ছবির ক্যাপশন:
সমীকরণ ডেস্ক: মিয়ানমার থেকে জীবনের ভয়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয় ও সার্বিক নিরাপত্তা দেয়ার জন্য প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। গতকাল গণমাধ্যমে দেয়া এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানান তিনি। বিবৃতিতে খালেদা জিয়া বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে অমনোযোগী বাংলাদেশ সরকারের দুর্বল কূটনৈতিক তত্পরতার কারণেই পরিস্থিতি শোচনীয় রূপ ধারণ করেছে। আমি বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি। মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর সে দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিবর্ষণের ঘটনার নিন্দা জানিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন চিকিত্সার জন্য লন্ডনে অবস্থানরত খালেদা জিয়া। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গারা সমাধানহীন একটি অরাজক পরিস্থিতির মধ্যে নিপতিত থাকলে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ক্রমাগতভাবে অবনতি হতে থাকবে। এতে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে ঐতিহ্যগত স্থিতিশীলতায় বিরূপ প্রভাব পড়বে। সুসম্পর্কের আবহমান ধারা যাতে কোনোভাবেই বিনষ্ট না হয়, সে বিষয়ে মিয়ানমার সরকারকে সতর্ক ও দায়িত্বশীল হয়ে রোহিঙ্গা সংকটের জরুরি অবসান ঘটাতে হবে। শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে যেকোনো সংকট আরো ঘনীভূত হয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি। গত বছর রাখাইনে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর চৌকিতে হামলার পর ফের রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের দিকে ধাবিত হয়। তখন সীমান্ত বন্ধ রাখা হলেও মানবিক কারণে কিছু সংখ্যককে ঢুকতে দেয়া হয়, যে সংখ্যা ৫০ হাজারের বেশি। এবারো একই ঘটনার পর সীমান্তে কড়াকড়ির মধ্যেও অনেক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে ঢুকে পড়েছেন, তাদের মধ্যে আহতরাও রয়েছেন। অনেকে সীমান্তে বসে আছেন বাংলাদেশে ঢোকার আশায়। রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে মিয়ানমার সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, আমি আশা করি, রোহিঙ্গাদের জীবন ও বসবাসের নিরাপত্তা বিধান ও তাদের ওপর রক্তাক্ত সহিংসতার পুনরাবৃত্তি বন্ধ করতে মিয়ানমার সরকার প্রাজ্ঞ ও দূরদর্শী নীতি নিয়ে অগ্রসর হবে।
