বাংলাদেশের আত্মপরিচয় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান

আপলোড তারিখঃ 2017-08-14 ইং
বাংলাদেশের আত্মপরিচয় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছবির ক্যাপশন:
আজ রক্তে ভেজা বেদনা বিধুর ১৫ই আগস্ট। বিবর্ণ সেই দিন আমাদের মাঝে আবার ফিরে এসেছে। কিন্তু আজ তিনি আমাদের মাঝে নেই। যা কোন কিছুতেই পূরণ হবার নয়। তাই আজ রক্তঝরা শোকের দিন, কান্নার দিন। বেদনাবিধুর ও কলঙ্কের কালিমায় কলুষিত বিভীষিকাময় ইতিহাসের এক মর্মাহত দিন। সেই দিন আকাশে শ্রাবণের মেঘ ছিল, ছিল না চাঁদ। শ্রাবণের মেঘে ঘন অন্ধকারে ছেয়ে গিয়েছিল রাজধানী। তাই আজ স্বাধীন বাংলার রূপকার, অহংকার, মুক্তির প্রতীক ও সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪২ তম শাহাদৎ বার্ষিকী। নদীমাতৃক বাংলাদেশের বৃহত্তর ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জ মহকুমার পাটগাতি ইউনিয়নের টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাবা-মা ছোট বেলায় আদর করে ডাকতেন খোকা বলে। শৈশব হতেই তিনি নিপিড়ীত-নির্যাতিত মানুষের কথা বলতে গিয়ে বারবার জেল জুলুমের স্বীকার হয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর রাজনীতি কখনো গোপন পথে বিচরণ করেনি। তার রাজনীতি ছিল মুক্ত। তার দাবি ছিল স্পষ্ট। ছাত্র জীবনের শুরু থেকেই তিনি রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৫৬ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৬৬ এর ৬ দফা আন্দোলন এবং ছাত্রলীগের ১১ দফা, সকল ক্ষেত্রেই বঙ্গবন্ধুর ভূমিকা ছিলো অগ্রগণ্য। ৬ দফা এবং ১১ দফার উপর ভিত্তি করেই ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা সংগ্রামের সূচনা হয়। এর মাঝে তাকে বহুবার কারা বরন করতে হয়। বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের জ্বালাময়ী ভাষণ ছিল সমগ্র বাঙালি জাতির স্বাধীনতার নির্দেশনা। পৃথিবীতে মাঝে মাঝে এমন এক একজন ব্যক্তিত্বের জন্ম হয় যাদের দূরদর্শিতা, সাংগঠনিক ক্ষমতা ও অসাধারণ ব্যক্তিত্ব ইতিহাসের চলমান ধারাকে পরিবর্তন করে দেয়। এমন ব্যক্তিত্বের মধ্যে বঙ্গবন্ধু ছিলেন একজন। যার বুকের ভিতরে লুকিয়ে ছিল সাড়ে ৭ কোটি বাঙালির প্রাণ। একজন আদর্শ নেতার যে সব গুণাবলী থাকা প্রয়োজন, তার সমস্ত গুণ নিয়েই জন্মেছিলেন ইতিহাসের প্রাণপুরুষ বাংলাদেশের আত্মপরিচয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। কেবল মাত্র দেশ জুড়েই নয়; তিনি ছিলেন সমগ্র অসহায়, নির্যাতিত ও অধিকার বঞ্চিত মানুষের অভিভাবক। যার রাজনৈতিক জীবন ছিল বহুবর্ণিল, যার কন্ঠে ছিল যাদু। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের গতিশীল, সাহসিক ও ঐন্দ্রজালিক নেতৃত্বে এ ভূ-খন্ডের মানুষ হাজার বছরের পরাধিনতার শৃঙ্খল ভেঙ্গে ছিনিয়ে এনেছিল স্বাধীনতার রক্তিম সূর্য। কীর্তিমান মানুষের মৃত্যু নেই। কবি বলেছেন ‘‘সেই ধন্য নরকূলে, লোকে যারে নাহি ভোলে।’’ তাই বঙ্গবন্ধুর মৃত্যু দিবস বা জন্ম দিবসের সীমানা অসীম। জীবন মরণের সীমানা যারা অতিক্রম করে যেতে পেরেছে তারা মহামানব। বঙ্গবন্ধু ছিলেন বাংলা, বাংলাদেশ এবং বাঙালি জাতীয়তাবাদের আত্মপরিচয়। একটি গাছের শিকড় যেমন গাছকে আটকে রাখে পৃথিবীর বুকে, ঠিক তেমনি বঙ্গবন্ধুর আদর্শ, স্বপ্ন ও চেতনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে টিকে থাকবে বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধু। অর্থাৎ যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, ততদিন বঙ্গবন্ধুর নাম অম্লান থাকবে। কবির ভাষায় ‘‘তুমি চলে গেছ, জেগে আছে তোমার নাম জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।’’ টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া, রূপসা থেকে পাটুরিয়া পর্যন্তই নয়, তিনি ছিলেন সমগ্র জাতির মুক্তি দূতস্বরূপ। জাতির পিতার সহধর্মীনি, পুত্রদ্বয়, পুত্রবধূদ্বয় এমনকি নিষ্পাপ শিশু শেখ রাসেলও রেহাই পাইনি ঘাতকের হাত থেকে। যাকে ছাড়া বাংলার স্বাধীনতা ছিল অসম্ভব। শত দুঃখ-কষ্ট ভোগ করেও তিনি বিশ্বাস এবং সংগ্রাম থেকে বিচ্যুত হননি। পশ্চিম পাকিস্তানের লালপুরের নির্জন কারাগারে বসেও বঙ্গবন্ধু দেশ ও জাতির কথা ভেবেছেন। দেশদ্রোহীতার মিথ্যা অভিযোগ, ফাঁসির আদেশ ও কারাকক্ষের পাশে বঙ্গবন্ধুর কবর খনন করেও বঙ্গবন্ধুকে একবিন্দু টলাতে পারেনি। ছাড় দেয়া কিংবা নিজের সুবিধা নেওয়ার মত কোন প্রস্তাবে তিনি রাজি হননি। আর সেই কারণেই তার নাম স্বাধীনতা সংগ্রামের সঙ্গে এক এবং একাকার হয়ে গেছে। যার চিন্তা-চেতনা, আশা-আকাঙ্খা এবং সুখ-দুঃখ সব কিছুই ছিল বাংলার মাটি ও মানুষকে ঘিরে। একেক জাতির ইতিহাসে একেক নেতার নাম ছড়িয়ে আছে। যেমন বিদেশী দেশ সমূহের মধ্যে নেলসন ম্যান্ডেলা, মাওসেতুং, হো চি মিন, ফিদেল ক্যাস্ট্রো, ঠিক তেমনি বাংলাদেশের সাথে মিশে আছেন ইতিহাসের মুক্তির প্রতীক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বঙ্গবন্ধু জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বাংলায় ভাষণ দিয়ে মাতৃভাষাকে এক মহান স্তরে উন্নিত করেছিলেন। বঙ্গবন্ধু দেখিয়েছিলেন কর্মের মাধ্যমে নেতৃত্ব প্রকাশিত হয়, প্রচারের মাধ্যমে নয় একটি রাষ্ট্র, একটি মানচিত্র, একটি পাতাকা ও একটি সংবিধান বাঙালি জাতিকে উপহার দেওয়ার পরও ক্ষমাপ্রাপ্ত কোলাবরেটর আর বিশ্বাসঘাতকদের হাতে নির্মম ভাবে মৃত্যু হয় এ মহান নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের যা বড়ই হৃদয়বিদারক, মর্মান্তিক ও করুন। ফলে বাঙালি হারালো জাতির মহানায়ককে। বাংলার অবিসংবাদিত নেতার প্রতি যে নিষ্ঠুর অবিচার করা হলো সেই ক্ষতি আমরা কি দিয়ে পরিশোধ করব? আমরা ভাগ্যবান জাতি যে, বঙ্গবন্ধুর মতো একজন নেতা পেয়েছি। কিন্তু দূর্ভাগ্যজনকভাবে সেই নেতাকে হত্যার মধ্য দিয়ে তার সুযোগ্য নেতৃত্ব থেকে নিজেরাই নিজেদের বঞ্চিত করেছি। যাদের