ছবির ক্যাপশন:
নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গা ও আলমডাঙ্গায় অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে আটক করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যরা। এসময় তাদের নিকট থেকে গাঁজা, ভারতীয় বুপ্রেনরফাইন ইনজেকশন ও ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল রোববার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত মাদক বিরোধী অভিযান চালিয়ে তাদেরকে আটক করা হয়। আটককৃতদের মধ্যে চারজনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদানসহ জরিমানা করা হয় এবং একজন পালিয়ে গেলেও তার বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে।
সাজাপ্রাপ্তরা হলেন- চুয়াডাঙ্গা শহরতলীর দক্ষিণপাড়ার মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে মণ্টু খান (৪২), সদর উপজেলার হাতিকাটা রাস্তাপাড়ার হেকমত আলীর ছেলে সুরুজ আলী (৩৯), আলমডাঙ্গা উপজেলার গোবিন্দপুর মাঠপাড়ার মহি সর্দারের দুই ছেলে রিয়াজ (১৮) ও শাকিল (২৫)। এছাড়াও আলমডাঙ্গার এরশাদপুর বাগানপাড়ার মৃত জামিরুল ইসলামের ছেলে রকি (৩৪) পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করা হয়েছে।
এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শামীম ভূঁইয়ার নেতৃত্বে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. শরিয়তউল্লাহ, পরিদর্শক ভূপতি কুমার বর্মন, উপ-পরিদর্শক আকবর হোসেন ও সাহারা ইয়াসমিন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে গতকাল সকাল ৯টার দিকে অভিযান চালিয়ে ঝণ্টু খানের বাড়ির সামনে থেকে ৫০ গ্রাম গাঁজাসহ তাকে আটক করে। সাড়ে ৯টার দিকে সুরুজ আলীর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ২ অ্যাম্পুল ভারতীয় নেশাজাতীয় নিষিদ্ধ বুপ্রেনরফাইন ইনজেকশনসহ তাকে আটক করা হয়। পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শামীম ভূঁইয়া ভ্রাম্যমাণ আদালতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ঝণ্টু খানকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ টাকা এবং সুরুজ আলীকে ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ টাকা জরিমানা করেন।
এদিকে, বিকেল পাঁচটার দিকে আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রনি আলম নূরের নেতৃত্বে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একই দল রিয়াজের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ৫ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ তাকে আটক করে। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শাকিলের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে আরও ৪ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধারসহ তাকে আটক করে। পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রনি আলম নূর ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দুজনকেই ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও উভয়কে ১ শ টাকা করে জরিমানা করেন। সাজাপ্রাপ্তদের গতকালই জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
অপর দিকে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. শরিয়তউল্লাহের নেতৃত্বে পরিদর্শক ভূপতি কুমার বর্মন, উপ-পরিদর্শক আকবর হোসেন ও সাহারা ইয়াসমিন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে গতকাল বিকেল চারটার দিকে রকির বাড়িতে অভিযান চালায়। এসময় রকি কৌশলে পালিয়ে গেলেও তার ঘর থেকে ২০ অ্যাম্পুল ভারতীয় নেশাজাতীয় নিষিদ্ধ বুপ্রেনরফাইন ইনজেকশন উদ্ধার করা হয়। পলাতক রকিকে আসামি করে আলমডাঙ্গা থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।
