ছবির ক্যাপশন:
আওয়াল হোসেন, দর্শনা:
দীর্ঘ ৫৪ বছর ধরে বাঁশ ও বেতের পণ্য তৈরি করছেন আব্দুস সামাদ (৭০)। শিয়ালমারী হাট বন্ধের দিনও সড়কের পাশে আপন খেয়ালে বুনেন কুলা। শিয়ালমারী হাটের অপর পাশে বসে তৈরি ও বিক্রি করেন আব্দুস সামাদ। এরমধ্যে রয়েছে বৃত্তি, বাড়ুন, ঝুড়ি, কুলা, মুরগির খাচা, ঝাঁপি, ঢাকনা খাঁচা, মাতালীসহ নানা ধরনের পণ্য। হঠাৎ চোখে পড়লে মোটরসাইকেলটি থামিয়ে তার কাছে গিয়ে একে একে প্রশ্ন করতেই বেরিয়ে আসে আব্দুস সামাদের জীবনের নানা ঘটনা।
তার আদি জন্মস্থান সর্ম্পকে জানতে চাইলে আব্দুস সামাদ বলেন, ‘আমাদের বাড়ি ছিল কুষ্টিয়ার চিলমারী গ্রামে। আমার পিতার নাম জয়নদ্দিন শেখ। আমার বাবা ছিল একজন মাঝি। পদ্মা নদীতে দিনে নৌকা চালাতো আর রাতে এ বাঁশ ও বেতের কাজ করতো। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় বাড়ি ঘর ছেড়ে ভারতে চলে যায়। সেখানেও বাঁশের ও বেতের পণ্য তৈরি করে বাজারে বিক্রি করে সংসার চালাইছি। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শেষ হলে আমাদের পরিবারের সবাইকে নিয়ে জীবননগরের তেঁতুলিয়া গ্রামে বসবাস শুরু করি। তারপর গ্রামের বাড়িতে ফিরে যাওয়া হয়নি। জীবননগরের তেঁতুলিয়া গ্রামে এসব পণ্য তৈরি করে হাঁটে হাঁটে বিক্রি করে থাকি। তাই ভাবলাম হাটের দিন বাদে বাড়ি বসে বাঁশ বেতের পণ্য তৈরি করে সময় নষ্ট না করে এখানে বসে বসে এসব পণ্য বুনে যাচ্ছি, আবার বিক্রি করে যাচ্ছি।’
সংসারে কে কে আছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা ৮ ভাই-বোন। এদের মধ্যে ৬টা ভাই ও ২ বোন।’ কতদিন ধরে এ হাটে এসব পণ্য তৈরির পাশাপাশি বিক্রির কাজ করছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, গত ৮ মাস ধরে হাট বাদেও এখানে বসে কাজ করেন। ফলে একদিক যেমন বিক্রি হয় এবং কাজও থেমে থাকে না। তিনি আরও বলেন, কোনো কোনো দিন ৫ শ টাকা আবার কোনো দিন ১ হাজার টাকা হয়। তবে হাটের দিন ১ থেকে দেড় হাজার টাকার পণ্য বিক্রি করি। আবার যদি বাইরে থেকে পাইকারি ক্রেতা আসে, তাহলে ২ থেকে ৩ হাজার টাকার পণ্য বিক্রি করি।
তবে আগের তুলনায় বেত ও তল্লা বাঁশের মূল্যে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে সেই তুলনায় এসব পণ্যর মূল্যে পাওয়া যাচ্ছে না। এদিকে প¬াস্টিক পণ্যের দাপটে বাঁশ ও বেতের পণ্য বিক্রি অনেকটা কমে গেছে। এর মধ্যেও বেশি চাহিদা রয়েছে এসব বাঁশ বেতের পণ্য। তবে বেত দিন দিন প্রকৃতি থেকে হারিয়ে যাচ্ছে।
