ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া অতি তীব্র তাপপ্রবাহের ফলে গবাদি পশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন দামুড়হুদা ও জীবননগর উপজেলার কৃষকেরা। তাই তাপপ্রবাহে গুরু-মহিষের অস্বস্তি কমাতে কলা গাছ খেতে দেওয়া হচ্ছে। এতে এ অঞ্চলে কলা গাছের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। কৃষক ও খামারিরা বিভিন্ন মাঠ থেকে কলাগাছ সংগ্রহ করছেন। গতকাল রোববার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত দামুড়হুদা ও জীবননগর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এ দৃশ্য চোখে পড়ে।
জীবননগর উপজেলার রাঙ্গিয়ারপোতা গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে আমজাদ হোসেন উথলী মাঠ থেকে ইজিবাইকযোগে বেশ কয়েকটি কলাগাছ নিয়ে যাচ্ছিলেন। তীব্র গরমে কাটা কলাগাছ কি হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, গো-খাদ্যের মূল্যে বৃদ্ধি হাওয়ায় কলা গাছ চুরিয়ে গরুকে খেতে দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, আমার ৩টি গরু আছে। গো-খাদ্যের মূল্যে বৃদ্ধি হওয়ায় গরু পোষা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ছে। কলা সংগ্রহের পর কৃষকেরা কলা গাছ খেতের ফেলে দেয়। সেখান থেকে নিয়ে আসি। টাকা দিয়ে কলা গাছ কিনতে হচ্ছে না। তাপদহে আঁশ জাতীয় হওয়ায় ও প্রচুর পানি থাকায় গরুর জন্য কলাগাছ ভালো খাদ্য। শুধু আমি নয় জেলার সব জায়গাতেই কৃষকেরা বর্তমানে গরু মহিষকে কলা গাছ খওয়াচ্ছেন।
শুধুমাত্র আমজাদ হোসনে নয়, বাইসাইকেল, ভ্যান, নছিমন, করিমনসহ বিভিন্ন যানে কৃষক ও চাষিদের গবাদি পশুর জন্য কলা গাছ সংগ্রহ করতে দেখা যায়।

এদিকে, তাপদাহ থেকে কিছুটা স্বস্থি দিতে যুবদের উদ্যোগে পথচারীদের বিনা মূল্যে শরবত খাওয়াতেও দেখা যায়। গতকাল জীবননগর উপজেলার কালা গ্রামের যুবকদের উদ্যোগে পথচারীদের থামিয়ে লেবু শরবত খাওয়াতে দেখা যায়। স্বজল, তুহিন, রিফাত, আজিম, আসিফ ও তাবরীর তারা নিজেদের অর্থ খরচ করে এ শরবত খাওয়ানো উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
দামুড়হুদা প্রাণিসম্পদ অফিসার শামীম আহমেদ বলেন, গরমে গরু-মহিষকে কলা গাছ খাওয়ালে কোনো ক্ষতি নেই। তবে গরু-মহিষের খাবারের অভাব দেখা দিলে কৃষকেরা গরু-মহিষের কলাগাছ খাওয়ায়। তাপদহে কলাগাছ খাওয়ানো ভাল। কলা গাছে প্রচুর পানি থাকে।