তৈরি করা হয়েছিল দেশ রক্ষার জন্য তাদের হাতেই নিভে গেল সম্ভাবনার প্রাণ প্রদীপ। জাতির পিতাকে হত্যা করার পরেও ঘাতকদের অপকির্তী শেষ হয়নি। জবাবদিহিতা থেকে বেঁচে গিয়ে সুযোগকে আবারও কাজে লাগায় অপরাধীরা। আরেকটি হত্যা কান্ড ঘটাতে একটুও দ্বিধান্বিত হয়নি তারা। যেটা ঘটেছিল ১৯৭৫ সনের ৩রা নভেম্বর। আজ বাংলার মানুষ সারা বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে শিখেছে। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে। এতকিছূ পাওয়া সত্বেও বঙ্গবন্ধু না থাকার বেদনা বাঙালির হৃদয়ে সিক্ত হয়ে রয়েছে। বঙ্গবন্ধু একজন ব্যক্তির নাম মাত্র নয়। তার ব্যক্তিত্ব সমস্ত জাতির একটা আলোক স্তম্ভ। যে আলো পথ দেখাবে শোষণহীন, দুর্নীতিমুক্ত, নৈরাজ্যমুক্ত ও সন্ত্রাসমুক্ত জাতি প্রতিষ্ঠা করার। সর্বক্ষণ স্বদেশের স্বাধীনতার জন্য নিয়োজিত ছিলেন বলেই তিনি হতে পেরেছিলেন বাঙালি জাতির পিতা। হতে পেরেছিলেন মানব প্রেমী। স্বাধীনতার প্রধান রূপকার। ঘাতকচক্র বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করলেও তার স্বপ্ন ও আদর্শের মৃত্যু ঘটাতে পারেনি। আজ ১৬ কোটি বাঙালির অন্তরে লালিত হচ্ছে তার ত্যাগ ও তিতিক্ষার সংগ্রামী জীবনাদর্শ। এটাই আমাদের সকল শক্তির উৎস। যতদিন আকাশ-বাতাস, চন্দ্র-সূর্য, নদী-নালা, খাল-বিল, পত্র-পল্লব ও পাখির কলরব থাকবে ততদিন বঙ্গবন্ধুও থাকবেন। মৃত্যুর গর্ভ থেকে তোমার জন্ম। দানবের অস্ত্রাঘাতে তোমার জন্ম। তুমি এক মুজিব নও। শত মুজিব, সহস্র মুজিব, লক্ষ মুজিব ও কোটি মুজিব। তুমি শুধু নেতা নও মুক্তি দাতা পিতা ও বন্ধু। বাঙালির মেজাজ, আবেগ, লড়াকুমন, প্রতিবাদ, প্রতিদান, মানবিকতা, নমনীয়তা ও সাহস সকল বৈশিষ্টেরই প্রতিচ্ছবি তিনি। তিনি কেবল স্বাধীনতা যুদ্ধের নেতাই ছিলেন না, মানুষের হৃদয়ের মনি কোঠায় আসন করেছিলেন দীর্ঘদিনের সংগ্রামের মধ্য দিয়ে। বঙ্গবন্ধুর হত্যা কান্ডে বাংলাদেশই শুধু এতিম হয়নি। বিশ্ববাসী হারিয়েছে একজন মহান সন্তানকে। বিশ্ববাসী তখন বাংলাদেশকে জেনেছিল মুজিবের দেশ হিসেবে। এখনও তিনি যে আমাদের ভরসার প্রতীক। তাই মনে রাখতে হবে, আমাদের সুকর্মের মধ্যেই তিনি চিরদিন বেঁচে থাকবেন। তিনি যে আমাদের সচল অস্তিত্বের সমান। আমাদের জীবনেরই অংশ। বঙ্গবন্ধু ফিরে আসেন প্রতিটি উৎসব, আনন্দ ও বেদনায়। তিনি যে মৃত্যুঞ্জয়ী। মুজিব মানেই আদর্শের জয়। মুজিব মানে স্বপ্ন। মুজিব মানে শ্রেষ্ঠত্ব। মুজিব মানে অর্জন। মুজিব মানে মুক্তির লাল টকটকে সূর্য। মুজিব মানে সবুজের বুকে লাল সূর্য পতাকা। মুজিব মানে বাংলাদেশ। তাই বলতে পারি বাংলাদেশের আত্মপরিচয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। প্রতি বছর ১৫ই আগস্টের দিন মনে হয়, বঙ্গবন্ধু তুমি নেই কিন্তু ছড়িয়ে আছ সারা দেশ জুড়ে। তোমার মৃত্যু নেই। আর সে কারণেই নিরন্তর মনে হয় তিনিই বাংলাদেশ। মো. রিপন আলি

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)