ছবির ক্যাপশন:
এলাকার উন্নয়নে নানামুখি উদ্যোগে প্রশংসিত চেয়ারম্যান জাকারিয়া আলম
আওয়াল হোসেন: দামুড়হুদা উপজেলার পারকৃষ্ণপুর মদনা ইউনিয়ন আদর্শ ইউনিয়ন হিসাবে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছে। দেশের শ্রেষ্ট ইউনিয়নের দাবী রেখে চলছে বলে অনেকেই মনে করছেন। পারকৃষ্ণপুর মদনা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এসএএম জাকারিয়া আলম জানান, বিচার শালিস এর ক্ষেত্রে এ ইউনিয়নের সুনাম রয়েছে। দীর্ঘদিনের পুরাতন জমিজমার বিরোধের সমাধান, গ্রাম্য নানা ঘটনাসহ গত ১০ বছরে প্রায় দেড় হাজার গ্রাম্য বিরোধ ও সমস্যার সমাধান করেছি। বর্তমানে এ ইউনিয়নের মার্ডার কেস (হত্যা মামলা) ছাড়া অন্য কোন মামলা কোর্টে (আদালতে) যায় না। রাত দিন যে কোন সমস্যায় চেয়ারম্যানের দ্বার খোলা থাকে ইউনিয়নবাসীর জন্য।
তিনি বলেন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি, বাসস্থান, বিদ্যুত, রাস্তাঘাটের উন্নয়ন ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার দিক থেকে এগিয়ে রয়েছে এ ইউনিয়নে কোন মানুষ। ঢুকতে গেলেই চোখে পড়বে বিভিন্ন লোকেশনে রয়েছে কোন গ্রামের দুরত্ব কত দূর তার সাইন বোর্ড লেখা আছে। ইউনিয়নের সড়কগুলো ৫৩ জন মৃত্যু ও যুদ্ধহত মুক্তিযোদ্ধাদের নামে নামকরণ করা হয়েছে। চিকিৎসার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পল্লী উন্নয়ন কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে ওয়েভ ফাউন্ডেশের সহযোগিতায় প্রতিটি পরিবারে স্বাস্থ্য ও পরিস্কার পরিছন্ন, এমবিবিএস ডাক্তারের মাধ্যমে প্রতিমাসে ৪টি করে স্যাটেলাইট ক্লিনিকের মাধ্যমে স্বল্পমুল্যে ৩০ টাকায় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া বিনামুল্যে বছরে ৪টি স্যাটেলাইট ক্যাম্পের মাধ্যমে হার্টের চিকিৎসা, চক্ষু, নাক-কান গলা, গাইনী ও চর্ম রোগের চিকিৎসা প্রদান করা হয়। বছরে ১৪ জন রোগীকে চোখের ছানি পড়া ও চোখ অপারেশন করা হয় এ সংস্থার মাধ্যমে। এ ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রামে বিদ্যুৎ সংযোগ রয়েছে। এমনকি বিদ্যুৎ না থাকলে ইউনয়নের নিরাপত্তার জন্য রাস্তার মোড়ে মোড়ে ৩২টি স্থানে সোলার বিদ্যুৎ এর ব্যবস্থা করা হয়েছে। ইউনিয়ন কৃষি কর্মকর্তাকে পরিষদে একটি রুম দেওয়া হয়েছে সেখান থেকে এবং মাঠে মাঠে ঘুরে ঘুরে কৃষি পরার্মশ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। শিক্ষার প্রসার ঘটাতে বড়বলদিয়া গ্রামে একটি স্কুল এ্যান্ড কলেজের মাধ্যমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলা হয়েছে।
এছাড়া কামারপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বিশাল বিশাল বিল্ডিং করা হয়েছে। সেখানে শিক্ষার পাশাপাশি বন্যা ও টর্নেডো ও দুর্যোগের সময় এলাকার মানুষ আশ্রয় নিতে পারবে। এছাড়া মদনা, কামার পাড়া ও বড়বলদিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৩টি এবং জিরাট, সাড়াবাড়িয়া ও ছয়ঘরিয়া গ্রামে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩টি শহীদ মিনার নির্মান করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধরে রাখতে হৈবতপুর গ্রামে একটি দর্শনীয় ৫ জন শহীদ মুক্তিযোদ্ধার স্মৃতিফলক নির্মান করা হয়েছে। সীমান্ত ঘেষা এ ইউনিয়নের চোরাচালান কমাতে বিজিবিসহ চেয়ারম্যান নানা পদক্ষেপ নিয়ে থাকেন। এছাড়া ইউনিয়নে সকল মানুষ ইন্টারনেটের সকল সুবিধা পাচ্ছে। বিভিন্ন অনুষ্ঠান করার জন্য ইউনিয়ন চত্বরে একটি মঞ্চ নির্মান করা হয়েছে। ইউনিয়নের সকল সড়ক পথ পিচঢালা। মাত্র ৩কিলো মিটার মেঠোপথ কাঁচা। ফলে এ পারকৃষ্ণপুর-মদনা ইউনয়ন পরিষদ শুধুমাত্র দামুড়হুদা উপজেলা নয়, জেলার বাইরে এমনকি দেশের একটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইউনিয়ন পরিষদের দাবি করছেন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এসএএম জাকারিয়া আলম।
