ছবির ক্যাপশন:
নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গায় পৃথকস্থানে গলায় ফাঁস দিয়ে কিশোরী ও এক যুবকের আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে সদর উপজেলার আলুকদিয়া ও সরোগঞ্জের জলিবিলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরিবারের সদস্যরা তাদের উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন। নিহত দুজন হলেন আলুকদিয়া ইউনিয়নের মনিরামপুর গ্রামের ভ্যানচালক রাজন আলীর মেয়ে ও আলুকদিয়া রোমেলা খাতুন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী মনিকা (১৪) ও জলিবিলা গ্রমের শাহাবুদ্দিনের ছেলে আব্দুল হামিদ (৩০)।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল মনিরামপুর গ্রাম থেকে মনিকা প্রতিবেশীদের সঙ্গে পিকনিকে যেতে চেয়িছিল। কিন্তু ৫০০ টাকা চাদা ও মনিকাকে একা না যেতে দিতে চাওয়ায় পরিবারের সদস্যদের ওপর অভিমান করে সে নিজ ঘরে ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দেয়। পরে ঘরের ভেতর মনিকাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে তার মা চিৎকার করে। এসময় প্রতিবেশীদের সাহায্যে মনিকার ভাই তাকে উদ্ধার করে সদর হাপসতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরিবারের অভিযোগ না থাকায় ও লিখিত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়ায় লাশ হস্তান্তর করে সদর থানা-পুলিশ। গতকাল রাত ১০টায় আলুকদিয়ার রাজাপুর কবরস্থানে জানাজা শেষে মনিকাকে দাফন করা হয়।
মনিকার বড় ভাই মাসুদ রানা বলেন, কিছুদিন আগে মনিকাকে রোমেলা খাতুন স্কুলে ভর্তি করে দিয়েছিলাম। আজ (গতকাল) প্রতিবেশীদের সঙ্গে সে পিকনিকে যেতে চেয়েছিল। কিন্তু বাড়ি থেকে নিষেধ করায় সে রাগ করে। এছাড়া তার মাথায়ও সদস্যা ছিল।
অপরদিকে, পারিবারিক কলহের জেরে গতকাল দুপুর ১২টার দিকে নিজ বাড়িতে গলায় ফাঁস দেন আব্দুল হামিদ। দুপুরে পরিবারের সদস্যরা টের স্থানীয়দের সাহায্যে দরজা ভেঙে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সরোজগঞ্জ বাজারের একজন চিকিৎসকের কাছে ও পরে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেয়। এসময় জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে আব্দুল হামিদকে মৃত ঘোষণা করেন।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক হাসানুর রহমান বলেন, বেলা ২টার পর পৃথক সময়ে মনিকা ও আব্দুল হামিদ নামের দুজনকে জরুরি বিভাগে আনা হয়। দুজনকেই জরুরি বিভাগে মৃত অবস্থায় পেয়েছি। হাসপাতালে আনার পূর্বেই তাদের মৃত্যু হয়। অপমৃত্যুর বিষয়ে সদর থানাকে অবগত করা হয়েছে।
সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন বলেন, নিহত কিশোরী মনিকাকে পিকনিকে যেতে না দেওয়ায় সে রাগ করে আত্মহত্যা করে। এছাড়া আব্দুল হামিদ নামের অপর এক যুবক আত্মহত্যা করেছেন। দুটি ঘটনাতেই থানায় পৃথক অপমৃত্যুর মামলা রেকর্ড হয়েছে। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ না থাকায় ও লিখিত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়ায় তাদের লাশ দাফনের অনুমতি দিয়ে হস্তান্তর করা হয়েছে।
