ছবির ক্যাপশন:
জীবননগর অফিস:
ভোরে মানুষ যখন ঘুমিয়ে থাকে, তখন জীবননগর পৌর শহর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার জন্য ঝাড়ু হাতে বেরিয়ে পড়েন হরিজন সম্প্রদায়ের সদস্যরা। অন্যদের চলাচলের জন্য রাস্তাঘাট পরিষ্কার করলেও তাদের থাকার জন্য কোনো ঘর নেই। তারা দীর্ঘদিন ধরে জীবননগর পৌর শহরের মাংস বাজারের মধ্যে পরিবার-পরিজন নিয়ে কোনো রকম বসবাস করছেন। দিনের বেলা নারীরা কিছু বাড়িতে থাকলেও সেখানে চলাচলের নেই কোনো ব্যবস্থা। দুই শতক জমিতে বসবাস করেন প্রায় ৫০টি পরিবার। যার ফলে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা। সরকারিভাবে ভূমিহীনদের জমি ও ঘর দিলেও তাদের নাম দেয়নি কোনো জনপ্রতিনিধি।
জানা গেছে, জীবননগরে হরিজন সম্প্রদায়ের অনেক পরিবার ভূমিহীন থাকলেও মিথ্যা তথ্য দিয়ে এ উপজেলা ভূমিহীন মুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। এদিকে নিজেদের বসবাসের জন্য একটি ঘর পাওয়ার আসাই গতকাল বুধবার সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বরে উপস্থিত হয়ে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য আলী আজগার টগরের কাছে জোর দাবি জানান এ সম্প্রদায়ের সদস্যরা। এসময় এমপি টগর বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখার জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও জীবননগর পৌরসভার মেয়রকে নির্দেশ প্রদান করেন।
হরিজন সম্প্রদায়ের সদস্য তারা মনি বলেন, ‘আমরা বাপ-দাদার আমল থেকে জীবননগরে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করে আসছি। এখন আমাদের ছেলে বউ, নাতনী হয়ে গেছে। একটা ঘরের জন্য আমরা মেয়র সাহেবকে কতবার বলেছি, কোনো কাজ হয়নি। আমরা ভূমিহীন। আমাদের কোনো জমি নাই, কোনো ঘর নাই। যখন ভোট আসে, তখন সবাই আমাদের ভোট নেওয়ার জন্য মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে থাকে। কিন্তু কেউ এখন পর্যন্ত আমাদের মাথা গোজার ঠাঁই ঘর দেয়নি। এমনকি আমরা কোথাও ঘর ভাড়া নিতে গেলেও আমাদের কেউ ঘর ভাড়া দিতে চায় না। যেখানে রাত, সেখানেই আমাদের থাকতে হয়। অনেক সময় মানুষজন আমাদের তাড়িয়ে দেয়। আমরাও তো মানুষ। আমাদের তো বাঁচার অধিকার আছে। আমরা সরকারের কাছে অনুরোধ করছি, যেন আমাদের মাথা গোজার মতো এক টুকরা জমি ও ঘরের ব্যবস্থা করে।’
জীবননগর পৌরসভার মেয়র মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, হরিজন সম্প্রদায়ের সদস্যরা ভূমিহীন। তারা পৌরসভার মাংস বাজারের মধ্যে সীমিত জমির মধ্যে অনেক লোকজন নিয়ে দীর্ঘদিন বসবাস করে আসছে। তাদের যে দাবি, সেই দাবি অনুযায়ী আমি জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট কথা বলেছি। আশা করি, খুব তাড়াতাড়ি তাদের একটা নিরাপদ বাসস্থানের ব্যবস্থা হবে।
এ বিষয়ে জীবননগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) তিথি মিত্র বলেন, হরিজন সম্প্রদায় হলেই যে তারা ভূমিহীন হবে, এটা ঠিক না। যদি তারা ভূমিহীন হয়, তাহলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসলে আমি বিষয়টি অবগত করব।
