জীবননগরে ক্লিনিকের ভেতর নার্সকে গলাকেটে হত্যা

আপলোড তারিখঃ 2024-01-28 ইং
জীবননগরে ক্লিনিকের ভেতর নার্সকে গলাকেটে হত্যা ছবির ক্যাপশন:

সমীকরণ প্রতিবেদন:
চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে একটি বেসরকারি ক্লিনিক থেকে হাফিজা খাতুন (৩৫) নামের এক নার্সের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে জীবননগর হাসপাতাল সংলগ্ন আখ সেন্টারের পাশে অবস্থিত মা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এ ঘটনা ঘটে। নিহত হাফিজা খাতুন উপজেলার বালিহুদা গ্রামের কবির হোসেনের স্ত্রী ও সন্তোষপুর গ্রামের শমসের আলীর মেয়ে। এ ঘটনার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) নাজিম উদ্দিন আল আজাদ, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (দামুড়হুদা সার্কেল) জাকিয়া সুলতানাসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এদিকে, অভিযান চালিয়ে রক্তমাখা ছুরি উদ্ধার ও নিহতের স্বামী কবির হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, গতকাল রাত সাড়ে ৮টার দিকে ক্লিনিকের দ্বিতীয় তলায় অবস্থান করছিলেন নার্স হাফিজা খাতুন। কোনো রোগী না থাকায় তিনি একাই সেখানে অবস্থান করছিলেন। এসময় কেউ তাকে ছুরি দিয়ে গলাকেটে হত্যা করে পালিয়ে যায়। গলাকাটা অবস্থায় ওই নার্স সিড়ি বয়ে নিচে নেমে এসে রিসিপশনের সামনে পড়ে যান। পরে ওই ক্লিনিকে কর্মরত তাঁর এক সহকর্মী হাফিজাকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখে চিৎকার করেন। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে হাফিজাকে উদ্ধার করে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়।
সহকর্মী নার্স বিউটি খাতুন জানান, তিনি শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ক্লিনিকের রিসিপশনের সামনে হাফিজার রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। এসময় তাঁর চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে হাফিজাকে উদ্ধার করে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। তিনি আরও জানান, এদিন সকালেই হাফিজা ও তাঁর স্বামী কবিরের মধ্যে ঝগড়া হয়। ধারণা করা হচ্ছে, হাফিজাকে তাঁর স্বামী গলাকেটে হত্যা করে পালিয়ে গেছেন।
ক্লিনিকের ম্যানেজার কেয়া খাতুন বলেন, ‘আমার ডিউটি সকাল থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত। আমি সন্ধ্যায় ক্লিনিক থেকে বাসায় চলে যায়। রাতে ফোন আসে ক্লিনিকে হাফিজার মরদেহ পাওয়া গেছে। আমি তাৎক্ষণিক হাসপাতালে এসেছি।’

জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. রাগবির হাসান জানান, ‘পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে আমরা তাকে মৃত অবস্থায় পেয়েছি। হাসপাতালে নিয়ে আসার পূর্বেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। তাঁর গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।’

``

চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) নাজিম উদ্দিন আল আজাদ বলেন, ‘আমরা জেনেছি, হাফিজা খাতুন ১০ বছর ধরে এ ক্লিনিকে নার্সের চাকরি করে। মেয়েটার প্রথম পক্ষের স্বামীর সঙ্গে ডিভোর্স হয়ে গেছে। তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। সেই স্বামী মাঝেমধ্যে ক্লিনিকে আসতেন। আমরা এই ক্লিনিকের মালিকের সাথে কথা বলে জানতে পেরেছি, এই ক্লিনিকে রোগী খুব কম থাকে। তাদের কার্যক্রমও খুব সীমিত। বিকেল ৪-৫টার দিকে ক্লিনিকের ম্যানেজারসহ সবাই চলে যান। যদি কোনো রোগী থাকে, সেক্ষেত্রে নার্সরা সেখানে থাকে। এই সুযোগে হয়ত কোনো একটা কারণে কেউ তাকে হত্যা করেছে।’

তিনি আরও জানান, ‘আমরা প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছি। তাঁকে যে ছুরি দিয়ে গলাকাটা হয়েছে, সেই ছুরির কভার দেখেছি ঘটনাস্থলে। সিআইডি ক্রাইম সিনকে খবর দেয়া হয়েছে, তারা ঝিনাইদহ থেকে রওনা করেছে। তারা এসে আলামত সংগ্রহ করবে। প্রাথমিকভাবে আমরা দুজনকে সন্দেহ করেছি, আমাদের হেফাজতে নিহতর স্বামীসহ দু-একজন আছে, জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। আমাদের কাছে অনেক তথ্য চলে এসেছে। যে ছুরি দিয়ে হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে, সে ছুরিটা আমরা অন্য জায়গা থেকে উদ্ধার করেছি। অতি শিগগিরই এ হত্যাকাণ্ডের কারণ ও হত্যাকারীকে খুঁজে বের করতে পারব বলে প্রত্যাশা করছি। তদন্তের স্বার্থে এখনই বিস্তারিত বলতে পারছি না।’

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)