দামুড়হুদা উপজেলার পারকৃষ্ণপুর-মদনা ইউনিয়নের
বিশেষ প্রতিবেদক: চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার পারকৃষ্ণপুর-মদনা ইউনিয়নের একটি গ্রাম পারকৃষ্ণপুর। গ্রামটিতে গেলেই চোখে পড়বে মুক্তিযোদ্ধা শাহার আলী সড়কের নামফলক। খানিক দূর এগোলেই দেখা যাবে মুক্তিযোদ্ধা তমছের আলী সড়কের নামফলক।
শুধু এ দুটি সড়ক নয়, ইউনিয়নের ৫৩ জন বীর মুক্তিযোদ্ধার নামে এলাকার ৫৩টি গ্রামীণ সড়কের নামকরণ করা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান জাকারিয়া আলম গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে হৈবতপুর গ্রামে পাঁচ শহীদ স্মৃতিস্তম্ভের পাশে আয়োজিত মুক্তিযোদ্ধা-জনতার সমাবেশ থেকে এসব সড়কের নাম ঘোষণা করেন। এর আগে তিনি মুক্তিযোদ্ধা শাহার আলীর নামফলক উন্মোচন করেন।
জাকারিয়া আলম বলেন, পরিষদের সভায় এই নামকরণের সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছে। তিনি ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ২ লাখ ৬৫ হাজার টাকা খরচে এই নামফলকগুলো স্থাপন করেছেন। তিনি আরও বলেন, ‘আজ (গতকাল) স্থানীয় শহীদ দিবস পালিত হচ্ছে। ১৯৭১ সালের এ দিনে সম্মুখ সমরে পাঁচজন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। তাঁদের স্মরণে, দিবসটি স্মরণীয় করে রাখতে এবং মুক্তিযোদ্ধার অবদানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে ৫৩টি সড়কের নামকরণ করা হয়েছে। আগামী প্রজন্ম এই সড়কের নামের সূত্র ধরেই মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের জানতে পারবে।
এদিকে স্থানীয় শহীদ দিবস উপলক্ষে সকাল ৯টায় পাঁচ শহীদের স্মৃতিস্তম্ভে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ ও ইউপি চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। এর আগে শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রা শেষে শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন এবং জাতীয় ও কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়।
বিকেলে স্মৃতিস্তম্ভের পাশে মুক্তিযোদ্ধা-জনতার সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। জাকারিয়া আলমের সভাপতিত্বে সমাবেশে ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট কমান্ডার তমছের আলী, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি বরকত আলী ও সাধারণ সম্পাদক মোন্তাজ আলী বক্তব্য দেন। বক্তারা মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য সব মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। সেই সঙ্গে পারকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ৫৩ জন মুক্তিযোদ্ধার নামে সড়কের নামকরণ করায় ইউপি চেয়ারম্যানকে ধন্যবাদ জানানো হয়।
নিজের নামে সড়কের নামকরণ হওয়ায় আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন মুক্তিযোদ্ধা সাইদুর রহমান। ছোট বলদিয়া গ্রামের এই মুক্তিযোদ্ধা বলেন, ‘আগে স্থানীয় লোকজন এবং পথচারীরা যাকে তেমাথা সড়ক বলে চিনত, এখন থেকে সবাই সেই সড়কটিকে আমার নামে চিনবে।’
ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার তমছের আলী বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে বিশেষ করে শহরগুলোতে মুক্তিযোদ্ধাদের নামে একাধিক সড়ক আছে। কিন্তু ইউনিয়ন পর্যায়ে সব মুক্তিযোদ্ধার নামে সড়ক তৈরির ঘটনা এটাই প্রথম। এই উদ্যোগের মধ্য দিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের নাম সবাই জানতে পারবেন।
