্তমানে সেই সব বন—বাঁদাড় যেমন হারিয়ে গেছে, তেমনই হারিয়ে গেছে নানা রং ও বর্ণের শত শত প্রজাতির পাখি।
এসব পাখির মধ্যে রয়েছে বউ কথা কও, কানা—কুয়ো, টুনটুনি, ফিঙে রাজা, ঘরিয়াল, শ্যামা, দোয়েল, কোয়েল, কোকিল, লেজ ঝোলা, চড়ুই, টিয়াপাখি, ঘুঘু, নানা বর্ণের বক, নানা বর্ণের শালিকসহ শত শত প্রকারের পাখি। বর্তমানে যেসব পাখি প্রকৃতির সাথে যুদ্ধ করে টিকে আছে, তারা একটু নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য গাছপালা খুঁজে ফেরে। সেই আশ্রয় না পেয়ে এক বুইচেতলা মাঠের রাস্তার পাশে একটি মরা গাছে ১২টি বাসা বেঁধে আশ্রয় নিতে দেখা যায়।
আগের দিনে মাঠে মাঠে কাটাযুক্ত বাবলা গাছকে নিরাপদ আশ্রয় হিসাবে ফিঙে রাজা, শালিক, ঘুঘু পাখি বাসা বেঁধে বাচ্চা তুলতো। কিন্তু মাঠ থেকে বাবলা গাছ হারিয়ে যাওয়ায় এই পাখিরা নিরাপদে বাচ্চা তুলতে পারছে না এবং ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে। ফলে গ্রাম বাংলায় এখন আর শোনা যায় না বিভিন্ন প্রকারের পাখির কলরব। মাঠে আধুনিক চাষাবাদ ও মানব সভ্যতার যাতাকলে পড়ে বড় বড় গাছ ও বন—জঙ্গল হারিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে প্রকৃতিতে হারিয়ে গেছে নানা রং ও বর্ণের পাখি। যার কারণে পৃথিবীর পরিবেশের ভারসাম্য দিনে দিনে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে দামুড়হুদা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা নীলিমা আক্তার হ্যাপী জানান, মাঠে গাছপালা ও বন—জঙ্গল হারিয়ে যাওয়ার কারণে পাখিরা নিরাপদ অভয়ারণ্য পাচ্ছে না। ফলে এসব নানা রং ও বর্ণের পাখি দিনে দিনে বিলুপ্তির পথে এগিয়ে যাচ্ছে।
