চুয়াডাঙ্গা হরিশপুরে গ্রাম্য সালিশে বেধড়ক মারপিটের ঘটনায়
নিজস্ব প্রতিবেদক: চুয়াডাঙ্গা সদরের বেগমপুর ইউনিয়নের হরিশপুরে পরকীয়ার অভিযোগ তুলে বাপ-ছেলে ও গ্রাম পুলিশকে বেধড়ক পিটিয়ে জখমের ঘটনায় সদর থানায় বকুল বাদী হয়ে ৬ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেছে। আসামীরা হল হরিশপুরের মোমিনের ছেলে জসিম, তার স্ত্রী সালমা, হজে মোল্লার ছেলে আশাদুল, ঝড়– মন্ডলের ছেলে মোমিন, মোহাম্মদ আলীর ছেলে সাইফুল ও অক্ষর মন্ডলের ছেলে হান্নান ওরফে বাংলা। এরমধ্যে পরকীয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত সালমা, তার স্বামী জসিমকে গ্রেফতার দেখিয়ে জেল-হাজতে পাঠানো হয়েছে। বাকী আসামীদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার রাত ১০টায় বেগমপুর ইউনিয়নের হরিশপুর দক্ষিণপাড়ায় একই গ্রামের রবিউলের ছেলে কাচাঁমাল ব্যবসায়ী বকুল (২৭) এর তার চাচাতো ভাই জসিমের স্ত্রী সালমার সাথে পরকীয়ার অভিযোগ তুলে সালিশ ডাকে গ্রামের মাতবরেরা। সালিশে সালমা চুপ থাকলেও বকুল পরকীয়ার কথা অস্বীকার করে। এসময় একই গ্রামের উত্তরপাড়ার মৃত হযরত আলী ওরফে হজে মোল্লার ছেলে আসাদুল (৪০), দক্ষিণপাড়ার ঝাড়– মন্ডলের ছেলে মোমিন (৩৫), মৃত অক্ষর আলীর ছেলে হান্নান ওরফে বাংলা ও মাহাম্মদ আলীর ছেলে সাইফুল (৩০) সালিশের মধ্যে আচমকা বকুলের উপর হামলা করে। এসময় বকুলের পিতা রবিউল তাদের থামাতে গেলে তারা রবিউলকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। এছাড়া সালিশে উপস্থিত গ্রাম্য পুলিশ আমিনুল বকুলের চাচা হওয়ায় তাকে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করা হয়। এসময় গ্রাম পুলিশ আমিরুল পরিহিত ইউনিফর্মের বোতাম ও ব্যাজ হোল্ডার ছিড়ে যায়। পরে গ্রামবাসী আহত তিনজনকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।
এদিকে, আসাদুল ও হান্নান ওরফে বাংলাসহ তাদের সাঙ্গপাঙ্গদের বিরুদ্ধে প্রভাব খাটিয়ে মাঝেমধ্যে এধরনের সালিশ আয়োজন করে বিভিন্নজনের উপর দোষ চাপানোর অভিযোগও নতুন নয়।
