ছবির ক্যাপশন:
হঠাৎ কোরিয়ার আকাশে মার্কিন যুদ্ধবিমান
সমীকরণ ডেস্ক: উত্তর কোরিয়া লাগাতার যুদ্ধের হুমকি দেয়া বন্ধ না করলে দেশটি পুরোপুরি ধ্বংস করে দেয়া হবে বলে হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, এখনো সময় আছে সংযত হওয়ার। জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশন শুরুর ঠিক আগে এমন হুমকি দেন তিনি। এদিকে, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের আগে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চলমান উত্তেজনার মধ্যে দেশটির কাছে যৌথ নৌ-মহড়া শুরু করেছে চীন ও রাশিয়া। সংবাদসূত্র : এএফপি অনলাইন, বিবিসি, রয়টার্স, সিনহুয়া
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, উত্তর কোরীয় সরকারের প্রতি কঠোর অবস্থান নেয়ার কথা জানিয়েছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি। বক্তব্য রাখার সময় তার পাশে ছিলেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেমস ম্যাটিস। তাই স্বাভাবিকভাবেই ওয়াশিংটনের হুমকির পর আলোড়ন ছড়িয়েছে বিশ্বজুড়ে। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই সোমবার শুরু হয়েছে জাতিসংঘের ৭২তম সাধারণ অধিবেশন।
উত্তর কোরিয়ার লাগাতার ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ও পরমাণু পরীক্ষায় চিন্তিত প্রতিবেশী রাষ্ট্র দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান। পরিস্থিতি নিয়ে এই দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তারপরই এসেছে উত্তর কোরিয়াকে সম্পূর্ণ ধ্বংসের হুমকি।
জানা গেছে, জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশন থেকেই কিম জং-উনকে অবরুদ্ধ করতে সব ধরনের পদক্ষেপ নিতে চেষ্টা করবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। কিউবা ও ভেনেজুয়েলার মতো দেশের সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। তাই তাদের ওপরও চাপ সৃষ্টি করা হবে। কারণ তীব্র মার্কিনবিরোধী অবস্থান নিয়েছে এই দুই রাষ্ট্র। তবে চীনের ভূমিকা নিয়ে সন্দেহ দানা বাঁধছে। যদিও উনের পরমাণু পরীক্ষা ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের কঠোর সমালোচনা করেছে চীন। জাতিসংঘ সাধরণ পরিষদের অধিবেশনে বেইজিং কোনদিকে অবস্থান নেয় সেটাই এখন দেখার বিয়য়।
যদিও বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, মার্কিন হুমকিকে বিন্দুমাত্র গ্রাহ্য করছেন না উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উন। তিনি যেভাবে দেশের পরমাণু বিজ্ঞানীদের উৎসাহ দিয়ে প্রস্তুত থাকতে বলেছেন, তাতে সমস্যা আরও ঘনীভূত হয়েছে। আশঙ্কা জাতিসংঘের সংঘের অধিবেশন থেকেই পিয়ংইয়ংকে দেয়া হুমকি পর আরও ক্রুদ্ধ হয়ে উঠতে চলেছেন উন।
উত্তর কোরিয়ার আকাশে মার্কিন যুদ্ধবিমান:- উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যখন টানটান অবস্থা বিরাজ করছে ঠিক সেই সময় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করে উত্তর কোরিয়ার আকাশে মহড়া দিয়েছে মার্কিন যুদ্ধবিমান। সোমবার উত্তর কোরিয়ার আকাশে চারটি এফ-২৫ যুদ্ধবিমান ও দুটি বি-ওয়ান বোমারু বিমান উড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই খবর জানিয়েছে। পিয়ংইয়ংয়ের হুমকির মুখে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া যৌথভাবে শক্তি প্রদর্শন করতেই এই বিমান মহড়া চালিয়েছে বলে জানা গেছে। গত ৩ সেপ্টেম্বর উত্তর কোরিয়া তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী পরমাণু অস্ত্রের পরীক্ষা চালানোর পর এই প্রথম যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এই ধরনের মহড়া চালানো হলো। মহড়ায় মার্কিন যুদ্ধবিমানের পাশাপাশি ছিল দক্ষিণ কোরিয়ার এফ-১৫ কে যুদ্ধবিমান। এর আগে ৩১ আগস্ট দুই দেশ একইভাবে বিমান উড়িয়েছিল। আগেই হুশিয়ারি দেয়া হয়েছিল, উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে যেকোনো মুহূর্তে সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে আমেরিকা। যদি পিয়ংইয়ংয়ের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা পরমাণু ও ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা বন্ধে ব্যর্থ হয় তবে সামরিক পদক্ষেপ নেয়ার কথা ভাববে ওয়াশিংটন। এমনটাই জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দেয়া হুশিয়ারিতে বলা হয়, উত্তর কোরিয়াকে বারবার এই বিষয়ে শান্ত থাকতে বলা হচ্ছে। এমনকি, আলোচনার মাধ্যমেও সমস্যা সমাধান করার কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু তা না করে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছে উত্তর কোরিয়া। কিন্তু নতুন নিষেধাজ্ঞা না মানলে উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানো ছাড়া আর কোনো উপায় খোলা থাকবে না বলে হুশিয়ারি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
চীন-রাশিয়ার যৌথ নৌ-মহড়া: এদিকে, উত্তর কোরিয়ার কাছে যৌথ নৌ-মহড়া শুরু করেছে চীন ও রাশিয়া। সোমবার দেশটির পাশে দুই সাগরে এই নৌ-মহড়া শুরু হয়। রাশিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় বন্দর ভস্নাদিভস্তকের উপকূলে রাশিয়া-উত্তর কোরিয়া সীমান্তের কাছে পিটার দ্য গ্রেট উপসাগর অবস্থিত অপরদিকে ওখটস্ক সাগরের অবস্থান জাপানের উত্তর দিকে। এই দুই সাগরেই চলে মহড়া। মহড়াটি চলতি বছরে চীন-রাশিয়ার যৌথ মহড়ার দ্বিতীয় পর্ব। প্রথম পর্বের নৌ-মহড়াটি জুলাইয়ে রাশিয়ার পশ্চিম উপকূলের বাল্টিক সাগরে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। উত্তর কোরিয়াকে নিয়ে চলমান উত্তেজনার সঙ্গে এই মহড়ার সরাসরি কোনো সম্পর্ক আছে, এমন কিছু বলা হয়নি।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার তিন সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো জাপানের ওপর দিয়ে 'ব্যালিস্টিক' ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে উত্তর কোরিয়া। এর আগে ৩ সেপ্টেম্বর দেশটি ষষ্ঠবারের মতো পারমাণবিক বোমার পরীক্ষামূলক বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে; যাকে এখন পর্যন্ত দেশটির চালানো সবচেয়ে শক্তিশালী পারমাণবিক বোমা বলে মনে করা হচ্ছে। ওই পারমাণবিক পরীক্ষার জেরে দেশটির ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। এই নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরপরই জাপানের ওপর দিয়ে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে প্রতিক্রিয়া জানায় দেশটি।
